মাতারবাড়ী ১৪ কিলোমিটার চ্যানেল পাড়ি দিতে লাগলো ২ ঘন্টা ২০ মিনিট

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

18 October, 2021 0 Views

0

বিশেষ প্রতিনিধি
মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দরের জন্য নির্মিত ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল বা প্রবেশপথ দিয়ে জাহাজ প্রবেশ করে কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের জেটি পর্যন্ত পৌঁছতে জাহাজের সময় লেগেছে ২ ঘন্টা ২০ মিনিট। গতকাল ২৯ ডিসেম্বর প্রথমবার ‌’ভেনাস ট্রায়াম্প’ নামের বিদেশি পণ্যবাহি জাহাজটি মাতারবাড়ীতে বঙ্গােপসাগর থেকে জেটি পর্যন্ত চালিয়ে নিয়ে যান বন্দরের সিনিয়র পাইলট ক্যাপ্টেন একেএম রহমত উল্লাহ। সকাল আটটায় রওনা দিয়ে তিনি জেটিতে পৌঁছান ১০টা ২০ মিনিটে।

জানতে চাইলে মাতারবাড়ীতে জাহাজ ভিড়ানোর কাজ সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম বন্দরের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আতাউল হাকিম সিদ্দিকী শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, ‌‌’ভেনাস ট্রায়াম্প’ জাহাজটি বন্দর জলসীমায় পৌঁছেছে সকাল ৭টায়; আমরা আগে থেকেই পাইলটিংয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলাম। সকাল আটটায় পাইলট জাহাজে উঠেন বা অনবোর্ড হন। এরপর জাহাজটি মাতারবাড়ী চ্যানেল দিয়ে কয়লা বিদ্যুত কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে এবং সকাল ১০টা ২০ মিনিটে জাহাজটি সফলভাবে জেটিতে পৌঁছে।
বাড়তি সময় লাগার কারণ হিসেবে তিনি বলছেন,  প্রথমবার মাতারবাড়ী চ্যানেল দিয়ে জাহাজ ঢুকছে ফলে একটু বাড়তিই সতকর্তা নিতে হয়েছে। টাগবোটগুলো স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ধীরে চলেছে। আর কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের জাপানী নির্মানকারীদের প্রস্তুতির কারণে একটু দেরিতে আসার তাগাদা ছিল।
তিনি বলছেন, ১৪ কিলোমিটার চ্যানেল পাড়ি দিতে ২ ঘন্টা ২০ মিনিট সময় লেগেছে; আগামীতে এটি দেড়ঘন্টায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের পাইলট বোর্ডিং পয়েন্ট থেকে বন্দর জেটি পর্যন্ত দুরত্ব ১৩ কিলোমিটার; এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘন্টা। তবে চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেল আঁকাবাঁকা এবং জোয়ারের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। কিন্তু মাতারবাড়ী চ্যানেলের গভীরতা বেশি এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক নেই। চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেল দিয়ে জাহাজ প্রবেশে জোয়ারের স্রোত জাহাজ চলাচলের সহায়ক ভূমিকা পালন করে কিন্তু মাতারবাড়ী চ্যানেল কৃত্রিমভাবে তৈরী; তাই সেখানে স্রোত নেই। ফলে টাগবোট এবং জাহাজের ইঞ্জিন দিয়েই জাহাজকে চলতে হয়।

জানা গেছে, কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মানের আগে প্রস্তুত হয়েছে আড়াইশ মিটার প্রস্থ, ১৮ মিটার গভীরতা এবং ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল। এই চ্যানেল বা প্রবেশথ দিয়েই বঙ্গোপসাগর থেকে জাহাজ বন্দর জেটিতে প্রবেশ করবে। গভীর সাগর থেকে জাহাজগুলো চ্যানেল দিয়ে জেটিতে প্রবেশের জন্য বসানো হয়েছে পথ নির্দেশক ছয়টি বয়। চট্টগ্রাম বন্দরের মেরিন বিভাগ সাগরে এসব বয় স্থাপন ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। অর্থ্যাৎ নতুন নির্মিত ‌চ্যানেল দিয়ে জাহাজ প্রবেশ পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল।

উল্লেখ্য, জাহাজ প্রবেশের চ্যানেলের একপাশে নির্মিত হয়েছে তিনটি জেটি; যেগুলো ব্যবহৃত হবে বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মান সামগ্রী উঠানামার কাজে। আর অপরপাশেই গড়ে উঠবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর। এই সমুদ্রবন্দর চালু হবে ২০২৫ সালে। কিন্তু তার আগেই ব্যবহার শুরু হচ্ছে সমুদ্রবন্দরের জন্য নির্মিত চ্যানেল বা জাহাজ প্রবেশের পথ।
মাতারবাড়ী চ্যানেলের গভীরতা ১৮ মিটার এবং দৈর্ঘ্য ১৪ কিলোমিটার। কিন্তু ‘ভেনাস ট্রায়াম্প’ জাহাজটি সেই তুলনায় একেবারে ছোট। জাহাজটির গভীরতা মাত্র সাড়ে ৫ মিটার এবং দৈর্ঘ্য ১২০ মিটার। ফলে সেটি অনায়াসেই জেটিতে প্রবেশ করতে পেরেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *