রিক্যাপ রিপোর্ট –

২০২১ সাল দস্যুতামুক্ত ছিল চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমা

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

19 May, 2022

Views

আরো একটি দস্যুতামুক্ত সফল বছর পার করল দেশের প্রধান চট্টগ্রাম বন্দর। ২০২১ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৪ হাজারের অধিক পণ্যবাহি জাহাজ জেটিতে প্রবেশ করেছে; সম পরিমান জাহাজ বহির্নোঙরে প্রবেশ করে পণ্য খালাস করেছে কিন্তু কোন জাহাজেই দস্যুতার ঘটনা ঘটেনি। ২০২১ সালের রিক্যাপ রিপোর্টে সেই দস্যুতামুক্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে গতকাল ১৮ জানুয়ারি রাতে। এতে বাংলাদেশের অর্জনের ভুয়সী প্রশংসা করে বলা হয়েছে, জলসীমায় তদারকি এবং টহল বাড়ানোর কারণেই এই সাফল্য।
বাণিজ্যিক জাহাজে সংঘটিত সশস্ত্র ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরি প্রতিরোধে কাজ করে আন্তর্জাতিক সংগঠন রিক্যাপ। ২০২১ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ১২ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের এমন সাফল্য ধরা দিয়েছে কেবল দুইবার। একবার ২০১৯ সালে; এবার ২০২১ সালে। সেই দুই বছরই দস্যুতামুক্ত ছিল চট্টগ্রাম বন্দর। অথচ এর আগে-পরে অসংখ্য দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। যেগুলোর কারণে চট্টগ্রাম বন্দরমুখি পণ্যবাহি জাহাজকে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরকে ‘পাইরেসি বন্দরের’ তকমা লাগানোর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো এখন অতীত।

বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২১ সালে দস্যুতামুক্ত করা চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল।প্রথমত চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমা এখন সীতাকুন্ড থেকে সোনাদিয়া পর্যন্ত ৫০ নটিক্যাল মাইল; সেই বিশাল সীমানার নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আগের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি জাহাজ আসা সব মিলিয়ে বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ পর্যন্ত সফলভাবে করতে সক্ষম হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।
চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, ‘বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বাড়তি জলসীমায় দস্যুতার ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনা। চলতি নয় মাসে দস্যুতার ঘটনা না ঘটায় আমরা আত্মতৃপ্ত হইনি। নজরদারিতে এক চুল ছাড় দিইনি। নৌ বাহিনী, কোস্ট গার্ড চট্টগ্রাম বন্দর এই তিনপক্ষের সম্মিলিত চেষ্টায় এই সফলতা ধরে রাখতে চাই।

রিক্যাপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় বিগত ১২ বছরের মধ্যে ২০১৯ সালেই কেবল দস্যুতার ঘটনা শূন্যে নেমেছে। এর আগে ২০১০ সালে সর্বোচ্চ ২১টি, ২০১১ সালে ১৪টি, ২০১২ সালে ১২টি, ২০১৫ সালে ১০টি, ২০১৬ সালে একটি, ২০১৭ সালে ১১টি এবং ২০১৮ সালে ৯টি দস্যুতা-চুরির ঘটনা ঘটে।
বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, দেশের বহির্নোঙর ও জলসীমায় আসা জাহাজে চুরি-দস্যুতা-ডাকাতির ঘটনা বাড়লে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পণ্য পরিবহনে বাড়তি জাহাজ ভাড়া আরোপ করে বিদেশি জাহাজ মালিক ও শিপিং লাইনগুলো; এতে বিপাকে পড়তে হয় দেশীয় আমদানি-রপ্তানিকারকদের। আর বাংলাদেশমুখী রুটে জাহাজ ভাড়া দিতে চায় না বিদেশি জাহাজ মালিকরা। ১২ বছরের মধ্যে এই প্রথম উদ্বেগ কাটিয়ে স্বস্তিতে আছে বন্দর ব্যবহারকারীরা।

বিদেশি শিপিং লাইন গ্যালাক্সি বাংলাদেশের (জিবিএক্স) হেড অব অপারেশনস মুনতাসির রুবাইয়াত বলেন, ‘বিশ্ব প্রেক্ষিত চিন্তা করলে বাংলাদেশ জলসীমায় জাহাজে যেসব ঘটনা ঘটত সেগুলো একেবারেই নগণ্য। এমন ছোট্ট ঘটনায়ও আমাদের বিপাকে পড়তে হতো। বন্দর, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সমন্বিত প্রয়াসে এখন ছোট্ট চুরির ঘটনায়ও তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এতে নিরাপদ বন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি বিশ্বে উজ্জ্বল হবে সন্দেহ নেই। এর ধারাবাহিকতা রক্ষার কোন বিকল্প নেই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.