সমুদ্রগামী জাহাজে কম সালফারযুক্ত জ্বালানী তেল সরবরাহে বাধা কাটলো

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

19 October, 2021 0 Views

0

বিশেষ প্রতিনিধি
সমুদ্রগামী জাহাজে কম সালফারযুক্ত পরিবেশবান্ধব জ্বালানী তেল বিক্রিতে বাধা কাটলো।শুল্কায়ন জটিলতায় প্রায় ৬ মাস এই জ্বালানী তেল আমদানির পরও ছাড় করা যাচ্ছিল না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রজ্ঞাপনের পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন শুল্কমুক্ত হিসেবে এই তেল শুল্কায়ন করছে; এরপরই জাহাজে তেল বিক্রি শুরু হবে।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কেবল বিদেশি সমুদ্রগামী জাহাজে জ্বালানী তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা মিলবে; দেশিয় সমুদ্রগামি জাহাজে শুল্কযুক্ত করেই বিক্রি হবে তেল। এখন থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা বিদেশি সমুদ্রগামী জাহাজে কম সালফারযুক্ত জ্বালানী তেল বিক্রি হবে টনপ্রতি ৩৬৪ মার্কিন ডলার; আর মোঙলা সমুদ্রবন্দরে বিক্রি হবে ২৭৬ মার্কিন ডলার। আর দেশিয় সমুদ্রগািম জাহাজে জ্বালানী তেল বিক্রি হবে টনপ্রতি ৫৭৬ মার্কিন ডলার।

জানতে চাইলে বিপিসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, নতুন প্রজ্ঞাপনে বিদেশি জাহাজে কম সালফারযুক্ত জ্বালানী তেল সরবরাহে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া হয়েছে কিন্তু স্থানীয় জাহাজের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা রাখা হয়নি। এই কারণে বিদেশগামী জাহাজে বাঙ্কারিংয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটন মেরিন ফুয়েল চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৬৪ ডলার এবং মংলায় ৩৭৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু লোকাল জাহাজে শুল্কযুক্ত থাকায় প্রতিটনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭৬ ডলার। সে হিসেবে প্রতিলিটারের দাম ধরা হয়েছে ৪৫ টাকা হিসেবে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজে জ্বালানি তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সালফারের মাত্রা দশমিক ৫ শতাংশের নিচে রাখতে হবে- পাঁচ বছর আগে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) এই নির্দেশনা দিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, জাহাজে পণ্য পরিবহনে সমুদ্রদূষণ কমিয়ে আনা। পাঁচ বছর ধরে প্রস্তুতির জন্য বিশ্বের বন্দরগুলোকে সময় দিয়েছে আইএমও। এরপর গত ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সেই নির্দেশনা বাধ্যতামূলক করা হয়।

বাংলাদেশে আসা জাহাজে জ্বালানি তেল সরবরাহ করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের অধীন সংস্থা। কিন্তু তাদের কাছে এখন ৩.৫০ শতাংশ সালফারযুক্ত জ্বালানি তেল আছে; আইএমওর নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এই জ্বালানি তেল এখন সমুদ্রগামী জাহাজে ব্যবহার করা যাবে না। আইএমওর নির্দেশনা মেনে জ্বালানী তেল আনতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন মিটিংয়ের পর মিটিং করে আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের শুরুতে দেড় লাখ টন মেরিন ফুয়েল আমদানির পদক্ষেপ নেয় বিপিসি। ৭৫ হাজার টন ‌’উন্মুক্ত দরপত্রের’ মাধ্যমে এবং ৭৫ হাজার টন ‘জি টু জি’ পর্যায়ে আমদানি হবে। প্রথম ধাপে ১৫ হাজার টন লো-সালফার মেরিন ফুয়েল আমদানি করা হয়। সদ্য সমাপ্ত ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর থাই জাহাজ ‘এমটি টিএমএন প্রাইড’-এ আসা এসব মেরিন ফুয়েল ১৬ সেপ্টেম্বর পদ্মা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েল কোম্পানির বন্ডেড ট্যাংকে খালাস নেওয়া হয়। খালাসের পর এসব জ্বালানী তেল কাস্টমস ছাড়পত্র নিতে গেলে বিপত্তি তৈরি হয়। কারণ দশমিক ৫ শতাংশের কমসালফারযুক্ত জ্বালানী তেল আমদানিতে কাস্টমসে শুল্কমুক্ত সুবিধা নেই; তাই অনুমতি মিলেনি কাস্টমস থেকে। এই অবস্থায় সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫ মাস আটকা পড়ে এই জ্বালানী তেল। পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বৈঠকে বসে বিষয়টি সমাধান করে। পরবর্তীতে অর্থমন্ত্রণালয় বিদেশি জাহাজের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা রেখে স্থানীয় জাহাজে তেল সরবরাহের শুল্কযুক্ত সুবিধায় মেরিন ফুয়েল বিপণনের বিষয়ে নীতিমালা সংশোধের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই ধারাবাহিকতায় নতুনপ্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *