২৪ কোটি টাকা ক্ষতিপুরন চেয়ে মামলা, বহির্নোঙরে আটক বিটুমিনের জাহাজ

0
996

বিশেষ প্রতিনিধি

বিদেশ থেকে বিটুমিন বহনকারী একটি বিদেশি জাহাজ আটক করেছে সরকারের নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তর। জাহাজটির নাম ‘গোয়াং ঝু ওয়ান’। জাহাজটি ১১ হাজার ২২০ টন বিটুমিন নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ’র হামরিয়া সমুদ্রবন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে গত ২১ মে। জাহাজটিতে দুই আমদানিকারকের বিটুমিন ছিল।

২১ মে বন্দররে বহির্নোঙরে পৌঁছলেও জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়ার অনুমতি না পাওয়ায় এক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ২৪ কোটি টাকা ক্ষতিপুরণ চেয়ে জাহাজ মালিক ও সরবরাহকারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। হাইকোর্টের জাহাজ সংক্রান্ত এডমিরালিটি বিভাগ মামলার অভিযোগ শুনে জাহাজটি গত ৯ জুন আটক করার নির্দেশ দেন। এরপরই জাহাজটি আটক করে সরকারের নৌ বাণিজ্য দপ্তর।

জানতে চাইলে নৌ বাণিজ্য দপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমদানিকারক ব্যবসায়িক ক্ষতিপুরণ চেয়ে উচ্চ আদালতে মামলা করলে; আদালত জাহাজটি আটকের নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতেই আমরা জাহাজটি আটক করেছি। এখন জাহাজটি বহির্নোঙরে অ্যাংকরেজে আছে। চট্টগ্রাম বন্দর-নৌ বাহিনী-কোস্টগার্ডকে জাহাজটি তদারক করতে বলা হয়েছে।’

জানা গেছে, চীনের পতাকাবাহি ‘গোয়াং ঝু ওয়ান’ জাহাজটিতে চট্টগ্রামের দুই আমদানিকারক এর ১১ হাজার ২২০ টন খোলা (বাল্ক) বিটুমিন ছিল। জাহাজটি যৌথভাবে ভাড়া করেছে উক্ত দুই প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে দুটি চালানে ৬ হাজার ৭৭৩ টন বিটুমিন আছে পিএইচপি গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘বে টার্মিনাল এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেড’। বাকি পণ্য হচ্ছে এমইবি গ্রুপের।

পিএইচপি গ্রুপের এক কর্মকর্তা বলছেন, আরব আমিরাতের শারজাহ হামারিয়া সমুদ্রবন্দর থেকে জাহাজটি বিটুমিন নিয়ে ২০ মে বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায় কিন্তু জাহাজটি জেটিতে ভিড়তে পারেনি এখনো। জাহাজের এজেন্ট এবং সরবরাহকারীর গাফিলতির কারণে এই পণ্য সঠিক সময়ে জাহাজ থেকে নামানো যায়নি। এরফলে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এজন্য ২৪ কোটি টাকার ক্ষতিপুরন চেয়ে মামলা দায়ের করে।

তবে জাহাজটির দেশিয় শিপিং এজেন্ট কসকোল বাংলাদেশের কর্ণধার রিয়াজ উদ্দিন খান বলেন, ‘জাহাজটিতে দুই আমদানিকারকের পণ্য ছিল। দুজন আমদানিকারক একসাথে ডকুমেন্ট জমা দিয়ে বন্দর-কাস্টমস থেকে ছাড়পত্র নিতে পারেনি। সেজন্য জাহাজটি সঠিক সময়ে জেটিতে ভিড়ার সুযোগ পায়নি। একইসাথে জাহাজটি যে জেটিতে ভিড়ে সেখানে আগে থেকেই আরেকটি জাহাজ থেকে পণ্য নামানো হচ্ছিল। সেই জাহাজটি পণ্য নামানো শেষ হলে আমরা জেটিতে ভিড়ার অনুমতি পাবো। এর আগে তো আমাদের করণীয় নেই। এই কারণে এখন পর্যন্ত জাহাজটি বহির্নোঙরে আছে।’

অভিযোগ আছে, বিটুমিন আমদানি নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বাজেটের আগে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। যেখানে আমদানিকৃত বিটুমিন দেশীয় ল্যাবে পরীক্ষার পর মান সনদ যাচাই করেই বন্দর থেকে ছাড় করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জাহাজটি এমন সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় পৌঁছেছে যখন এই আদেশ জারি করা হয়েছে। মুলত মান সনদ যাচাই করতে এখন বাড়তি সময় লাগছে চট্টগ্রাম কাস্টমসে। এরফলে বন্দরে আটকা পড়েছে প্রচুর বিটুমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here