সেন্টমার্টিনে আটকাপড়া ভূতুড়ে জাহাজ নয়, সেটি বার্জ

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

1 February, 2023

Views

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং’র বাতাসের তোড়ে গত সোমবার একটি জাহাজ কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন উপকূলে ছেড়াদ্বীপে গিয়ে আটকে পড়েছে। জাহাজটিতে কোন নাবিক নেই, ছিল না কোন পণ্যও। ফলে সেই জাহাজ ঘিরে রহস্য তৈরী করে সংবাদ প্রকাশ করেছে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম। আর এ নিয়ে ফেসবুকে বেশ ভাইরালও হচ্ছিল।

বাস্তবে জাহাজটি সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে, এটি একটি বার্জ। বার্জ মুলত নিজে চলতে পারে না। অন্য একটি জাহাজের সহায়তা নিয়েই চলতে হয়। ফলে সেখানে নাবিক থাকার কথা নয়। আর এটি পাথর নিয়ে এসেছিল মালয়েশিয়া থেকে এসেছিল। আসার সময় টাগ বোট ‘গ্লোরি-৩’ এর সহায়তায় সেটি চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় পৌঁছেছিল। পাথর নামিয়ে বন্দর ত্যাগের আগেই সাগরের কোন একস্থানে ঝড়ের কবলে পড়ে টাগবোট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আর ভাসতে ভাসতেই সেন্টমার্টিনের ছেঁড়াদ্বীপে গিয়ে আটকে যায়।

৪৭ বছর ধরে দেশি-বিদেশি জাহাজ পরিচালনায় অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী বলেন, আমি নিউজ দেখে নিজেও হাসছিলাম। বাস্তবে এই বার্জে কোন ইঞ্জিন থাকে না, থাকে না কোন প্রপেলর বা পাখা কিংবা কোন নাবিকও। তবে থাকে জেনারেটর;যেটি দিয়ে বার্জটির লাইটিং করা থাকে। একটি কক্ষ থাকে, যেখানে নিরাপত্তার প্রয়োজনে কয়েকজন থাকতে পারে।

তিনিও বলেন, এটি নিজে থেকে চলে না বা চলতেও পারে না। সামনে থেকে টাগবোট দিয়ে টেনে নিতে হয়। আর টাগবোটের নাবিক থাকে, ইঞ্জিন প্রপেলর সবই থাকে। টাগবোটের সাথে এই বার্জটির সংযোগ থাকে। ঝড়ের তোড়ে হয়তো সেটি বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারে। এই কারণে ভেসে গিয়ে সেন্টমার্টিনে আটকে পড়েছে।

বার্জ ‘এমআর ৩৩২২’ সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী। এটি ২০০৮ সালের নভেম্বরে তৈরী এবং সেটি সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত। ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজটি ১০ হাজার টন পণ্য পরিবহন করতে পারে। সিঙ্গাপুরের মেরিনা টুয়েজ সেটি পরিচালনা করে। এটির দেশিয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে জার ওয়ার্ল্ড শিপিং লাইন। জানতে চাইলে জার ওয়ার্ল্ড শিপিং লাইনের কর্মচারী জিন্নাত আলী বলেন, এপর্যন্ত বার্জটি ৬ বারা চট্টগ্রাম এসেছে পাথর বোঝাই করে। এবারো ১০ হাজার টন পাথর বোঝাই করে কুতুবদিয়া সাগরে পৌঁছে গত ১৮ অক্টোবর। পাথরগুলো নৌবাহিনীর একটি প্রকল্পের জন্য মালয়েশিয়া থেকে আনা হয়েছে। পাথর নামিয়ে ২০ অক্টোবর ফিরে যাওয়ার পথেই সাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে বার্জটি।

তিনি বলেন, সিত্রাং ঘুর্ণিঝড়ের কবল থেকে নিরাপদ দুরত্বে সেন্টমার্টিনের কাছাকাছি সাগরে গিয়ে অবস্থান নেয় টাগবোট গ্লোরি-৩। এরইমধ্যে ঝড়ের কবলে পড়ে টাগবোট থেকে বার্জটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় সেটি ছেড়াদ্বীপে গিয়ে আটকে পড়ে। এখানে ভূতুড়ে, রহস্য কিংবা জনমানবহীনতার কোন সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, সাগর শান্ত হলে আজ বুধবার টাগবোটের সাথে বার্জটি সংযোগ করে মালয়েশিয়া ফেরত যাবে। আবারো পণ্য নিয়ে আসবে চট্টগ্রামে। টাগবোট গ্লোরি-৩ জাহাজের ইন্দোনেশিয়ার ক্যাপ্টেনসহ নাবিকরা এখন সাগরে নিরাপদে আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.