১৭ দিন পর সিঙ্গাপুরে ভিড়ছে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যবাহি ‘থর উইন্ড’ জাহাজ

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

5 December, 2021 0 Views

0

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রায় এক হাজার কোটি টাকার রপ্তানি পণ্য সিঙ্গাপুরের বহির্নোঙরে আটকে থাকা জাহাজ ‘থর উইন্ড’ আজ শনিবার সিঙ্গাপুর বন্দরে বার্থিং নিচ্ছে। জাহাজের এক বিদেশি নাগরিকের কভিড-১৯ পজিটিভ সনাক্ত হওয়ার পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে জাহাজটি সিঙ্গাপুর বন্দরে ভিড়ার অনুমতি পায়নি। এই অবস্থায় গত
১৭ দিন বহির্নোঙরে অলস বসে থাকার পর জাহাজটির শিপিং লাইন এবং মালিক কর্তৃপক্ষ অনেক চেষ্টায় আজ জাহাজটি ভিড়ার অনুমতি পাচ্ছে।

জাহাজটিতে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের প্রায় ৬০২ একক কন্টেইনারভর্তি পণ্য রয়েছে; যেগুলো যাবে আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য সিঙ্গাপুর বন্দর থেকে বড় মাদার ভ্যাসেল বা বড় জাহাজে জাহাজীকরণ করতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। আর্থিক ক্ষতির শঙ্কাও করছেন তারা।
‘থর উইন্ড’ জাহাজটির শিপিং লাইন চীনের সাংহাইভিত্তিক কসকো। তাদের বাংলাদেশের এজেন্ট কন্টিনেন্টাল গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক রাশিদ আলী শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, জাহাজটিতে থাকা সব নাবিকের দ্বিতীয় দফা করোনা নেগেটিভ থাকার পর জাহাজটি আজ শনিবার সিঙ্গাপুর বন্দরে ভিড়ার সুযোগ দিয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর জাহাজটি জেটিতে ভিড়ার কথা ছিল। কিন্তু জাহাজটির মালিক পক্ষ এবং শিপিং লাইন যৌথভাবে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে সক্ষম হওয়ার পর আজকেই ভিড়ার অনুমতি দিয়েছে। এখন আমরা চাইবো যত দ্রুত সম্ভব রপ্তানি পণ্যগুলো সিঙ্গাপুর বন্দর থেকে মাদার ভ্যাসেলে তুলে গন্তব্যে পাঠাতে।

জানা গেছে, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহি জাহাজ ‘থর উইন্ড’ মুলত চট্টগ্রাম-সিঙ্গাপুর রুটে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত। চীনের সাংহাইভিত্তিক জাহাজ কম্পানি কসকো শিপিং লাইন জাহাজটি পরিচালনা করে। জাহাজটির দেশিয় এজেন্ট কন্টিনেন্টাল ট্রেডার্স। চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে যাওয়ার আগে চট্টগ্রাম থেকে চীনের এক নাবিক ‘থর উইন্ড’ জাহাজে উঠেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর রপ্তানি পণ্য নিয়ে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রওনা দিয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর বন্দর জেটিতে ভিড়ার কথা। কিন্তু সিঙ্গাপুর বন্দরে প্রবেশের আগে জাহাজে থাকা নাবিকদের কভিড-১৯ পরীক্ষা করতে গিয়ে ওই চীনা নাবিকের কভিড পজিটিভ সনাক্ত হয়। এরপর থেকে জাহাজটি সিঙ্গাপুর বন্দরের বহির্নোঙরে বসেছিল।
‘থর উইন্ড’ জাহাজটিতে ৪৬ একক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরন করেছে (ওশান নেটওয়ার্ক ) ওয়ান লাইনের। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক রবি শংকর দাশ শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, ১৭ দিনে সিঙ্গাপুর থেকে অনেকগুলো মাদার কানেকশন মিস করেছে এই পণ্য। ১৭ দিন ধরে রপ্তানিকারকদের প্রতিনিয়ত ফোনে আমরা খুব উদ্বিগ্ন ছিলাম। কারণ সঠিক সময়ে পণ্য গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলে পণ্য বাতিল, ডিসকাউন্টে পণ্য গ্রহনসহ নানা চাপ দেয় বিদেশি ক্রেতারা। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি কত দ্রুত পণ্যগুলো সিঙ্গাপুর বন্দর থেকে ইউরোপ-আমেরিকার গন্তব্যে পাঠানো যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *