লালদিয়া চর চট্টগ্রাম বন্দরের থাকবে নাকি লীজ দেয়া হবে?

0
694

বিশেষ প্রতিনিধি

তিনদফা অবৈধ উচ্ছেদের পর লালদিয়া চর এলাকার মোট ৭৮ একর জমি দখলে নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ গত১ মার্চের অভিযানে ৫২ একর জমি উচ্ছেদ করে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কর্ণফুলী নদীর পাড় ঘেঁষে সবচে মূল্যবান এই জমি দুই ভাগে বিভক্ত। হাজার কোটি টাকা দামী এই জমি শেষ পর্যন্ত বন্দর কর্তৃপক্ষ বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে লীজ দিব বলে কানাঘুষা চলছে।

যদি বন্দর চেয়ারম্যান সরাসরি বলেছেন, এই জমি কাউকেই লীজ দেয়া হেব না। পাশে নির্মিতব্য পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) এর কন্টেইনার রাখার ইয়ার্ড হিসেবে ব্যবহৃত হবে এই লালদিয়া চরের জমি। কিন্তু বন্দরের এই বক্তব্যে আশ্বস্ত নন স্থানীয় এবং বন্দর ব্যবহারকারীরা।

তাদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এর আগে ঘটা করে লালদিয়া চরের আরেক অংশে বিশাল উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিল; তখনকার বন্দর ম্যাজিস্ট্রেট মুনীর চৌধুরী এই সাহসী অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ সমাপ্ত করেছিলেন। ‌ব্যাপক বাধার পর জমিটি বন্দরের দখলে চলে এসেছিল। কিন্তু বেশ কবছর পর অপেক্ষার পর সেই জমি লীজ দিয়ে দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। এফবিসিসিআই সাবেক সভাপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনকে বেসরকারী কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মানের জন্য বন্দরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জমি লীজ দেয়া হয়। এখন সেই জমিতে গেড় উঠেছে ‘ইনকনট্রেড ডিপো’। আর এই ডিপোর পাশাপাশিই রয়েছে লালদিয়া চরের উচ্ছেদকৃত জমি।

জানতে চাইলে বন্দর সচিব ওমর ফারুক শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, আগামী জুনে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের নির্মান শেষ হবে। এরপর সেই টার্মিনালে পণ্য উঠানামা শুরু হবে। টার্মিনালটির কন্টেইনার রাখার জন্য লালদিয়া চরের জমিটি ব্যবহৃত হবে। বিকল্প চিন্তা নেই।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, ইনকনট্রেডের জমিতেই আমেরিকান এসএস পোর্ট করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু চট্টগ্রামবাসীর আন্দােলনের কারণে উদ্যােগ ভেস্তে যায়। পরে সেই জমিটি লীজ দেয়া হয় ‘ইনকনট্রেড ডিপো’কে। ফলে একই ঘটনার পুণরাবৃত্তি ঘটবে এতে কোন সন্দেহ নেই। শুধু সময়ের অপেক্ষা।

বন্দরের এক সাবেক কর্মকর্তা বলছেন, লালদিয়া চরে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ (পিপিপি) ভিত্তিতে যে মাল্টপারপাস টার্মিনাল করার পরিকল্পনা ছিল সেটি স্থগিত করা হয়েছে। পতেঙ্গা কন্টেইনরা টার্মিনাল নির্মানের পর এবং বে টার্মিনাল নির্মিত হলে কর্ণফুলী নদীর পাড় ঘিরে আর কোন জেটি-টার্মিনালের প্রয়োজন নেই বন্দরের। কিন্তু বেসরকারী কোন প্রতিষ্ঠান এই জমি ঘিরে পেট্রোকেমিক্যাল, এলপিজি জাতীয় উৎপাদনকারখানা গড়ে তুলতে পারবে অনায়াসেই। ফলে বন্দর শেষ পর্যন্ত কাকে লীজ দেয় সেটিই দেখার বিষয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here