হাইড্রোজেন পার অক্সাইডমুক্ত চট্টগ্রাম বন্দর

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

8 August, 2022

Views

চট্টগ্রাম বন্দরে এখন আর ইয়ার্ডে পড়ে থাকা কোন ‘হাইড্রোজেন পার অক্সাইড’ নেই। গত সোমবার সর্বশেষ চালানটি স্পট নিলামে দিনেদিনেই বিক্রি করে দিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এর পরিমান ছিল ৩০ হাজার ৪৫০ কেজি। তুরস্ক থেকে ২০১৮ সালে এই রাসায়নিক আমদানি করেছিল ঢাকা গাজীপুরের কেয়া নীট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানা। ছাড় না নেয়ায় এই রাসায়নিক পদার্থ চার বছর ধরেই চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে পড়েছিল। অনেকবার নিলামে তোলার উদ্যোগ নেয়া হলে সফল হয়নি কাস্টমস।
মূলত গত শনিবার বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুনে ‘হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড’-এর কনটেইনারে বিস্ফোরণের পর চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস গত রবিবার এসব রাসায়নিক বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। বন্দর ইয়ার্ডকে ঝুঁকিমুক্ত করতে এই রাসায়নিক প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে স্পট নিলামের মাধ্যমে দ্রুত বিক্রি করা হলো।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপকমিশনার (নিলাম) আলী রেজা হায়দার বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই নিলামে তুলেছি এই পণ্য। এটা অস্বীকার উপায় নেই যে কনটেইনার ডিপোর বিস্ফোরণের পর আমাদের এই কাজ দ্রুত করতে হয়েছে। আমরা সফলভাবে স্পট নিলাম করতে পেরেছি। প্রচলিত নিয়ম থাকলে আমরা দ্রুত কাজটি করতে পারতাম না। ’ তিনি বলেন, ‘গত ২৬ জুনও হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের ২০ টনের একটি চালান আমরা নিলামে তুলে বিক্রি করেছি। তখন কিন্তু স্পট নিলাম ছিল না। ওই চালানে ৩১৫ ড্রামে ২০ হাজার ৪৭৫ কেজি হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ছিল। মোট পাঁচ লাখ ৮০ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে এই রাসায়নিক বিক্রি করা হয়। নিলামের পরদিনই খালাস নেন সর্বোচ্চ দরদাতা। ’

বন্দরের হিসাবে, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড চট্টগ্রাম বন্দর শেডে না থাকলেও অন্তত আড়াইশ টন পণ্যভর্তি বিপদজনক কন্টেইনার পড়ে আছে। এরমধ্যে অনেকগুলো রাসায়নিকও আছে। এখন সেই পণ্যগুলো নিলামে বিক্রির জন্য উদ্যোগ নিয়েছে কাস্টমস ও চট্টগ্রাম বন্দর। ইতোমধ্যে অনেক কন্টেইনারের কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তবে কবে নাগাদ নিলামে তোলা যাবে তা বলতে পারেনি কাস্টমস।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, বন্দর ও কাস্টমসের সাথে আমরা দ্রুত বসে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি কতদ্রুত এই পণ্য সরানো যায়। একইসাথে রাসায়নিক যাতে বন্দর ইয়ার্ডে না নেমে জেটিতে ভিড়া জাহাজ থেকে সরাসরি ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-লরিতে করে আমদানিকারকের কারখানায় নেয়া যায় তার উদ্যোগও আমরা নিচ্ছি।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর শেডে বছরের পর বছর এই ধরনের বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থ আটকে থাকলেও বন্দর ও কাস্টমসের সমন্বয়হীনতার কারণে নিলামে বিক্রি করা যায়নি। যায়নি ধ্বংস কার্যক্রমও। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশনার পর চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম অত্যন্ত উদ্যোগি হয়ে একের পর এক নিলাম ডেকে পণ্য সরানোর উদ্যোগ নেন। একইসাথে নষ্ট হওয়া পণ্য ধ্বংসের কার্যক্রমও হাতে নেন। এতে বেশ সফলতাও আসে। এরইমধ্যে ২০২০ সালের আগস্টে লেবাননের বৈরুত বন্দরে রাসায়নিক বিস্ফোরনে ব্যাপক হতাহতের পর নিলাম ও ধ্বংস কার্যক্রম আরো গতি পায়। এর ধারাবাহিকতায় দুই দফায় ৫৯ টন রাসায়নিক ধ্বংস করা হয় সুনামগঞ্জের লাফার্জ সিমেন্ট কারখানায় নিয়ে।প্রতিমাসে নিলাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সর্বশেষ কারনেট সুবিধায় আনা গাড়িগুলো নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম স্পট নিলামে এই ধরনের বিপদজনক রাসায়নিক বিক্রির কাস্টমসের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রয়োজনের মন্ত্রনালয়ের বিশেষ অনুমতি নিয়ে এই জঞ্জাল স্পট নিলামের মাধ্যমে সরানো হোক বন্দর থেকে। আর সময়ক্ষেপন নয়, অন্তত আগামী একমাস এমন ক্রাশ প্রগাম নিয়ে স্পট নিলাম ডাকা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.