সাত বছর বহির্নোঙরে থাকার পর নিলামে উঠলে ‘গাগাসান জহর’ জাহাজ

0
662

বিশেষ প্রতিনিধি

সাত বছর পর বিদেশি ট্যাংকার ‘গাগাসন জহর’ জাহাজটি নিলামে বিক্রি করলো আদালত। ২০১৪ সাল থেকে বিভিন্ন পক্ষের একের পর এক মামলায় আটকা পড়ে জাহাজটি বহির্নোঙরে প্রায় স্ক্র্যাপ অবস্থায় পড়েছিল। অবশেষে আদালতের নির্দেশে জাহাজটি নিলামে ৮ কোটি ৬২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। এখন আদালত পানাদারদেরকে এই টাকা বুঝিয়ে দেবে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা জাহাজ এমটি গাগাসন জহরকে আটক রেখেছিলাম। এখন হাইকোটের নির্দেশেই নিলামে প্রাপ্ত মালিককে বুঝিয়ে দিয়েছি।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের পানামা পাতাকাবাহী ‘গাগাসন জহর’ ট্যাংকার জাহাজটি মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাঙ বন্দর থেকে ফার্নেস অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর আসে। আমদানির চেয়ে কম পরিমান ফার্নেস অয়েল থাকার অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা করে আমদানিকারক টি কে গ্রুপ। মামলার পর আদালতের নির্দেশে ‘গাগাসন জহর’ আটক রাখা হয়। এরপর থেকে জাহাজটি বহির্নোঙরে আটকা পড়ে। একবছর পর জাহাজে থাকা নাবিকদের প্রয়োজনীয় খাবার এবং জাহাজ পরিচালনার প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহের দাবিতে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে দ্বিতীয় মামলাটি করেন দক্ষিণ কোরিয়ার ইউনিয়ন ট্রেডিং এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। ওই কোম্পানি বাংলাদেশি ৩২ লাখ ৯০ হাজার টাকা দাবি করে মামলা করে। এর বাইরে জাহাজে পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আরেকটি ক্ষতিপুরন মামলা দায়ের করে। এই অবস্থার মধ্যে দিন পার করছিল জাহাজটি। এরমধ্যে খবর আসে গাগাসন জাহাজের মুল মালিক মালয়েশিয়ান কম্পানিটি দেউলিয়া হয়ে যায়। এরপর থেকে আরো বিপাকে পড়ে জাহাজটি। এই অবস্থার মধ্যে জাহাজে থাকা নাবিকদের পক্ষ থেকে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে মামলা করা হয়।

সর্বশেষ ২০১৬ সালে ২২ মে জাহাজটি বহির্নোঙরে দাঁড়ানাে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ শিপিং কর্পােরেশনের জাহাজ ‌’বাংলার শিখা’ জাহাজটির সাথে ‘গাগাসন জাহাজ’র ধাক্কা লাগে। এরপর শিপিং কর্পােরেশন বাদি হয়ে ক্ষতিপুরণ মামলা দায়ের করে। এই জটিল অবস্থার মধ্যেই আদালত প্রথম মামলার শুনানি শেষে জাহাজটি নিলামে তুলে এবং ৮ কোটি ৬২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। গত ৫ এপ্রিল চট্টগ্রামের সাগরিকার ‘আর এ শিপ ব্রেকিং কোম্পানি’ জাহাজটি নিলামে ক্রয় করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here