লকডাউনে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবহারকারীদের সহযোগিতা চাইলো চট্টগ্রাম বন্দর

0
551

বিশেষ প্রতিনিধি

‘কঠোর’ লকডাউনের সময় নিত্যপণ্য বন্দর থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বন্দর ব্যবহারকারীদের সহযোগিতা চেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। কারণ চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ২৪ ঘন্টা সাতদিন খোলা থাকলেও বন্দর ব্যবহারকারী যদি কাজ না করেন তার সুফল পাওয়া যায় না। গত বছরের লকডাউনেও বন্দর ব্যবহারকারী সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সচল না হওয়ায় পণ্য ছাড় নিতে চরম বিপাকে পড়েছিল ব্যবসায়ীরা।

এদিকে কঠোর লকডাউনেও চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালন ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের প্রতিটি বিভাগ কিভাবে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ সম্পন্ন করবে তারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলছেন, ঈদের নামাজের বিরতি ছাড়া বন্দরের পরিচালন ব্যবস্থা এক মুহুর্তের জন্য বন্ধ থাকে না। ফলে আমরা সপ্তাহে সাতদিন এবং দিনে-রাতে ২৪ ঘন্টা খোলা থাকলেও বন্দর ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সমানভাবে সক্রিয় না থাকে তাহলে তো সুফর মিলবে না। এজন্য আমরা আগেভাগেই চিঠি দিয়ে তাদের সবার সহযোগিতা চেয়েছি। তাদের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করছে আমাদের পরবর্তী পারফরম্যান্স।

তিনি বলছেন, কঠোর লকডাউনের মাঝেও চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন করতে আমরা প্রত্যেকের কাজ নতুন করে বন্টন করেছি। রমজানের নিত্যপন্য বন্দর থেকে ডেলিভারি নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২০২০ সালের লকডাউন শুরুর পর এক ধরনের বিশৃঙ্খলা ছিল। প্রথমদিকে পণ্যবাহি গাড়ি চলাচলেও জটিলতায় পড়তে হয়েছিল। শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকায় আমদানি পণ্য বন্দরে পড়েছিল; কারখানা বন্ধ থাকায় রপ্তানি পণ্য বন্দরেই আনা যায়নি। কাস্টমসের কাজ সীমিত করে ফেলায় সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানগুলো অধিকাংশই বন্ধ ছিল। একেবারে সীমিত পরিসরে কাজ করেছে শিপিং লাইন অফিসগুলো; সরকারের বিএসটিআই, উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর, আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রক দপ্তর এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক বন্ধ থাকায় বন্দর পরিচালন কার্যক্রম ভেঙে পড়েছিল। এতে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল বন্দর ব্যবহারকারীদের। পরে অবশ্য সেই অবস্থান থেকে সরকার সরে আসে। শিল্প-কারখানা চালুর পর বন্দর পরিস্থিতির উন্নতি হয়। এবার অবশ্য আগেভাগে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত আসায় তেমন জটিলতায় পড়তে হবে বলে মনে হয় না।

জানতে চাইলে শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশন পরিচালক মুনতাসির রুবাইয়াত বলছেন, এবার আগেভাগে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আসায় প্রত্যেক বন্দর ব্যবহারকারী নিজের মতো প্রস্তুতি নিতে পেরেছেন। আর নৌ বাণিজ্য দপ্তর থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে লকডাউনে চলাচলে কোন বাধা নেই; ফলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের সাথে সংশ্লিষ্টদের জটিলতায় পড়ার সুযোগ নেই। আগামীকাল বুধবার প্রথমদিনের পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here