Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

25 September, 2022

Views

চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার পণ্য উঠানামার কাজে অবশেষে বর্তমান ৬ বার্থ অপারেটররাই নিয়োগ পেলেন। গত ১৫ বছর ধরে এই বার্থ অপারেটররাই নান কৌশলে কাজ বাগিয়ে নিয়ে আসছেন। প্রতিবার চট্টগ্রাম বন্দর দরপত্র ডাকে ঠিকই কিন্তু বর্তমানে কর্মরতরাই রহস্যজনকভাবে নির্বাচিত হয়ে কাজ পাচ্ছেন। প্রতিযোগিতা না থাকায় কমদামে কাজ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বন্দর। আর নতুন কারো এই কাজে আসার সুযোগ বঞ্চিত হচ্ছে। এতে বন্দরের কাজে প্রতিযোগিতা যেমন নেই; তেমনি কাজের ক্ষেত্রে দক্ষতা-নতুনত্বও থাকছে না।
সর্বশেষ গতকাল বুধবার ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির’ বৈঠকে ৬ বার্থ অপারেটরদের চুড়ান্ত নিয়োগ দেয়া হলে বার্থ অপারেটর সিন্ডিকেটের ষোলকলা পূর্ণ হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জিসিবি লট নং-১ এ হ্যান্ডলিং অব্যাহত রাখতে কন্টেইনার বার্থ অপারেটর সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স এফ কিউ খাঁন অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেডকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে খরচ হবে ৭৬ কোটি ৯৫ লাখ ২৮ হাজার ৯৯০ টাকা।

জিসিবি এলাকায় লট নং-২ (বার্থ নং-৯)-এ কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য কন্টেইনার বার্থ অপারেটর নিয়োগের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ফজলী সন্স লিমিটেডকে নিয়োগের প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৭৬ কোটি ৯০ লাখ ৯৯ হাজার ৮৮৫ টাকা।

লট নং-৩ (বার্থ নং-১০)-এ কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স বশির আহমেদ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডকে নিয়োগ প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এতে ব্যয় হবে ৭৭ কোটি ৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৫ টাকা।

লট নং-৪ (বার্থ নং-১১)-এ কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স এ অ্যান্ড জে ট্রেডার্সকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৭৭ কোটি ৮৮ হাজার ২৩০ টাকা।

লট নং-৫ (বার্থ নং-১২) এ কর্গো হ্যান্ডেলিংয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডকে নিয়োগ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এজন্য ব্যয় হবে ৭৭ কোটি ৬ লাখ ৩ হাজার ৯১০ টাকা।

লট নং-৬ (বার্থ নং-১৩) এ কর্গো হ্যান্ডেলিংয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান এম এইচ চৌধুরী লিমিটেডকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এজন্য ব্যয় হবে ৭৭ কোটি ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩৫ টাকা।

উল্লেখ্য, বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থের (জিসিবি) ছয়টি টার্মিনালে কন্টেনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ছয়টি বার্থ অপারেটর নিয়োগের জন্য টেন্ডার আহবান করা হয় ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর। গত ৮ ফেব্রুয়ারি টেন্ডার জমা দেয়ার শেষ দিন এবং টেন্ডার বাক্স খোলার দিন নির্ধারিত ছিল। ‘সিঙ্গেল স্টেজ টু এ্যানভেলপ’ পদ্ধতিতে আহূত উক্ত টেন্ডারে ছয় লটে ১৪টি দরপত্র জমা দেয়া হয়। বর্তমানে উক্ত ছয়টি টার্মিনালে যেই ছয়টি বার্থ অপারেটর প্রতিষ্ঠান এবং একটিমাত্র টার্মিনাল অপারেটর দুটি করে লটে টেন্ডার জমা দিয়েছিল। এতে ১ও ৫ নম্বর লট ছাড়া অপর ৪টি লটে বর্তমান অপারেটররাই দুটি করে দরপত্র জমা করেছিলেন। টেন্ডারে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল-৬ নম্বর বার্থে এফ কিউ খান এন্ড ব্রাদার্স, ফজলী এন্ড সন্স ও সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। ৯ নম্বর বার্থে এফ কিউ খান এন্ড ব্রাদার্স ও ফজলী সন্স। ১০ নম্বর বার্থে বশির আহমেদ এন্ড কোম্পানি এবং মেসার্স এ এন্ড জে ট্রেডার্স। ১১ নম্বর বার্থে বশির আহমেদ এন্ড কোম্পানি ও মেসার্স এ অ্যান্ড জে ট্রেডার্স। ১২ নম্বর বার্থে এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস, এমএইচ চৌধুরী ও সাইফ পাওয়ারটেক। ১৩ নম্বর বার্থে এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস ও এম এইচ চৌধুরী টেন্ডার দাখিল করেছিল।
এরমধ্যে এভারেস্ট এন্টারপ্রাইজের দরপত্র ছাড়া বাকি ৫টি প্রতিষ্ঠানকে চুড়ান্ত করে ৫ বছরের জন্য অপারেটর হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শেষ দিকে এসে অনিয়মের অভিযোগে নৌ মন্ত্রনালয় পুরো প্রক্রিয়াটাই বাতিল করে দেয়। এখন নতুন দরপত্রে আগের সেই বার্থ অপারেটরই চুড়ান্তভাবে নিয়োগ পেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.