৫ মাসে দস্যুতা শুন্য চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমা

0
942

বিশেষ প্রতিনিধি
চলতি ২০২১ সালের জানুয়ারি-মে পর্যন্ত ৫ মাসে বিশ্বজুড়ে ২৬টি দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে; সৌভাগ্যক্রমে চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় কোন চুরি, ডাকাতি, দস্যুতার ঘটনা রেকর্ড হয়নি। পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে দুটি, ইন্দোনেশিয়ায় ৫টি, ফিলিপাইনসে ৩টি এবং সিঙ্গাপুর প্রনালীতে ১৫টি দস্যুতার ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশ জলসীমায় আসা দেশি-বিদেশি জাহাজে কোন দস্যুতার ঘটনা রেকর্ড করতে পারেনি দস্যুতা প্রতিরোধে কর্মরত আর্ন্তজাতিক সংগঠন রিক্যাপ। গত সপ্তাহে তারা এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনমতে, বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে এই ৫ মাসে দস্যুতার ঘটনা ৪৫ শতাংশ কমেছে। সবচে বেশি অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশে। এখানে দস্যুতার ঘটনা একেবারেই শুন্য।
রিক্যাপ প্রতিবেদনে, বিগত ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালের পাঁচমাসে দস্যুতা প্রতিরোধে বড় অগগ্রতি হয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি-এপ্রিল প্রথম চারমাসে দুটি দস্যুতার ঘটনা রেকর্ড করেছিল রিক্যাপ। এবার একই সময়ে দস্যুতার ঘটনা শুন্য। ফলে এটি একটি বড় অর্জন।
বন্দর ব্যবহারকারী বলছেন, এই অর্জন অবশ্যই গৌরবের কিন্তু এতে আত্নতৃপ্তিতে না ভুগে অর্জন ধরে রাখতে হবে;একটু ছাড় দিলেই অর্জন ম্লান হতে পারে।
সাইফ মেরিটাইম লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার আবদুল্লাহ জহির শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, বন্দর জলসীমা পাঁচ মাসে দস্যুতামুক্ত রাখা অবশ্যই গৌরবের। এটা ধরে রাখতে হবে বন্দরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে।
তিনি বলছেন, একটি ছোট্ট ঘটনা ঘটলেই চারিদিকে হৈ চৈ পড়ে যায়। ক্ষতির মুখে পড়েন জাহাজ মালিক, কন্টেইনার লাইনগুলো। ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে চট্টগ্রাম বন্দর। আমরা এর পুনরাবৃত্তি চাই না।
রিক্যাপ প্রতিবেদনমতে, ২০২০ সালের জানুয়ারি-মে পাঁচ মাসের তুলনায় ২০২১ সালের জানুয়ারি-এপ্রিলে ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনস, দক্ষিন চীন সাগরে দস্যুতার ঘটনা ৪৫ শতাংশ কমেছে। ২০২০ সালের পাঁচমাসে ৫০টি দস্যুতার ঘটনার রেকর্ড করলেও ২০২১ সালের পাঁচমাসে সেই সংখ্যা নেমেছে ২৬টিতে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম. শাহজাহান শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, আমরা খুশি কিন্তু এমন নয় যে তদারকিতে এক চুল ছাড় দিচ্ছি না। যেহেতু বন্দর জলসীমা বেড়েছে তাই আমাদের বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে। আশা করছি সম্মিলিতভাবে এই সফলতা ধরে রাখতে পারবো।
তিনি বলেন, গত জানুয়ারিতে আমি চট্টগ্রাম বন্দরে যোগ দেয়ার পর বন্দরে পাইরেসি রিপোর্ট দেখে একটি সমন্বিত বৈঠক ডাকি। সেখানে কোস্টগার্ড যেহেতু মুল কাজটি করে তাই তাদের সাথে পৃথকভাবে বৈঠক করে পরিকল্পনা করি এবং বাস্তবায়নে জোর দিই। এরপর থেকেই মুলত সফলতা আসতে শুরু করে।
তিনি বলছেন, এখনকার রিপোর্ট দেখে আমরা থেমে যাব না। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আমরা ভ্যাসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমস (ভিটিএমআইএস) এর মাধ্যমে তদারকি জোরদার করেছি। কক্সবাজারের কুতুবদিয়া জলসীমা পর্যন্ত এর পরিসর বাড়ানো হয়েছে। যেকােন পরিস্থিতিতে এই অর্জন ধরে রাখতে হবে।
বাণিজ্যিক জাহাজে সংঘটিত সশস্ত্র ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরি প্রতিরোধে কর্মরত আন্তর্জাতিক সংগঠন রিক্যাপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় বিগত ১২ বছরের মধ্যে ২০১৯ সালেই কেবল দস্যুতার ঘটনা শূন্যে নেমেছে। এর আগে ২০১০ সালে সর্বোচ্চ ২১টি, ২০১১ সালে ১৪টি, ২০১২ সালে ১২টি, ২০১৫ সালে ১০টি, ২০১৬ সালে একটি, ২০১৭ সালে ১১টি এবং ২০১৮ সালে ৯টি দস্যুতা-চুরির ঘটনা ঘটে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here