গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী

প্রাধান্য মাতারবাড়ি ঘরে নিরাপত্তা ইস্যু

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

বার দেখা হয়েছে

মহেশখালীর মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প, এলএনজি টার্মিনাল, সড়ক ও জনপথের প্রকল্পসহ আরো কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। কিন্তু এসব প্রকল্পের নিরাপত্তা ইস্যু কি হবে ? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে মাতারবাড়ি পৌছার পর বিকাল ৫টা পর্যন্ত মাতারবাড়ি এলাকায় ১২ সদস্যের টিম নিয়ে পরিদর্শণ করেন। তবে নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী মাতারবাড়ি যাওয়ার কথা থাকলেও উনার শ্বশুরের মৃত্যুর কারণে তিনি যেতে পারেননি।

দিনভর তিনি কি দেখলেন এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে সেখানে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিনিধিদের নিয়ে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প ঘুরে দেখেন। পরবর্তীতে কয়লা বিদ্যুতের সাইট অফিসে মাতারবাড়ি এলাকায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন প্রত্যক্ষ করেন। এসময় মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক মীর জাহিদ হাসান। তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন। এছাড়া কয়লা বিদ্যুতের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, এস, পি,এম প্রকল্প বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন ইস্টার্ন রিফাইনারির শরীফ হাসান এবং সড়ক ও জনপথের ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ফজলে রাব্বি। এসব প্রকল্পের পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনের সময়ও মন্ত্রী এবং উপস্থিত নেতৃবৃন্দ নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। এছাড়া উন্মুক্ত আলোচনার পর প্রতিনিধিদলের সাথে বিভিন্ন সংস্থা প্রধানগন একান্তে বৈঠকও করেন বলে জানা গেছে।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে পরিদর্শনে গিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর সহকারী নৌ প্রধান, ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক, এনএসআইয়ের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহানসহ বন্দর কর্তৃপক্ষের উর্ধতন কর্মকর্তাগন, বি পি সি এর চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং সড়ক ও জনপথের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর ছাড়াও কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। এই কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্যই বঙ্গোপসাগর ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে ১৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল খনন করা হয়েছে। এই চ্যানেলের সুযোগ নিয়েই এখানে গড়ে তোলা হচ্ছে গভীর সমুদ্র বন্দর। ১৬ মিটার ড্রাফট (গভীরতা) এবং ২৫০ মিটার চওড়া চ্যানেল নির্মাণ হয় বিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায়। ইতিমধ্যে ১৪ মিটার ড্রাফট করাও হয়েছে আগামীতে ‘মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প’ এর আওতায় ড্রাফট ১৬ মিটারে উন্নীত করা হবে। একইসাথে চ্যানেলের চওড়া আরো ১০০ মিটার বাড়ানো হবে। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্মিত এই প্রকল্পের বাজেট ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি ১৬ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে জাইকার ঋণ ১২ হাজার ৮৯২ কোটি ৭৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (নিজস্ব তহবিল) ২ হাজার ২১৩ কোটি ২৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং বাংলাদেশ সরকারের ২ হাজার ৬৭১ কোটি ১৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। দেশে দিন দিন আমদানী রপ্তানি বাণিজ্য বাড়ছে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের ৯২ শতাংশ পণ্য আমদানী-রপ্তানি হয়ে থাকে। কিন্তু এখানে ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যরে বড় জাহাজ ভিড়তে পারে না। এই বন্দরের সর্বোচ্চ গভীরতা ৯ দশমিক ৫ মিটার। তাই বড় দৈর্ঘ্য ও বেশি ড্রাফটের জাহাজ ভেড়াতে মাতারবাড়ির বিকল্প নেই। মাতারবাড়ি চালু হলে এর সাথে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দরের সাথে নেটওয়ার্ক আরো বাড়বে। কারণ বড় জাহাজগুলো মাতারবাড়িতে পণ্য নিয়ে আসবে। সেখান থেকে ছোটো জাহাজে করে দেশের অন্যান্য বন্দরগুলোতে পণ্য পরিবহন অনেক সহজ হবে। ফলে গভীর সমুদ্র বন্দরের অভাব পূরণ করবে মাতারবাড়ি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।