স্ক্র্যাপ ভেসেলের দাম ১৩ বছরে সর্বোচ্চ

বিশেষ প্রতিনিধি
১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে স্ক্র্যাপ ভেসেল আমদানি করছে বাংলাদেশের শিপব্রেকিং ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় বাজারে দাম বাড়তে থাকায় ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি দর দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে স্ক্র্যাপ ভেসেল কিনছেন তারা।
শিপিং বিষয়ক অনলাইন লয়েডস লিস্টের খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ এখন স্ক্র্যাপের যে দাম তা ১৩ বছরে সর্বোচ্চ। ২০০৮ সালের পর এত বেশি দাম ওঠেনি স্ক্র্যাপের।
গত জুলাই মাস থেকে স্ক্র্যাপ ভেসেলের টনপ্রতি লোহার দর ৬০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এ মাসের প্রথম সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে গ্যাস আইকন নামে একটি ট্যাংকার কিনেছে বাংলাদেশের এক ব্যবসায়ী। খুব ছোট আকারের এই ট্যাংকারটির প্রতি টন লোহার মূল্য দিতে হয়েছে ৬১০ ডলার করে।
গত বছর করোনার শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য পণ্যের মত স্ক্র্যাপ ভেসেলের দামও পড়ে যায়। গত বছল জুনে স্ক্র্যাপ ভেসেলের টনপ্রতি লোহার দর ৩০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। এ অবস্থা বেশিদিন থাকেনি। বিশ্ব অর্থনীতিতে গতি ফিরে এলে অন্যান্য পণ্যের মতো স্ক্র্যাপ ভেসেলের দামও বাড়তে থাকে। গত বছর নভেম্বরের পর থেকে বাজার উর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে। সামান্য সংশোধন হলেও বাজার কোথা গিয়ে দাঁড়াবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে।
মোস্তফা হাকিম গ্রুপের পরিচালক সারোয়ার আলম জানান, স্ক্র্যাপ ভেসেলের দাম যেভাবে বেড়েছে তা নজিরবিহীন। দুই বছর আগেও বড় আকারের যে ট্যাংকার ভেসেলের দাম ছিল ১৮০ কোটি টাকা এখন তা কিনতে হচ্ছে ২৩০–২৪০ কোটি টাকায়।
জাহাজ ভাঙায় বাংলাদেশ কয়েক বছর ধরে শীর্ষস্থানে রয়েছে। এনজিও শিপব্রেকিং প্ল্যাটফর্মের হিসেবে, ২০২০ সালে বিশ্বে ৬৩০টি জাহাজ ভাঙা হয়েছে। এর ৯০ শতাংশই ভাঙা হয়েছে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে। এর মধ্যে জাহাজ ভাঙায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ । দ্বিতীয় অবস্থানে ভারত এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে তুরস্ক এবং পঞ্চম অবস্থানে চীন।
ব্যবসায়ীরা জানান, মূলত জাহাজ ভাঙা শিল্প থেকে রড শিল্পের কাঁচামাল স্ক্র্যাপ ও প্লেটের যোগান আসে। স্বয়ংক্রিয়, আধা স্বয়ংক্রিয় ও সনাতন কারখানার কারখানা জাহাজ ভাঙা শিল্পের কাঁচামাল ব্যবহার করে।
ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে এখন বেশি বেচাকেনা হচ্ছে ট্যাংকার জাহাজ। কনটেইনার ও বাল্ক জাহাজের ভাড়া উর্ধ্বমুখী থাকায় পুরনো জাহাজও ছাড়ছে না জাহাজ মালিকেরা। তবে ট্যাংকার জাহাজ পরিচালনার বাজার মন্দা। এ কারণে পুরোনো ট্যাংকারগুলো ছেড়ে দিচ্ছেন মালিকেরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *