৮ মার্চ থেকে জরিমানা আরোপ কন্টেইনার জট কমাতে জরিমানার হুমকিতে সুফল নেই

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

18 October, 2021 0 Views

0

বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দরের ভিতর পণ্যভর্তি কন্টেইনার জট কমাতে জরিমানার হুমকিতে খুব একটা সুফল মিলেনি। পণ্যভর্তি এফসিএল কন্টেইনার না সরালে ১ মার্চ থেকে জরিমানার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল কিন্তু ৫ দিনে তাতে খুব একটা সাড়া মিলেনি আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে। এই অবস্থায় বন্দর ব্যবহারকারীদের সাথে বৈঠক করে নতুন করে ৭ মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়িয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরপর ৮ মার্চ থেকে জরিমানা আরোপের ঘোষনা দেয়া হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, ৩ মার্চ বন্দর ব্যবহারকারীদের সাথে বৈঠক থাকায় আমরা এক সপ্তাহ সময় বাড়িয়েছিলাম। সেখানে সবার বক্তব্য শুনেছি; কিন্তু সামনে রমজান এবং বাজেট আসছে। সুতরাং বন্দর সচল রাখা আমাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ বিষয়টি তাদের জানিয়েছি। এরইমধ্যে এফসিএল কন্টেইনার না নিলে আগামী ৮ মার্চ থেকে জরিমানা আরোপ করা হবে।

বন্দরের হিসাবে, চট্টগ্রাম বন্দরের সবগুলো ইয়ার্ড মিলে ৪৯ হাজার একক কন্টেইনার রাখার সক্ষমতা রয়েছে। গত ৫ মার্চ পর্যন্ত ইয়ার্ডে কন্টেইনার ছিল ৩৭ হাজার একক। মুলত জাহাজ থেকে যে পরিমান কন্টেইনার নামছে, সেই গতিতে বন্দর থেকে ছাড় না নেয়ায় কন্টেইনার জট লেগেছে। বন্দর এই মুহুর্তে কমার্শিয়াল এবং ভোগ্যপণ্যের প্রচুর পণ্য, একইসাথে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনারে বিভিন্ন ধরনের ফল জমে আছে। এজন্য এফসিএল কন্টেইনার সরাতে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নোটিশ দিয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ ; অবস্থার উন্নতি না হলে ১ মার্চ থেকে নির্ধারিত মাশুলের ওপর বাড়তি জরিমানা আদায়ের ঘোষণা ছিল। এরপরও পণ্য ডেলিভারিতে খুব একটা উন্নতি হয়নি।

বন্দরের পরিবহন বিভাগের হিসাবে, ১ মার্চ বন্দর থেকে মোট ডেলিভারি হয়েছে ৩ হাজার ১৬২ একক কন্টেইনার; ২ মাচ ডেলিভারি হয়েছে ৪ হাজার ৬৭৯ একক কন্টেইনার; ৩ মার্চ ডেলিভারি হয়েছে ৪ হাজার ৪৮৩ একক; ৪ মার্চ ডেলিভারি হয়েছে ৪ হাজার ৭৬৫ একক; সর্বশেষ ৫ মার্চ ডেলিভারি হয়েছে ৪ হাজার ৪৮৩ একক কন্টেইনার। স্বাভাবিক সময়ে বন্দর থেকে ৪ হাজার একক ডেলিভারি হয়। ফলে বাড়তি খুব একটা পণ্য ডেলিভারি হয়নি। বন্দর থেকে কন্টেইনার ডেলিভারি নেয়ার হার ভালো থাকে সপ্তাহের সোমবার থেকে বৃহষ্পতিবার। শুক্রবার, শনিবার, রবিবার কন্টেইনার ছাড়ের হার একেবারেই কম থাকে। ফলে গত দুদিনে খুব একটা ডেলিভারি হবে না।

এই পরিস্থিতিতে ডেলিভারি দ্রুত করতে গত ৩ মার্চ বিকালে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহানের সভাপতিত্বে বন্দর ব্যবহারকারীরা বৈঠক করেন। সেখানে ডেলিভারি না নেয়ার জন্য একে অপরকে দোষারুপ করেন। ফলে আলোচনা করলেও সঠিক সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। এই অবস্থায় ডেলিভারি পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বন্দরে জাহাজ জট দেখা দিবে। এর মাশুল শেষ পর্যন্ত গুনতে হবে ভোক্তাদেরকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *