সিঙ্গাপুর বন্দরে জাহাজ জট কাটেনি; ভোগাচ্ছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের

0
755

বিশেষ প্রতিনিধি

বড়ধরনের জাহাজজট থেকে এখনো বের হতে পারেনি সিঙ্গাপুর বন্দর। বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ-আমেরিকায় পণ্য পরিবহনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরটিতে জাহাজের গড় অবস্থানকাল (টার্ন এরাউন্ড টাইম) এখন দ্বিগুণ। এই বন্দরের জাহাজজটের ধাক্কা পড়েছে দেশের প্রধান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে। সিঙ্গাপুরে জাহাজজটের কারণে একটি জাহাজকে বাড়তি সময় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে; আর পণ্য পরিবহনের দাম বাড়ছে। এর মাশুল গিয়ে পড়ছে পণ্যের ওপর।

এলএফ লজিস্টিকসের ভাইস প্রেসিডেন্ট পিটার সুন্দারা বলছেন, জাহাজজটের কারণে সাউথ-ইস্ট এশিয়া থেকে আসা ফিডার জাহাজগুলো বড় বা মাদার ভ্যাসেল কানেকশন পেতে বেশি সমস্যায় পড়ছে। জাহাজের মেইনলাইন অপারেটররা জাহাজভর্তি কন্টেইনার নিয়ে আসায় ট্রানশিপমেন্ট বন্দর থেকে কোন কন্টেইনার নিতে পারছে না। ফলে সমস্যা বাড়ছে।

সিঙ্গাপুর বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, ১৮ হাজার একক কন্টেইনার ধারনক্ষমতার জাহাজগুলো দুই দিন অপেক্ষার পর জেটিতে ভিড়তে পারে কিন্তু এখন সেই জাহাজ পাঁচ থেকে সাত দিন অপেক্ষার পর জেটিতে ভিড়ছে। এরফলে পণ্যের জাহাজ ভাড়া অনেক বেড়ে গেছে।

পোর্ট অফ সিঙ্গাপুর অথরিটি বলছে, কভিডের কারণে বিশ্বব্যাপি কন্টেইনার পরিবহন স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়া; শিপিং সেক্টরে খালি কন্টেইনার সংকট এবং বিভিন্ন বন্দরে কন্টেইনার জমে যায়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি। এই পরিস্থিতি উত্তরণে আমরা সেবার মাশুল কমানোসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। কিন্তু কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে তারা কোন মন্তব্য করেনি।

চট্টগ্রাম-সিঙ্গাপুর রুটে জাহাজ পরিচালনাকারী একটি শিপিং কম্পানির কর্মকর্তা শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, সিঙ্গাপুর বন্দরের জাহাজজট স্বাভাবিক না হওয়ার মাশুল গুনতে হচ্ছে আমাদের। কবে নাগাদ পরিস্থিতির উত্তরন হবে বোঝাই যাচ্ছে না। এর ফলে পণ্য পরিবহনের ভাড়া অনেক বেড়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত এর মাশুল গুনতে হবে ভোক্তাদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here