মাতারবাড়ী দ্বিতীয় জেটিতে ভিড়ছে প্রথম পণ্যবাহি জাহাজ

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

25 October, 2021 0 Views

0

বিশেষ প্রতিনিধি
মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের নতুন নির্মিত একটি জেটিতে ভিড়ছে পণ্যবাহি জাহাজ। ‘থরকো লিগেসি’ জাহাজটি আগামী ১৭ জুলাই মাতারবাড়ীর নতুন জেটিতে ভিড়ছে; জাহাজটি বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মান সামগ্রী নিয়ে আসছে চীনের সাংহাই বন্দর থেকে।
২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে সেখানে একটি জেটিতে পণ্য উঠানামা হতো; আর তার সবই ছিল বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মান সামগ্রী। ১৭ জুলাই থেকে এখন দুটি জেটি পণ্য নামানোর উপযােগি হল। এরফলে বাড়তি পণ্য উঠানামা করা সম্ভব হবে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের সহকারী হারবার মাস্টার আতাউল হাকিম সিদ্দিকী বলছেন, ২৯ ডিসেম্বর মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের জেটিতে প্রথম বাণিজ্যিক জাহাজ ভিড়ে। এরপর থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ১৭টি বাণিজ্যিক জাহাজ কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য পণ্য নিয়ে এসেছে। ইতোমধ্যে নতুন একটি জেটির ১৫০ মিটার পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে। সেখানেই আমরা জাহাজ ভেড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। সে হিসেবে আগামী ১৪ ও ১৫ জুলাই দুটি জেটিতে দুটি জাহাজ ভিড়বে। দুটি জাহাজই বিদ্যুেকন্দ্রের নির্মাণসামগ্রী নিয়ে আসবে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা সর্বোচ্চ ১৩৫ মিটার জাহাজ ভিড়িয়েছি জেটিতে। জেটিতে প্রবেশের চ্যানেল দিয়ে আমরা এখনই চাইলে আরো বড় জাহাজ ভিড়াতে পারি কিন্তু বিদ্যুত কেন্দ্রের চাহিদা অনুযায়ী তা করা হবে। কারণ এখনই এসব জেটিতে অন্য আমদানিকারকের পণ্য নামানোর সুযোগ নেই।
জানা গেছে, কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হবে ২০২৫ সালে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচে বড় জাহাজ ভিড়বে সেই জেটিতে। কিন্তু তার আগেই জেটিতে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত হয়েছে আড়াইশ মিটার প্রস্থ, ১৬ মিটার গভীরতা এবং ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল। এই চ্যানেল বা প্রবেশথ দিয়েই বঙ্গোপসাগর থেকে জাহাজ বন্দর জেটিতে প্রবেশ করবে। গভীর সাগর থেকে জাহাজগুলো চ্যানেল দিয়ে জেটিতে প্রবেশের জন্য বসানো হয়েছে পথ নির্দেশক ছয়টি বয়। জাহাজ প্রবেশের চ্যানেলের একপাশে নির্মিত হচ্ছে তিনটি জেটি; যেগুলো ব্যবহৃত হবে বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মান সামগ্রী উঠানামার কাজে। আর অপরপাশেই গড়ে উঠবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর।
জানা গেছে, বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য নামানোর কাজটি করে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর। চট্টগ্রাম বন্দরের নিবন্ধিত ৩২টি অপারেটর প্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে সেই কাজটি করার কথা। কিন্তু মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে একক এবং অবৈধভাবে সেই কাজটি করছে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর গ্রিন এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির মালিক এ কে এম শামসুজ্জামান রাসেল; যিনি বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং, বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। মূলত সভাপতির প্রভাব খাটিয়ে পণ্য নামানোর একচেটিয়া কাজটি অবৈধভাবে করছেন। এখন পর্যন্ত ১৭টি পণ্যবাহি জাহাজ থেকে মোট প্রায় ১৩ হাজার টন পণ্য নামানোর কাজটি করেছে গ্রীন এন্টারপ্রাইজ। এ নিয়ে চরম ক্ষুদ্ধ বাকি শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটররা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *