সরকারী চালের ৭০ শতাংশই আসছে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে; ছোট জাহাজে আসায় সময়-অর্থ সাশ্রয়

0
76

বিশেষ প্রতিনিধি
সরকারী উদ্যোগে মায়ানমার, ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে জাহাজে সরাসরি আসছে চাল। ছোট জাহাজে উপকূলীয় রুট ধরেই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছছে এসব চাল। কন্টেইনার জাহাজে যেখানে মায়ানমার থেকে চাল আসতে সিঙ্গাপুর ঘুরে আসতে হতো; সেখানে উপকূলীয় জাহাজে সরাসরি পৌঁছছে সরকারী চালের জাহাজ।  ভারতের হালদিয়া থেকে চাল আসছে তিনদিনেই। ছোট জাহাজে চাল পৌঁছায় সময় অর্থ দুটোরই সাশ্রয় হচ্ছে।
হিসাব কষে দেখা গেছে, চালের মজুদ বাড়িয়ে সংকট সামাল দিতে সরকারী উদ্যোগে এখন পর্যন্ত সোয়া ৫ লাখ টন চাল গুদামে পৌঁছেছে। এরমধ্যে তিন লাখ ৫২ হাজার টন চাল এসেছে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে; শতাংশের হিসাবে ৭০ শতাংশ। বাকি চাল এসেছে ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম খাদ্য পরিবহন সংরক্ষন নিয়ন্ত্রক আ ন ম শফিকুল হক বলছেন, সরকারী উদ্যোগে যেসব চালবাহি জাহাজ আসছে সবগুলোই ছোট জাহাজে। এতে আমরা সরাসরি জাহাজটিকে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়াতে পারছি। এতে সময় কম লাগছে। দ্রুত চাল ট্রাকে তুলে গুদামে পৌঁছানো যাচ্ছে। বড় জাহাজ হলে বহির্নোঙরে এসে কিছু চাল লাইটার বা স্থানান্তর করে ওজন কমিয়ে জেটিতে ভিড়ার উপযোগি করতে হতো। এখন সেটির প্রয়োজন হচ্ছে না।
খাদ্য বিভাগের হিসাবে, এখন পর্যন্ত সাড়ে ১১ লাখ টন চাল সরকারীভাবে আমদানির চুক্তি হয়েছে; পৌঁছেছে সোয়া ৫ লাখ টন। বাকি চাল আমদানির পথে আছে। এর বাইরে আরো কয়েক লাখ টন চাল সরকারীভাবে আমদানির প্রক্রিয়া চুড়ান্ত হচ্ছে।
সরকারী আমদানির বাইরে বেসরকারী উদোগেও ব্যবসায়ীরা চাল আমদানি করেছেন; তবে সেগুলো কেবল নিয়ন্ত্রিতভাবেই। বেসরকারী উদ্যোগে সব চাল আসছে কেবল ভারত থেকে এবং বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়েই। এর পরিমান পৌণে ৮ লাখ হাজার টন। গত ১৬ জুন পর্যন্ত হিসাবে সরকারী-বেসরকারী মিলিয়ে মোট চাল পৌঁছেছে ১৩ লাখ টনের বেশি। এরমধ্যে সরকারের গুদামে এখন চালের মজুদ আছে ৯ লাখ ৪০ হাজার টন।
বন্দর জেটিতে চাল ভিড়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরফলে বহির্নোঙরে পৌঁছেই জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারছে। খাদ্য পরিবহন সংরক্ষন নিয়ন্ত্রক আ ন ম শফিকুল হক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের দুটি জেটিতে সরকারী চালের জাহাজ ভিড়েছে; বন্দর কর্তৃপক্ষ জেটিতে জাহাজ ভিড়তে আমাদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আর সরকারীভাবে একটি সাইলো জেটি রয়েছে; সেখানেও চালের জাহাজ ভিড়ছে। তবে সেই জেটিতে ক্রেনসহ আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতি না থাকায় চাল খালাসে একটু সমস্যা হচ্ছে।’
জানা গেছে, সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রনে রাখতে সরকারীভাবে চাল আমদানি শুরু হয় চলতি ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে। প্রথমদিকে কলকাতা থেকে ছোট জাহাজে চাল আমদানি শুরু হয়। এরপর কিছুটা বড় জাহাজে চাল আসে। আমদানির গতি ধীর হওয়ায় পরবর্তীতে কলকাতার বদলে হালদিয়া থেকেই বড় জাহাজে চাল আমদানি শুরু হয়। এরপর থেকে জাহাজে করে চাল আসতে থাকে মায়ানমার ও ভিয়েতনাম থেকে। থাইল্যান্ড থেকেও চাল আনার চুক্তি হয়েছে কিন্তু চালানবাহি জাহাজ এখনো চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here