‌’কন্টেইনার রাউন্ড ইউজ ব্যবস্থা চালু’ ইপিজেডে

0
563

বিশেষ প্রতিনিধি,
পণ্য পরিবহনে সময় সাশ্রয় ও খরচ কমাতে নতুন এক পদ্ধতি চালু হয়েছে দেশের সাতটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরন এলাকায় (ইপিজেডে)। এরফলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি পণ্যভর্তি একটি কন্টেইনার ইপিজেডে প্রবেশ করে পণ্য নামিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় রপ্তানি পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে যেতে পারবে। সেই কন্টেইনার জাহাজে তুলে বিদেশে রপ্তানিকারকের গন্তব্যে নেয়া যাবে।  আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার ইপিজেড কারখানায় নামানোর পর ফিরতি পথে কন্টেইনারটি খালি যেতে হতো; রপ্তানি পণ্য বোঝাইযের সুযোগ ছিল না। নতুন এই পদ্ধতিকে ‘কন্টেইনার রাউন্ড ইউজ ব্যবস্থা’ বলা হচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গত ১৪ অক্টোবর এক আদেশে নতুন এই পদ্ধতি চালু করেছে। দেশের নয়টি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) থেকে আমদানি-রপ্তানির কাজে ব্যবহৃত কন্টেইনার পরিবহন কার্যক্রম আরও সহজ করতেই মুলত এই উদ্যোগ রাজস্ব বোর্ডের। নতুন এই উদ্যোগের ব্যাপক প্রশংসা করেছে বন্দর ব্যবহারকারীরা।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জহির বলেন, ইপিজেডগুলোতে কন্টেইনারের রাউন্ড ট্রিপ সুবিধাটি এখন আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্টদের কাছে নতুন। তবে এই সুবিধা ব্যবহার করতে থাকলে সবার কাছে সহজবোধ্য ও সুবিধাজনক হবে। রাজস্ব বোর্ড এই সুবিধা দেওয়ার ফলে পরিবহন খরচ কমবে, সময় বাঁচবে এবং পরিবেশ অর্থাৎ রাস্তায় এই কন্টেইনার দুইবার যাতায়াত কমবে। তবে এই সুবিধা পুরোপুরি কাজে আসবে যদি আমদানি ও রপ্তানির শিপিং এজেন্ট একই হয়। আর কন্টেইনারের পরিমাণও সমান হয়। অর্থাৎ আমদানি কন্টেইনার এক টিইইউস হলে রপ্তানিও এক টিইইউস পরিমাণ হতে হবে। তবেই এর সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগবে।

কনটেইনার ব্যবস্থাপনা সহজ করতেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বন্ড সুবিধার আওতায় কাঁচামাল বহনকারী কন্টেইনারের ক্ষেত্রে এমন নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ইপিজেডের প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ড সুবিধার আওতায় সাধারণত কন্টেইনারে করে কাঁচামাল আমদানি করে থাকে। শিপিং এজেন্টরা ইপিজেডে পণ্য খালাসের পর ওই খালি কন্টেইনারগুলো তাদের ইয়ার্ডে নিয়ে রাখে। পরে ওই কারখানা কিংবা অন্য কারখানার রপ্তানি পণ্য নেওয়ার জন্য খালি কনটেইনারগুলোকে আবার ইপিজেডে নিয়ে যেতে হয়। এতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ লাগতো। এসব ব্যয় কমাতে ইপিজেডে খালি কন্টেইনারে রপ্তানি পণ্য বোঝাই করা যাবে।

বেপজার জেনারেল ম্যানেজার (পাবলিক রিলেশন) নাজমা বিনতে আলমগীর বণিক বার্তাকে বলেন, যে কনটেইনারগুলো আসত, সেগুলো খালি ফেরত যেত। চলে যাওয়া এ কনটেইনারগুলোই আবার ফিরিয়ে এনে রফতানি পণ্য যেত। এ পদ্ধতিতে অনেক টাকা-পয়সা নষ্ট হতো এবং প্রক্রিয়াগুলো ব্যয়বহুল হয়ে যেত। এ প্রেক্ষাপটেই আবেদন করে বলা হয়েছিল, যে কাভার্ড ভ্যানগুলো আসবে সেগুলোর মধ্যে অপেক্ষমাণগুলোকে ওই সময়েই বরাদ্দ দেয়া হবে, তাহলে ফিরে গিয়ে আবার আসার প্রক্রিয়ায় যেতে হবে না। এতে লিড টাইম কমে আসবে, খরচও কম হবে, স্বল্প খরচে পণ্য চলে যেতে পারবে। এভাবে সময়ও কম লাগবে, টাকাও কম খরচ হবে।

নতুন আদেশ অনুসরন করতে এনবিআর একটি স্ট্যান্ডার্ড অব প্রসিডিউর জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, ইপিজেডের যেসব কোম্পানি এফসিএল বা এলসিএল কনটেইনারে পণ্য রপ্তানি করবে, সেগুলোকে শিপিং এজেন্টের কাছে অনলাইনে অর্ডার নিতে হবে। রপ্তানিকারকদের প্রতিটি রপ্তানি আদেশ সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের থেকে অনুমোদন করে রাখতে হবে। সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বা পদমর্যাদায় তার চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিপিং অর্ডারসহ অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করবেন। ওই কনটেইনারে জিপিএস ট্রাকিং সিস্টেম ও ইলেকট্রনিক সিল লাগানো হবে। তবে এ ট্রাকিং সিস্টেম চালু না হওয়া পর্যন্ত প্রচলিত বুলেট সিলই ব্যবহার করা হবে।

রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্তকে একটি যুগোপুযোগী সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে বাংলাদশে ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স এসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, অনেক সময় বন্দরে এবং বিশেষ করে অফডকগুলোতে খালি কন্টেইনার পড়ে থাকে। এই খালি কন্টেইনার দুইবার যাতায়াতে পরিবহন খরচ যেমন বাঁচবে, তেমনি সময়েরও সাশ্রয় হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here