মাতারবাড়ী কয়লা বি‌দ্যুত কেন্দ্রের জেটিতে ভিড়লো দ্বিতীয় পণ্যবাহি জাহাজ ‘এসপিএম ব্যাংকক’

0
1009

বিশেষ প্রতিনিধি
মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দরে জাহাজ প্রবেশের জন্য নির্মিত চ্যানেল বা প্রবেশ পথ দিয়ে দ্বিতীয় জাহাজটি ভিড়েছে গত ৬ জানুয়ারি। এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর এসেছিল প্রথম বাণিজ্যিক জাহাজ। জাহাজটি চ্যানেল দিয়ে প্রবেশ করে মাতারবাড়ী কয়লা বি‌দ্যুত কেন্দ্রের জন্য নির্মিত হেভি লিফট বা ভারী কার্গো নামানাের জেটিতে ভিড়েছে। এখন জাহাজ থেকে পণ্য নামানোর কাজ চলছে: পণ্য নামানো শেষ করে আগামী ১২ জানুয়ারি জেটি ছেড়ে যাবে। জানতে চাইলে জানতে চাইলে মাতারবাড়ীেত জাহাজ ভিড়ানোর কাজ সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা বন্দর পাইলট আতাউল হাকিম সিদ্দিকী শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, এখন নিয়মিত জাহাজ আসা শুরু হয়েছে কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের জেটিতে। দ্বিতীয় জাহাজটি প্রথম জাহাজের চেয়ে গভীরতা বা ড্রাফট বড় হলেও আকার একই। এই জাহাজ থেকে প্রকল্পের জন্য কিছু পণ্য নামানো হবে; বাকি পণ্য নিয়ে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়বে। এরপর  পণ্য নামিয়ে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে যাবে। আগামী ১৪ জানুয়ারি আসছে পণ্যবাহি আরেকটি জাহাজ।

জানা গেছে,  মাতারবাড়ী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বি‌দ্যুত কেন্দ্রের জন্য প্রথম জাহাজটি ইন্দোনেশিয়া থেকে এসেছিল অবকাঠামো নির্মান সামগ্রী নিয়ে। ইন্দোনেশিয়ার সিলেগন সমুদ্রবন্দর থেকে ‘ভেনাস ট্রায়াম্প’ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে কয়লা বিদ্যুতকেন্দ্রের জেটিতে। পণ্য নামিয়ে সেই জাহাজটি চলে যাওয়ার পর গত ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় জাহাজ ‘এসপিএম ব্যাংকক’ ভিড়লো কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের জেটিতে। জাহাজটি এসেছে মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাঙ সমুদ্রবন্দর থেকে। ২০০৪ সালে তৈরী থাইল্যান্ডের পতাকাবাহি জাহাজটির দৈর্ঘ্য ১১৮ মিটার এবং গভীরতা আট মিটার।

জানা গেছে, কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মানের আগে প্রস্তুত হয়েছে আড়াইশ মিটার প্রস্থ, ১৮ মিটার গভীরতা এবং ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল। এই চ্যানেল বা প্রবেশথ দিয়েই বঙ্গোপসাগর থেকে জাহাজ বন্দর জেটিতে প্রবেশ করবে। গভীর সাগর থেকে জাহাজগুলো চ্যানেল দিয়ে জেটিতে প্রবেশের জন্য বসানো হয়েছে পথ নির্দেশক ছয়টি বয়। চট্টগ্রাম বন্দরের মেরিন বিভাগ সাগরে এসব বয় স্থাপন ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। অর্থ্যাৎ নতুন নির্মিত ‌চ্যানেল দিয়ে জাহাজ প্রবেশ পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল।

উল্লেখ্য, জাহাজ প্রবেশের চ্যানেলের একপাশে নির্মিত হয়েছে তিনটি জেটি; যেগুলো ব্যবহৃত হবে বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মান সামগ্রী উঠানামার কাজে। আর অপরপাশেই গড়ে উঠবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর। এই সমুদ্রবন্দর চালু হবে ২০২৫ সালে। কিন্তু তার আগেই ব্যবহার শুরু হচ্ছে সমুদ্রবন্দরের জন্য নির্মিত চ্যানেল বা জাহাজ প্রবেশের পথ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here