লকডাউন বাড়ছে, বন্দরে ডেলিভারি কমছে

0
706

বিশেষ প্রতিনিধি
এপ্রিলের শুরুতে প্রথম দফা অলিখিত লকডাউন এরপর গত ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া কঠোর লকডাউনের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য উঠানামা, জাহাজ আসা-যাওয়া সবকিছুই স্বাভাবিক চলছিল। বন্দর থেকে আমদানি পণ্য ডেলিভারি নেয়া স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কমলেও স্বস্তিতে ছিল বন্দরের পরিবহন বিভাগ।
বন্দরের পরিবহন বিভাগ বলছিল, কঠোর লকডাউনে দিনে ৩ হাজার একক কন্টেইনার ডেলিভারি নিলেই আমরা সন্তুষ্ট। স্বাভাবিক সময়ে ডেলিভারি হয় দিনে ৪ হাজার একক কন্টেইনার। কিন্তু লকডাউনের সময় যতই বাড়ছে, ততই পণ্য ডেলিভারি নেয়ার গতি কমেছে। এরফলে উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে বন্দরে। উদ্বিগ্ন বন্দর কর্তৃপক্ষ স্বস্তি ধরে রাখতে শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে দ্রুত পণ্য ডেলিভারি নেয়ার তাগাদা দিয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, আমরা ২৪ ঘন্টা সচল আছি, দিন-রাত পরিশ্রম করছি যাতে এক মুহুর্তের জন্য বন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে ব্যাঘাত না ঘটে। এই অবস্থায় আমদানিকারক যদি পণ্য ডেলিভারি না নিয়ে বন্দর ইয়ার্ডে ফেলে রাখেন তাহলে তো কোন সুফল মিলবে না।
তিনি বলছেন, এমনিতেই রমজানে কাজের সময় থাকে। ফলে পণ্য উঠানামা পরিচালনার জন্য সময় স্বাভািবক সময়ের চেয়ে কম পাই। এরপর নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে সময়কে সেভাবে ভাগ করে কাজে লাগাচ্ছি। এখন বন্দর ব্যবহারকারী যদি সমানভাবে সাড়া না দেন তাহলে আমাদের উদ্বেগ বাড়া খুব স্বাভাবিক। এজন্য সবাই চিঠি দিয়ে দ্রুত পণ্য ডেলিভারির তাগাদা দিয়েছি।
জানা গেছে,স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে দিনে গড়ে ৪ হাজার একক কন্টেইনার পণ্য ডেলিভারি হয়। ১৪ এপ্রিল লকডাউন শুরুর পর প্রায় ৩ হাজার ৯শ একক কন্টেইনার ডেলিভারি হলেও ধারাবাহিকভাবে সেটি কমতে থাকে। ১৬ এপ্রিল ৩ হাজার ৫৯৮ একক, ১৭ এপ্রিল ৩ হাজার একক, ১৮ এপ্রিল ৩ হাজার ৩৫০ একক এবং সর্বশেষ ১৯ এপ্রিল কাঙ্খিত লক্ষমাত্রা থেকে কমে আড়াই হাজার এককে নেমে আসে। এই অবস্থায় উদ্বিগ্ন বন্দর আগেভাগেই সবাইকে চিঠি দিয়ে দ্রুত পণ্য ছাড় নিতে তিনদিনের সময় বেঁধে দেয়। বিশেষকরে কন্টেইনার ডিপোগুলোকে বিশেষ ব্যবস্থায় নিজেদের কন্টেইনার বন্দর থেকে ছাড় নিতে তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়ে ১৭ এপ্রিল চিঠি দেয় বন্দরের পরিবহন বিভাগ।
জানতে চাইলে শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের নতুন নির্বাচিত পরিচালক আবদুল্লাহ জহীর শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, আমরা বন্দরের চিঠি পেয়েছি। সেখানে বন্ধের দিন এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিন ডেলিভারি অর্ডার ইস্যূ করে দ্রুত পণ্য ডেলিভারি নিতে বন্দরকে সহায়তার জন্য বলা হয়েছে। আমরাও সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি বন্দরের আহবানে সাড়া দিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here