মাতারবাড়ী জেটিতে জাহাজ বার্থিং শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরের কাজ অবৈধভাবে করছে বার্থ অপারেটর

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

18 October, 2021 1 Views

1

বিশেষ প্রতিনিধি
জেটিতে পণ্য উঠানামার কাজ করে জেটি বা বার্থ অপারেটর আর বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য নামানোর কাজ করে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটররা। দরপত্র অনুযায়ী চুক্তির নিয়মে এই নিয়ম আছে। কিন্তু এই প্রথম কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে নির্মিত কয়লা বিদ্যুতকেন্দ্রের জেটিতে ভিড়া জাহাজ থেকে পণ্য নামানোর কাজ করছে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর গ্রিন এন্টারপ্রাইজ।

আজ ২৯ ডিসেম্বর মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দরের জন্য নির্মিত প্রবেশ পথ বা  ‌চ্যানেল দিয়ে প্রবেশ করে বিদ্যুতকেন্দ্রের জন্য নির্মিত হেভি লিফট বা ভারী কার্গো নামানোর জেটিতে ভিড়ছে জাহাজ ‘ভেনাস ট্রায়াম্প’। আর সেই জাহাজ থেকে পণ্য নামানোর কাজটি করছে গ্রিন এন্টারপ্রাইজ; যার মালিক চট্টগ্রাম বন্দর শিপ ‌হ্যান্ডলিং, বার্থ অপারেটর এসােসিয়েশনের সভাপতি একেএম সামশুজ্জামান রাসেল। অভিযোগ উঠেছে, সভাপতি হিসেবে অবৈধভাবে দাপট খাটিয়ে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর হয়েও বার্থ অপারেটরের কাজটি করছেন সামশুজ্জামান রাসেল। জানতে চাইলে তিনি বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের অধীন বিশেষায়িত জেটিগুলো আমি কাজ করি। চট্টগ্রাম ড্রাইডক জেটিতে পণ্য উঠানামার কাজ করেছি আমি। মাতারবাড়ী যেহেতু এখনো বন্দর পুরোপুরিভাবে হয়নি। তাই বিশেষায়িত জেটির কাজ আমি করছি। এতে প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই। তবে এটা ঠিক আমরা শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর হিসেবে বন্দরে চুক্তিকৃত।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান জেটিতে কাজ করছে ১২জন বার্থ অপারেটর। বন্দরের দুটি টার্মিনালে কাজ করছে টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক। এর বাইরে বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য নামানোর বা লাইটারিং কাজটি করে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর। তাদের সংখ্যা ২২ জনের মতো। কিন্তু বার্থ শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর মিলিয়ে ২৫জনের মধ্য থেকে কিভাবে গ্রিন এন্টারপ্রাইজ কাজটি পেল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানতে চাইলে বার্থ অপারেটর এসোসিয়েশনের (সাধারন জেটি) আহবায়ক ও বার্থ অপারেটর ইউনাইটেড ট্রেডিংয়ের মালিক এম এ বকর  শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, জেটিতে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরের কাজ করার কোন সুযোগ নেই।বন্দরের সাথে চুক্তি এবং দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী তারা কাজ করতে পারে না। কিন্তু কিভাবে গ্রীন এন্টারপ্রাইজ কাজটি পেল তা আমি জানি না। হয়তো অন্য উপায়ে কাজটি পেয়েছ। এ বিষয়ে আমি খোঁজ নিচ্ছি। এটা আমরা বসে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিবো।

জানা গেছে,  মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দরে জাহাজ প্রবেশের জন্য নির্মিত চ্যানেল দিয়ে প্রথম জাহাজ প্রবেশ করছে ২৯ ডিসেম্বর। ‘ভেনাস ট্রায়াম্প’ জাহাজটিতে রয়েছে মাতারবাড়ী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বি‌দ্যুত কেন্দ্রের জন্য অবকাঠামো নির্মান সামগ্রী। বঙ্গোপসাগর থেকে জাহাজটি প্রবেশ করে ভিড়বে বি‌দ্যুত কেন্দ্রের জন্য নির্মিত হেভি লিফট বা ভারী কার্গো নামানাের জেটিতে। উল্লেখ্য, চ্যানেলের একপাশে নির্মিত হয়েছে তিনটি জেটি; যেগুলো ব্যবহৃত হবে বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মান সামগ্রী উঠানামার কাজে। আর অপরপাশেই গড়ে উঠবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর। এই সমুদ্রবন্দর চালু হবে ২০২৫ সালে। কিন্তু তার আগেই ব্যবহার শুরু হচ্ছে সমুদ্রবন্দরের জন্য নির্মিত চ্যানেল বা জাহাজ প্রবেশের পথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *