রপ্তানি পণ্য পরিবহনে মায়ের্কস লাইনের অতি নির্ভরতাই কাল হলো রপ্তানিকারকদের

0
3529

বিশেষ প্রতিনিধি
রপ্তানি পণ্য পরিবহনে বিদেশি শিপিং কম্পানি মায়ের্কস লাইনের অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতাই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের রপ্তানিকারকদের জন্য। বিদেশি ক্রেতারা কোন বাছবিচার না করেই একচেটিয়াভাবে মায়ের্কস লাইনকে পণ্য পরিবহনের দায়িত্ব দেয়ায় এখন ভুগতে হচ্ছে। এর মাশুল গুনছেন দেশের গার্মেন্ট মালিকরা।
গার্মেন্ট মালিকদের অবস্থান এতটাই শোচনীয় তারা মায়ের্কস লাইনকে বাদ দিয়ে অন্য লাইন দিয়ে পণ্য পরিবহনের সুযোগ থাকলে তা নিতে পারছে না। কারণ বিদেশি ক্রেতার নমিনেটেড শিপিং কম্পানি হচ্ছে মায়ের্কস। আর এই কম্পানির সাথে রপ্তানি পণ্য পরিবহনের বার্ষিক চুক্তি আগে থেকেই করে রেখেছে বিদেশি ক্রেতা বা ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা । ফলে চুক্তি বাতিল করে অন্য শিপিং লাইন দিয়ে দ্রুত পণ্য রপ্তানি করতে পারছে না গার্মেন্ট মালিকরা। গার্মেন্ট মালিকরা মায়ের্কস লাইনকে ছাড়তেও পারছে না, আবার গিলতেও পারছে না।
জানতে চাইলে গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ প্রথম সহ সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলছেন, রপ্তানি পণ্য পরিবহনে বিদেশী ক্রেতা কর্তৃক শিপিং কোম্পানি মায়ের্কস লাইন-এর নিকট অতিরিক্ত বুকিং প্রদান এবং তা পরিবহনে চট্টগ্রাম-কলম্বো রুটে উক্ত লাইনের পর্যাপ্ত ফিডার না থাকার কারণে বর্তমানে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। তা দ্রুত নিরসনে অন্যান্য শিপিং লাইনের মাধ্যমেও রপ্তানি পণ্য পরিবহন করার দাবি জানিয়েছি। আমরা খুব শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে বিদেশী ক্রেতাদের নিকট উপস্থাপন করবো।
বিজিএমইএ এই নেতা বলছেন, রপ্তানি পণ্য চালান হ্যান্ডলিং-এর জন্য কয়েকটি প্রাইভেট আইসিডি’র উপর নির্ভরতা কমিয়ে অন্যান্য প্রাইভেট আইসিডিতেও কার্যক্রম সম্পাদনে শিপিং লাইনকে নির্দেশনা প্রদানের জন্য পোশাক রপ্তানিকারকদের পক্ষে বিজিএমইএ বিদেশি ক্রেতাদের প্রতিনিধি বায়ার্স ফোরামের নিকট বিষয়টি উত্থাপন করবে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে সিঙ্গাপুর, পোর্ট কেলাঙ, তানজুম পেলিপাস বন্দরে রপ্তানি পণ্য পরিবহন করে থাকে। আর আমদানি পণ্য সরাসরি নিয়ে আসে চীনের একাধিক বন্দর থেকে। এই রুটে পণ্য পরিবহনের জন্য তাদের ১২টি ফিডার জাহাজ আছে। কিন্তু চট্টগ্রাম-কলম্বো রুটে আশ্চর্যজনকভাবে তাদের জাহাজ পরিচালনাকারী এমসিসি লাইনের কোন ফিডার জাহাজ নেই।
চট্টগ্রাম বন্দরের হিসাবে, বেসরকারী কন্টেইনার ডিপোতে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৫ হাজার ৩১৪ একক রপ্তানি কন্টেইনার পড়ে আছে। এরমধ্যে ৭০ শতাংশই কন্টেইনারই মায়ের্কস লাইনের। আর ডিপোতে আটকে থাকা ৭০ শতাংশ রপ্তানি কন্টেইনারই কলম্বো বন্দরমুখি। কিন্তু এই রুটে তাদের কোন ফিডার জাহাজ নেই। মায়ের্কস লাইন এই রুটে রপ্তানি পণ্য পরিবহনের জন্য সী কন, ওইএল এর মতো তৃতীয় কোন জাহাজ কম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।
গত সোমবার বন্দরের সাথে বৈঠকে চট্টগ্রাম-কলম্বো রুটে এত পণ্য আটকে থাকার পর মায়ের্কস লাইনের নিজস্ব না থাকার জন্য কৈফিয়ত চাওয়া হয় কিন্তু বারবারই মায়ের্কস লাইনের কর্তারা বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
জানতে চাইলে মায়ের্কস লাইনের কর্মকর্তা তানিম শাহরিয়ারকে ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি। ফের তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here