২৯ হাজার পণ্যভর্তি কন্টেইনার আটকা ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে; উদ্বেগে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা

0
973

বিশেষ প্রতিনিধি
মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাঙ, শ্রীলংকার কলম্বো এবং সিঙ্গাপুর বন্দরে জাহাজজটের কারণে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ২৯ হাজার একক পণ্যভর্তি কন্টেইনার আটকা পড়েছে। জাহাজজটে পড়ে সেগুলো সঠিক সময়ে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানো যাচ্ছে না বলেই এসব ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে আটকা পড়েছে। এরফলে বাংলাদেশি আমদানি-রপ্তানিকারক উভয়েই বিপুল আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। কবে নাগাদ এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে তা অনিশ্চিত; এই অবস্থায় উদ্বেগ আরো বাড়ছে।
পণ্য পরিবহনে জড়িত শিপিং কোম্পানিগুলো বলছে, কলম্বো বন্দরে বিশাল জটের কারণে বাংলাদেশের কনটেইনারগুলো প্রায় ৪৫ দিন ধরে বসে আছে। ফলে সিঙ্গাপুর বন্দর ও মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্ল্যাংয়ে চালান পৌছাতে দুই-তিন সপ্তাহ বিলম্ব হচ্ছে।
বিদেশি মেডিটেরানিয়ান শিপিং কোম্পানির সহকারী মহাব্যবস্থাপক আজমির হোসেন চৌধুরী বলছেন, ‘কলম্বো বন্দরে জাহাজ ভিড়তে ৪৫ দিনের বেশি সময় লাগছে। অনেক জাহাজের অপারেটর মহামারির সময় পণ্য পরিবহন কমে আসায় বড় জাহাজের বদলে ছোট জাহাজ দিয়ে পণ্য পরিবহন করেছে। এর ধকল এখন সামাল দিতে হচ্ছে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কভিড ধাক্কা কাটিয়ে বিশ্ববাজার ফের চালু হওয়ায় পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই জাহাজ সংকট তৈরি হয়েছে। এছাড়া বন্দর থেকে পণ্য বহনে জাহাজগুলোর ধীরগতি এবং কোভিডে সংক্রমিত হয়ে বন্দরের অনেক কর্মচারী কাজে আসা বন্ধ করে দেওয়াও এ সংকটের অন্যতম কারণ। ২০২০ সালের নভেম্বরে কোভিড মহামারির কারণে কলম্বো বন্দরে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সেখানে কনটেইনার জট সৃষ্টি হয়। বন্দরের অনেক কর্মচারীর করোনা সংক্রমণ হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়।
মালয়েশিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পোর্ট ক্ল্যাংয়ের মহাব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন কে সুব্রমান্যম বলেছেন যে পোর্ট ক্লাংয়ের ৫০০ কর্মী কোভিড পজিটিভ হওয়ায় বন্দরের কাজকর্ম বাধাগ্রস্ত হয়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, কনটেইনার জট, মাদার ভেসেলে জায়গা সংকট এবং শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে ফাঁকা কনটেইনারের অভাবের কারণে আমদানি করা কার্গো কনটেইনারগুলোর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোও অনিশ্চিত হয়ে গেছে।
প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর বলেছেন, ‘ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরগুলোতে আমদানি করা কাঁচামালের অনেকগুলো চালান আটকে থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। চালানে দেরি হলে লিড টাইম বেড়ে যায়। তাই ক্রেতারা দ্রুত ডেলিভারি পাওয়ার জন্য বিমানে পণ্য পরিবহনের দাবি জানায়। এর ফলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হয় তৈরি পোশাক খাতকে।’
তানভীর বলেন, ‘মাদার ভেসেলগুলো যেহেতু সরাসরি আমাদের বন্দরে আসতে পারে না, তাই আমাদেরকে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরগুলোর উপর নির্ভর করে থাকতে হয়। বর্তমান সঙ্কট বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ব্যবসাকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
উল্লেখ্য, পণ্য পরিবহনে এখন এশিয়া-আমেরিকা রুটের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত কন্টেইনার শিপিং কম্পানির নেই। বিদেশি সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের বাজার আবার খুলে গেলে পণ্যবাহী জাহাজের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। শিপিং লাইনগুলো তাদের সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করছে। কয়েক হাজার নতুন কন্টেইনার অর্ডার করেছে। সেগুলো ধীরগতিতে আসছে। বন্দরগুলো যদি অতিরিক্ত পণ্যের চাপ সামলাতে না পারে, তাহলে নতুন কন্টেইনার এনেও খুব একটা লাভ হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here