মাতারবাড়ী নতুন জেটিতে কাল ভিড়ছে প্রথম জাহাজ ‘হরিজন-৯’

0
104

বিশেষ প্রতিনিধি
মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য নির্মিত জেটিতে এতদিন ভিড়তো একটি কন্টেইনার জাহাজ। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ওই জেটিতে মুলত বিদ্যুত কেন্দ্রের বিভিন্ন নির্মান সামগ্রী বোঝাই করেই জাহাজ জেটিতে ভিড়তো। ইতোমধ্যে সেখানে নির্মিত হয়েছে আরো একটি জেটিতে; নতুন নির্মিত দ্বিতীয় এই জেটিতে ভিড়ছে আগামীকাল ১৫ জুলাই ভিড়ছে প্রথম জাহাজ ‘হরিজন-৯’
এর আগে ১৭ জুলাই সেই জেটিতে প্রথম জাহাজ ভিড়ার কথা ছিল; এখন সময় এগিয়ে এনে ১৫ জুলাই ভিড়ছে জাহাজটি। এরমধ্য দিয়ে মাতারবাড়ীতে একসাথে দুটি জাহাজ ভিড়ানোর সুযোগ তৈরী হলো। এরফলে আগের চেয়ে বাড়তি পণ্য উঠানামা করা সম্ভব হবে বলছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের সহকারী হারবার মাস্টার এবং মাতারবাড়ী জেটিতে জাহাজ ভিড়ানোর মুল সমন্বয়কারী আতাউল হাকিম সিদ্দিকী বলছেন, এটা শুধু চট্টগ্রাম বন্দর নয়; দেশের জন্যও খুশির খবর। ১৫ জুলাই থেকে আমরা একসাথে দুটি জাহাজ জেটিতে ভিড়াতে পারবো। এরমধ্য দিয়ে মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মানের সক্ষমতার প্রমান হবে। গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মানের আগেই আমরা চ্যানেল দিয়ে জাহাজ প্রবেশের সব খুটিনাটি দ্রুত রপ্ত করতে পারবো। আমরা আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে পারবো। বন্দর চেয়ারম্যান মহোদয়ের প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে আমরা এই কাজটি দ্রুত করতে পেরেছি।
তিনি বলেন, ১৫ জুলাই দ্বিতীয় জেটিতে একটি জাহাজ ভিড়বে। ১৭ জুলাই প্রথম জেটিতে ভিড়বে আরো একটি জাহাজ। ডিসেম্বর নাগাদ আরো বেশি পণ্যবাহি জাহাজ ভিড়ানো যাবে বলে আশা রাখি।
আতাউল হাকিম সিদ্দিকী বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা সর্বোচ্চ ১৩৫ মিটার জাহাজ ভিড়িয়েছি জেটিতে। জেটিতে প্রবেশের চ্যানেল দিয়ে আমরা এখনই চাইলে আরো বড় জাহাজ ভিড়াতে পারি কিন্তু বিদ্যুত কেন্দ্রের চাহিদা অনুযায়ী তা করা হবে। কারণ এখনই এসব জেটিতে অন্য আমদানিকারকের পণ্য নামানোর সুযোগ নেই।
জানা গেছে, কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হবে ২০২৫ সালে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচে বড় জাহাজ ভিড়বে সেই জেটিতে। কিন্তু তার আগেই জেটিতে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত হয়েছে আড়াইশ মিটার প্রস্থ, ১৬ মিটার গভীরতা এবং ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল। এই চ্যানেল বা প্রবেশথ দিয়েই বঙ্গোপসাগর থেকে জাহাজ বন্দর জেটিতে প্রবেশ করবে। গভীর সাগর থেকে জাহাজগুলো চ্যানেল দিয়ে জেটিতে প্রবেশের জন্য বসানো হয়েছে পথ নির্দেশক ছয়টি বয়। জাহাজ প্রবেশের চ্যানেলের একপাশে নির্মিত হচ্ছে তিনটি জেটি; যেগুলো ব্যবহৃত হবে বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মান সামগ্রী উঠানামার কাজে। আর অপরপাশেই গড়ে উঠবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here