লোক দেখানো বলছে মার্চেন্ট মেরিন এসোসিয়েশন – বিএসসি’র জাহাজ দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটি

অপরাধীরা থেকে যাবেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

30 June, 2022

Views

ইউক্রেনে অলভিয়া বন্দরে বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সরকারী জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’র দুর্ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। সাত সদস্যের এ কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব তোফায়েল ইসলামকে। গত ২০ মার্চ এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও বিষয়টি গত ৩১ মার্চ প্রকাশ পায়।
সাত সদস্যের কমিটিতে দুজনই বিএসসি’র কর্মকর্তা। বাকি যে কয়েকজন সদস্য আছেন তাদের মধ্যে বুয়েটের সহযোগী অধ্যাপক ব্যতীত অন্যান্য সদস্যরা সরকারি কর্মচারী। তদন্ত কমিটির প্রধানের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার তাদের সুযোগ কম। দাবি থাকলেও মেরিনারদের সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স এসোসিয়েশনের কাউকে সদস্য রাখা হয়নি।

কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে আছেন, বিএসসি’র কোম্পানি সচিব মুহম্মদ আশরাফ হোসেন যিনি একজন উপসচিব। এ ছাড়া বিএসসির ওয়ার্কশপের মহাব্যবস্থাপক আহসান-উল করিম এবং নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের চিফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার, নৌ বাণিজ্য দপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার, চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমির চিফ ইঞ্জিনিয়ার, বুয়েটের নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপককে রাখা হয়েছে। কমিটি চাইলে একাধিক সদস্যকে প্রয়োজনে কো অপট বা নিয়োগ দিতে পারবে।
তদন্ত কমিটিকে আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সে হিসেবে ১ মে’র মধ্যেই তদন্ত প্রতিদেবন জমা দিতে হবে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, এটা আমার কাছে লোকদেখানো কমিটি মনে হয়েছে। কারণ তদন্ত কমিটিতে ইন্ডিপেনডেন্ট বা বিশেষজ্ঞ সদস্য রাখা হয়নি। ফলে অতীতের তদন্ত কমিটিগুলোর মতোই হবে। মেরিটাইম সেক্টরের কোন সুফল বয়ে আনবে না।
তিনি বলেন, বিএসসি’র তদন্তর করতে তাদের ভুল শোধরানোর অভিজ্ঞ-দক্ষ সদস্য থাকতে হবে।

তদন্ত কমিটির কার্যপরিধির বিষয়ে বলা হয়েছে ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজ আগের বন্দর থেকে অলভিয়া বন্দরে যাত্রার আগে বা যাত্রাকালে বিএসসি বা চার্টারিং কোম্পানির কাছ থেকে যাত্রার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চেয়েছিল কি না। যদি চাওয়া হয় সেক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা সতর্কতা জারির পরও জাহাজটিকে অলভিয়া বন্দরে পাঠানো এড়ানোর সুযোগ ছিল কি না। এ ছাড়া কমিটিকে এ কাজে দায়দায়িত্ব নির্ধারণ ও ভবিষ্যতে এ ধরণের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।
গত ২ মার্চ অলভিয়া বন্দরে গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মালিকানাধীন ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজটি। জাহাজে ২৯ জন নাবিক-ক্রু ছিলেন। হামলার ঘটনায় জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান নিহত হন।

শিপিং সংশ্লিষ্টরা বলছেন “এটি ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের কমিটি নয় এটি ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার তদন্ত কমিটি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অথ্যাৎ আমলাদের ব্যর্থতা খুঁজে বের করতে আমলাদের দিয়ে কমিটি করা হয়েছে অতএব এতে রাষ্ট্রের এত বড় ক্ষতির পিছনে দায়ীদের চিহ্নিত করা যাবে না, অপরাধীদের বাঁচিয়ে দেয়া হবে। বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স এসোসিয়েশন এর প্রতিনিধি রাখা প্রয়োজন ছিল কিন্তু রাখা হয়নি কারণ এতে করে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেয়া যাবে না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.