১৮ হাজার পণ্যভর্তি কন্টেইনার আটকা পড়েছে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে

0
104
????????????????????????????????????

বিশেষ প্রতিনিধি

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের পণ্য আটকা পড়েছে বিদেশের চারটি ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে। সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকার কলম্বো, মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাঙ ও তানজুম পেলিপাস-এই চারটি বন্দরে জাহাজজটের কারণে অন্তত ১৮ হাজার একক কন্টেইনার পড়ে আছে। কাঙ্খিত জাহাজ না পাওয়ায় গত ২০ দিন ধরে আটকা পড়েছে সেসব বন্দরে। এসব পণ্যের মধ্যে বেশিরভাগ সুতা, শিল্প কারখানার কাঁচামাল, বাণিজ্যিক পণ্য, স্ক্র্যাপ পণ্য আছে; যথাসময়ে ওসব পণ্য আনতে না পারায় কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আর বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ওই খাতের ব্যবসায়ীরা।

অবস্থা এমন যে, আটকে পড়া কন্টেইনারগুলো দেশে দ্রুত আনতে শিপিং লাইনগুলো উদ্যোগ নিলেও কাঙ্খিত জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না।

জানতে চাইলে মেডিটেরানিয়ান শিপিং কম্পানি (এমএসসি) সহকারী মহাব্যবস্থাপক আজমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘কলম্বো বন্দরে অন্তত ১০ হাজার পণ্যভর্তি কন্টেইনার আমাদের শিপিং লাইনের আছে। তবে সিঙ্গাপুরে আমাদের তেমন পণ্য আটকে নাই। মুলত সেই বন্দরে জাহাজজটের কারণে আমরা সঠিক সময়ে পণ্য জাহাজীকরণ করতে পারিনি বলেই আটকা পড়েছে।

তিনি বলছেন, আটকে থাকা এসব পণ্য চট্টগ্রাম আনতে আমরা দুটি বিশেষ জাহাজ ‘এমএসসি এমিলি’ ও ‘এমএসসি কাইমিয়া’ বরাদ্দ দিয়েছি। এরমধ্যে এমএসসি এমিলি শনিবার কলম্বো বন্দর থেকে রওনা দিয়েছে। জাহাজগুলো অনটাইমে চালাতে পারলে আটকে থাকা পণ্য দ্রুত চলে আসবে।

বিশ্বের শীর্ষ শিপিং লাইন মায়ের্কস এর এক কর্মকর্তা বলছেন, ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে আমাদের অনেক পণ্য আছে। নিয়মিত জাহাজেই সেগুলো দেশে আসছে। সমস্যা জটিল আকার ধারন করবে যদি ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া লকডাউনে বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি হবে না হয়। এজন্য আগেভাগেই বিষয়টি নিশ্চিত করার তাগাদা দেন তিনি।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের নতুন নির্বাচিত পরিচালক মুনতাসির রুবাইয়াত বলছেন, যে পরিমান পণ্য আটকা পড়েছে সেই পরিমান পণ্য দ্রুত চট্টগ্রাম আনতে কাঙ্খিত জাহাজ বা বন্দরে প্রবেশের উপযোগি জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু জাহাজ পাওয়া গেলেও সেগুলো উচ্চ মাশুল চাইছে। সেজন্য জাহাজ কম্পানির অনেকেই ইচ্ছে থাকলেও উচ্চ ভাড়ার কারণে জাহাজ বুকিং দিতে পারছে না।

বিদেশি হুন্দাই শিপিংয়ের এক কর্মকর্তা বলছেন, বেশিরভাগ জাহাজ কম্পানি নতুন পণ্য বুকিং নিচ্ছেন নিয়ন্ত্রিতভাবে। ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরগুলোতে আটকে থাকা পণ্য সরাতেই তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। জট কাটলে নতুন বুকিং নিবেন।

জানা গেছে, ইউরোপ-আমেরিকা-আফ্রিকা থেকে আসা কন্টেইনারভর্তি আমদানি পণ্য সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে পারে না। জেটিতে নাব্যতা সংকটের কারণে বড় আকারের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়তে পারে না। ফলে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে পণ্য নামানোর পর; সেখান থেকে অপেক্ষাকৃত ছোট জাহাজ বা ফিডার জাহাজে করে আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়ানো হয়। একইভাবে রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনারও চট্টগ্রাম থেকে ছোট জাহাজে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে যায়; সেখান থেকে বড় বা মাদার ভ্যাসেলে তুলে ইউরোপ-আমেরিকা-আফ্রিকায় যায়। ফলে কন্টেইনারভর্তি আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশ ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরগুলোর ওপর নির্ভরশীল। বেশ কমাস ধরেই সেই বন্দরগুলো তৈরী হয়েছে বড় ধরনের জাহাজজট। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এরফলে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্য কম এসেছে।

গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ প্রথম সহ সভাপতি এম এ সালাম বলছেন, কারখানার পণ্য উৎপাদনের একটি সাইকেল আছে। পণ্য আমদানি পণ্য জাহাজীকরণ থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছা, কারখানায় নেয়া; সেখানে উৎপাদনের পর আবারো নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ এবং ক্রেতার কাছে পৌঁছানো। এর যেকোন একটি অংশে ব্যাঘাত ঘটলেই পুরো প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরগুলোতে জটের কারণে শিপিং লাইনগুলো বাড়তি মাশুল আরোপ করেছে। এরপরও সঠিক সময়ে আমরা পণ্য পাইনি। ফলে বাড়তি মাশুল গুনতে হয়েছে; আবার পণ্য উৎপাদনও ব্যাঘাত ঘটেছে। এখনও এর প্রভাব কাটেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here