মোংলা থেকে আসাম-মেঘালয় যাবে ভারতের ট্রানজিট পণ্য

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

28 November, 2022

Views

ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্য নিয়ে প্রথমবার মোংলা সমুদ্রবন্দরে ভিড়লো একটি জাহাজ। বাংলাদেশী পতাকাবাহী ‘এমভি রিশাদ রায়হান’ নামে সেই জাহাজটি বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে নোঙর করে। জাহাজটি পণ্য নিয়ে এসেছে ভারতের কলকাতা সমুদ্রবন্দর থেকে। মোংলা বন্দরে পণ্য নামিয়ে একটি চালান সিলেটের তামাবিল সড়কপথ এবং কুমিল্লা-বিবিরবাজার সড়কপথ ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্য উত্তর-পূর্ব রাজ্য আসাম ও মেঘালয়ে নেয়া হবে। বাংলাদেশি এই জাহাজে পণ্যবাহী দুটি কনটেইনারের একটিতে ৭০ প্যাকেজে ১৬ দশমিক ৩৮০ টন লোহার পাইপ এবং অন্যটিতে ২৪৯ প্যাকেটে ৮ দশমিক ৫ টন প্রিফোম রয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী এই দুই কনটেইনার ট্রানজিট পণ্য হিসেবে পরিবহন হচ্ছে। জানতে চাইলে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, মোংলা বন্দরের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে আজ একটি মাইলফলক সৃষ্টি হলো। এর ফলে বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় পণ্য সরবরাহ করতে দুই দেশের মধ্যে ২০১৮ সালের অক্টোবরে চুক্তি হয়েছিল। করোনা মহামারিসহ নানা জটিলতায় গত চার বছরে এ চুক্তির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২১ জুলাই কলকাতার শ্যামপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর থেকে ট্রানজিটের প্রথম একটি চালান চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। চালানটি পরে সড়কপথে ভারতের ত্রিপুরায় নেয়া হয়, যাতে ছিল রড ও মসুর ডাল। এরপর থেকে আর আগায়নি এই ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তি। দুই বছর পর সর্বশেষ ৮ আগস্ট একটি পরীক্ষামূলক চালান মোংলা বন্দরে পৌঁছলো।
কলকাতার হলদিয়া বন্দর থেকে ১ আগস্ট ছেড়ে আসা জাহাজটির পণ্য মোংলা বন্দর জেটিতে খালাসের সময় ভারতের সহকারী হাইকমিশনার ইন্দ্রজিৎ সাগর, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা, সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ তরফদার, মোংলা কাস্টম হাউজের কমিশনার মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। জেটি পরিদর্শন শেষে মোংলা বন্দর সভাকক্ষে আলোচনাসভা হয়।

সেখানে ভারতের সহকারী হাইকমিশনার ইন্দ্রজিৎ সাগর বলেন, ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল রুটে অভ্যন্তরীণ নৌপথ ব্যবহার করে ব্যবসায়িক গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনীতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নে আরো ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ২০২২ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ১৩তম ভারত-বাংলাদেশ জয়েন্ট গ্রুপ অব কাস্টমস (জেএসসি) বৈঠকের পর ট্রায়াল রান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তারই প্রথম ট্রায়ালের পণ্য মোংলা বন্দর দিয়ে খালাস ও পরিবহন শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.