শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরে

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

20 October, 2021 1 Views

1

বিশেষ প্রতিনিধি

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনার নিয়ে আবারো উদ্বেগ বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরে।  বন্দরে শীতাতপ নিন্ত্রিত ফলভর্তি কন্টেইনার রাখার ব্যবস্থা আছে ১৭৮২টি; কিন্তু ইয়ার্ডে এই ধরনের কন্টেইনার জমে গেছে ১৯৭৪ একক কন্টেইনার। ফলে বাড়তি কন্টেইনার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বন্দরে।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনারে পণ্য রাখা হয় নির্দিষ্ট তাপমাত্রায়; পণ্য বোঝাইয়ের পর থেকে জাহাজে রাখা, এরপর ইয়ার্ডে নামানো এবং বন্দর থেকে ডেলিভারি পর্যন্ত নির্ধারিত তাপমাত্রা অটুট রাখয়তে হয়। এজন্য জাহাজ হোক কিংবা বন্দর সবখানেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত সংযোগ দিয়ে কন্টেইনারগুলাের শীতাতপ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা সচল রাখতে হয়। ধারনক্ষমতার অতিরিক্ত কন্টেইনার জমে যাওয়ায় এসব কন্টেইনার রাখতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের লকডাউনের সময়ও একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। ইয়ার্ডে এই ধরনের কন্টেইনার রাখার স্থান দিতে না পারায় জাহাজ ভিড়ানো সীমিত করতে হয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষকে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনার ভর্তি জাহাজগুলোকে বাড়তি সময় বহির্নোঙরে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল। এবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে আগেভাগেই আমদানিকারকদের চিঠি দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। একইসাথে অনেকদিন ধরে পড়ে থাকা এই ধরনের ফলভর্তি কন্টেইনার নিলামে তোলার জন্য চিঠি দিয়েছে কাস্টমসকে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলছেন, আমরা চাই না গতবছরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক; তাতে সবাই বিপাকে পড়েন। তাই যাদের কন্টেইনার অনেকদিন ধরে বন্দর ইয়ার্ডে পড়ে আছে, তাদেরকে সাপ্তাহিক বন্ধের দিনসহ দ্রুত ছাড় নিতে চিঠি দিয়েছি।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বন্দরে ফেলে রাখা ফলভর্তি সাড়ে তিনশ একক কন্টেইনার নিলামে তোলার জন্য চট্টগ্রাম কাস্টমসকে চিঠি দিয়েছি।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বা রেফার কন্টেইনার রাখা যায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭৮২টি। অর্থ্যাৎ এই পরিমান কন্টেইনারে একসাথে বিদ্যুত সংযোগ দিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা সচল রাখা যায়। কিন্তু গত একমাস ধরে যে পরিমান কন্টেইনার জাহাজ থেকে নামছে সেই পরিমান বন্দর থেকে ছাড় নিচ্ছেন না আমদানিকারক। ফলে ইয়ার্ডে কন্টেইনার জমে গেছে।
কন্টেইনার ইয়ার্ডে জমা রাখার পেছনে আমদানিকারকরা নানা অজুহাত দিচ্ছেন। এতে বন্দরে পণ্য উঠানামায় জটিলতা তৈরী হচ্ছে। ক্ষতির মুখে পড়ছে শিপিং লাইনগুলো।
জানতে চাইলে পিআইএল বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ জহীর শিপিং এক্সপ্রসকে বলছেন, আমদানিকারকরা পণ্য ইয়ার্ডে এনে মাসের পর মাস রেখে দেন আর নিলাম বা পণ্য ধ্বংস করার পর লাখ লাখ টাকা বিদ্যুত বিল আমাদেরকে পরিশোধ করতে হয়। অথচ বন্দরে পণ্য ফেলে রাখার জন্য আমরা কোনভাবেই দায়ী নই।
তিনি বলেন, একটি কন্টেইনার পণ্য নামিয়ে খালি করে দিলে ফিরতি পথে রপ্তানি পণ্য নিয়ে চলে যাবে। কিন্তু মাসের পর মাস ফেলে রাখার জন্য আমরা তো কোন মাশুল পাচ্ছি না উল্টো আমাদেরকেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *