মাতারবাড়ী জেটিতে প্রতিমাসে ১০টি জাহাজ ভিড়ছে

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

5 December, 2021 19 Views

19

কক্সবাজারের মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের দুটি জেটিতে এখন প্রতিমাসে ১০টি পণ্যবাহি জাহাজ ভিড়ছে। আর সব পণ্যই বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মান সামগ্রী বোঝাই করা। সবচে আশ্চর্য্যজনক বিষয় হচ্ছে, ডিসেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেটিতে পণ্যবাহি জাহাজ ভিড়েছিল ২০টি। এরপর থেকে গতকাল ৬ অক্টোবর মাত্র ২০দিনে জাহাজ ভিড়েছে ৩২টি; যা রেকর্ড।

হঠাৎ করে জাহাজ আসা বেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আতাউল হাকিম সিদ্দিকী বলেন, গতমাস থেকে হঠাৎ করে জাহাজ আসা বেড়ে গেছে। মাতারবাড়ী বিদ্যুত কেন্দ্রে এখন বড় বড় যন্ত্রপাতি আসা শুরু হয়েছে। ফলে প্রচুর জাহাজ আসছে। গত সপ্তাহে তো জাহাজের সিরিয়াল লেগে গিয়েছিল। দুটি জেটি থাকায় আমরা সামাল দিতে পেরেছি।

মাতারবাড়ী জেটিতে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিনিধি হিসেবে পণ্য উঠানামার সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ক্যাপ্টেন আতাউল হাকিম সিদ্দিকী বলেন, আমরা আশা করছি প্রতিমাসে ৮ থেকে ১০টি জাহাজ জেটিতে ভিড়াতে পারব। সবগুলোই বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মান সামগ্রী বোঝাই জাহাজ।

জানা গেছে, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে জুলাই পর্যন্ত এই আটমাসে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মোট ২০টি পণ্য বোঝাই জাহাজ জেটিতে ভিড়িয়েছিল। সবগুলো জাহাজই সরাসরি এসেছে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, জাপান থেকে ভিড়েছে বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মিত জেটিতে। এসব জেটিতে জাহাজ ভিড়ানো, চ্যানেল দিয়ে প্রবেশ এবং মুরিং সহ অন্যখাত থেকে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার রাজস্ব আয় করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃূপক্ষ। তবে ৩২ জাহাজ থেকে মোট কত আয় তার হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

নিয়মানুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মুল রাজস্ব আয় করবে গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে; যেটি নির্মানকাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৫ সালে।

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম. শাহজাহান বলছেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর আমরাএখনো নির্মানকাজ শুরু করিনি; কিন্তু তার আগেই সেখানে নির্মিত বিদ্যুত কেন্দ্রের জেটিতে জাহাজ ভিড়িয়ে আমরা রাজস্ব আদায় শুরু করেছি। ২০টি জাহাজ জেটিতে ভিড়িয়ে আমরা গত ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত এক কোটি ২৫ লাখ টাকা আয় করেছি। এরমধ্যে শুধুৃ জেটি ভাড়া বাবদই আমরা পেয়েছি ৫০ লাখ টাকার মতো। আমরা আশা করিছ এখন যেহেতু দুটি জেটি হয়েছে; বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মান সামগ্রীর জাহাজ আসাও বেড়ে যাবে। তখন রাজস্ব আয় আরো বেশি হবে।

জানা গেছে, কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হবে ২০২৫ সালে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচে বড় জাহাজ ভিড়বে সেই জেটিতে। কিন্তু তার আগেই জেটিতে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত হয়েছে আড়াইশ মিটার প্রস্থ, ১৬ মিটার গভীরতা এবং ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল। এই চ্যানেল বা প্রবেশথ দিয়েই বঙ্গোপসাগর থেকে জাহাজ বন্দর জেটিতে প্রবেশ করবে। গভীর সাগর থেকে জাহাজগুলো চ্যানেল দিয়ে জেটিতে প্রবেশের জন্য বসানো হয়েছে পথ নির্দেশক ছয়টি বয়। জাহাজ প্রবেশের চ্যানেলের একপাশে নির্মিত হচ্ছে তিনটি জেটি; যেগুলো ব্যবহৃত হবে বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মান সামগ্রী উঠানামার কাজে। আর অপরপাশেই গড়ে উঠবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *