২০২১ সালে নয়, ২০২২ সালের জুনে চালু হবে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল !

বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) চালুর সময়সীমা একবছর পিছিয়ে ২০২২ সালের জুনে চালুর লক্ষমাত্রা নির্ধািরত হয়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে চালুর লক্ষমাত্রা থাকলে একদফা পিছিয়ে ২০২১ সালের জুনে নির্ধারিত হয়। এখন সেটি আরো একবছর বাড়ানো হলো। এরফলে চট্টগ্রাম বন্দর কন্টেইনার উঠানামার বাড়তি প্রবৃদ্ধি মোকাবেলা করতে গিয়ে এই বছর চরম জটিলতায় পড়বে।
২০০৭ সালের পর এই প্রথম কোন-জেটি টার্মিনাল বন্দরের বহরে যোগ করার কথা ছিল; বন্দরের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি সামাল দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে সেটি নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। এখন সেই উদ্যোগ হোঁচট খেল।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘মুজিববর্ষে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের কাজ শেষ করে অপারেশনে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সব ধরনের কাজে ব্যাঘাত ঘটেছে। এর প্রভাবে এই টার্মিনালের নির্মাণকাজও বাধাগ্রস্ত হয়। এ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।’
তিনি বলছেন, ২ একর জায়গায় নির্মিতব্য টার্মিনালটি চালু হলে চার লাখ একক কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। কন্টেইনারের পাশাপাশি এই টার্মিনালে থাকবে তেলবাহী জাহাজ ভিড়ানোর সুবিধা। নির্মাণাধীন পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল বাস্তবায়ন হলে বন্দরের কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে, বাড়বে লজিস্টিক সক্ষমতা।
বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, কর্ণফুলী নদীর পাড়ে চট্টগ্রাম ড্রাইডক থেকে চট্টগ্রাম বোটক্লাব পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)। এরমধ্যে তিনটি কন্টেইনার জেটি এবং একটি তেল খালাসের ডলফিন জেটি। প্রকল্পের আওতায় ৩২ একর এলাকাজুড়ে নির্মাণ করা হবে ৬০০ মিটার দীর্ঘ তিনটি জেটি। থাকবে ২২০ মিটার দীর্ঘ একটি ডলফিন জেটি ও ১ লাখ ১২ হাজার বর্গমিটার অভ্যন্তরীণ ইয়ার্ড এবং সড়ক।
বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কন্টেইনার টার্মিনাল হবে পিসিটি। এখানে ২৫০০ মিটার রেলওয়ে ট্রেক নির্মাণ করা হবে। রেললাইনটা সংযুক্ত থাকবে সাউথ কন্টেইনার ইয়ার্ডের সাথে। কিন্তু রেললাইন প্রকল্প এখন স্থগিত করা হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৭ সালের ১৩ জুন পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পের অনুমোদন দেয় সরকার। ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের শেষ সময় ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে ব্যয় আরও ১ হাজার ৩৯৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাবের সঙ্গে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে আরডিপি বরাবর আবেদন করে প্রকল্প সংস্থা।
এদিকে গত মার্চে টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় বাস্তবায়নের জন্য ‘ইকুইপ, অপারেট অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল’ প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন দেয় সরকার। টার্মিনাল অপারেশন পরিচালনা ও বিনিয়োগ প্রস্তাবে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল, দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড, ভারতের আদানি পোর্ট আ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড ও সিঙ্গাপুরের পিসিএর মত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রাক-সমীক্ষা অনুযায়ী প্রকল্পটির সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ ৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বার্ষিক পরিচালনা ব্যয় ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশের বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয় চট্টগ্রাম বন্দরে। বর্তমানে এ বন্দরে জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নামক তিনটি টার্মিনালে মোট ১৯টি জেটি রয়েছে। তবে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল চালু হলে বন্দরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে ও বন্দরের লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *