১৪ দিনের লকডাউনে চট্টগ্রাম বন্দর কতটা সচল থাকবে?

0
51

বিশেষ প্রতিনিধি
ঈদুল আজহা পরবর্তী ১৪দিন শিল্প কারখানা বন্ধ থাকলে দেশের প্রধান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর কতটা সচল থাকবে তা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। কারণ কারখানা সচল থাকার পর দেশের আমদানি-রপ্তানি নির্ভরশীল। সেই কারখানাই যদি এতদিন বন্ধ থাকে তাহলে বন্দরের কী হাল হবে তা নিয়েই উদ্বেগে আছেন ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, লকডাউন পরিকল্পনাকে স্বাগতঃ জানিয়ে লকডাউন চলাকালীন দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে কিছুটা স্বাভাবিক রাখতে রপ্তানিমূখী শিল্প, শিল্পের কাঁচামাল, মৎস্য পরিবহন এবং দেশের বিশাল জনগোষ্ঠির নিত্য ভোগ্য পণ্যের চাহিদাপূরণ, সংকটরোধসহ বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে এ সকল পণ্যের উৎপাদন ও বিপণনকে বিধি-নিষেধের আওতামুক্ত রাখার বিষয় গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, ২০২০ সালের ২৬ মার্চ থেকে কভিড-১৯ মহামারি ঠেকাতে হঠাৎ করেই লকডাউন দেয়ায় চরম বিপাকে পড়েছিরেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। সেসময় সব শিল্প কারখানা বন্ধ থাকায় বন্দর আমদানি পণ্য ছাড় এবং পণ্য রপ্তানিতে বন্দরে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। লকডাউন শিথিল করে কল কারখানা চালুর পর সেই ধকল কাটাতে চট্টগ্রাম বন্দরকে দীর্ঘসময় কঠিন চ্যালেঞ্জ পার করতে হয়েছে। আর ধকল সামাল দিতে আর্থিক ক্ষতি বইতে হয়েছে বন্দর ব্যবহারকারীদের। এই পরিস্থিতে ঈদুল আজহা পরবর্তী ২৪ জুলাই থেকে ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনে যাচ্ছে সরকার।
গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলছেন,  পণ্য আমদানি-রপ্তানি একটি সাইক্লিক প্রক্রিয়া; এখানে বন্দর, কাস্টমস, শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, কন্টেইনার ডিপোসহ সরকারী-বেসরকারী অনেক প্রতিষ্ঠান একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত। কারখানা বন্ধ রাখলে সবগুলো প্রতিষ্ঠান সচলে অচলাবস্থা তৈরী হবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা তৈরীর শঙ্কা আছে।
তিনি বলছেন, কারখানা চালু থাকলেই কেবল কাঁচামাল বন্দর থেকে ছাড় হয়ে কারখানায় আসবে। আর কারখানা সচল থাকলেই রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ হবে। ১৪ দিন কারখানা বন্ধ থাকলে এই জটিলতার সমাধান কিভাবে হবে? আর রপ্তানি পণ্য তৈরীর পর কী ১৪ দিন কারখানা গোডাউনে থাকবে? এ সময় আমরা বিদেশি ক্রেতাকে কিভাবে ম্যানেজ করবো।
সৈয়দ নজরুল ইসলামের মতে, ২০২০ সালের লকডাউনে খাদের কিনা চলে যাওয়া দেশের গার্মেন্ট শিল্পকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছেন। এবার আমরা তাঁর কাছে এর ভালো সমাধান চাই।
জানা গেছে, কভিড-১৯ মহামারির ঠেকাতে ঈদুল আজহা পরবর্তী ২৩ জুলাই থেকে সরকার কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সময়ে সব ধরনের শিল্প কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর থেকেই এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ. বিকেএমইএ, টেরিটায়েলসহ সব ধরনের রপ্তানিমুখি শিল্প প্রতিষ্ঠান একযোগে সরকারের সিদ্ধান্ত পুনবির্বেচনার দাবি জানিয়েছে। আজ শনিবার ঢাকায় এনিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে।
১৪ দিন কারখানা বন্ধ রাখলে চট্টগ্রাম বন্দরে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এতে কোন সন্দেহ নেই। যদি চট্টগ্রাম বন্দর এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোন মন্তব্য করেনি। তারা সরকারের চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। তবে গত ১ জুলাই থেকে যে ‘সর্বাত্নক লকডাউন’ শুরু করেছিল সরকার তখন অচলাবস্থা এড়াতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নৌ মন্ত্রনালয়ে কিছু সুপারিশ পাঠিয়েছিল। সেই সুপারিশ কার্যকর না করলে চট্টগ্রাম বন্দর সচল রাখা যাবে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, কঠোর লকডাউনে শিল্প কারখানা বন্ধ থাকলে বন্দরে এর নেতিবাচক প্রভাব তো পড়বেই; গত বছরের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি। শেষপর্যন্ত যদি সরকার কারখানা বন্ধ রাখে বন্দরের অচলাবস্থা এড়াতে বিকল্প হিসেবে আমরা কিছু প্রস্তাব নৌ মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছি; গতকাল সেই প্রস্তাব সুপারিশ আকারে বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর পরিবহন বিভাগের এক কর্মকর্তা বলছেন, কভিড চলাকালীন সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার একক আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার ডেলিভারি হয়। লকডাউনে কারখানা বন্ধ থাকলে সেটি নেমে আসবে ১ থেকে দেড় হাজার এককে। বাকি দেড় হাজার একক কন্টেইনার বন্দর ইয়ার্ডে জমতে থাকবে। এভাবে জমতে জমতে আমরা সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত বন্দর সচল রাখতে পারবো। এরপর থেকেই বন্দরে অচলাবস্থা তৈরী হবে। ২০২০ সালের প্রথম লকডাউনে যেমনটি হয়েছিল।
তিনি বলছেন, কারখানা বন্ধ থাকলে রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ হবে না। কারণ পণ্য তো তৈরি হবে না। ফলে বন্দর জেটিতে জাহাজ আসলেও সেই জাহাজ রপ্তানির বদলে খালি কন্টেইনার নিয়ে বন্দর ছাড়বে। এভাবে আমদানি-রপ্তানি কমলে খরচ কমাতে তারাও জাহাজ কমিয়ে দিতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here