মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুত জেটিতে পণ্য নামানোর একচেটিয়া কাজ করছে গ্রীণ এন্টারপ্রাইজ

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

25 October, 2021 3 Views

3

বিশেষ প্রতিনিধি
বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য নামানোর কাজটি করে শীপ হ্যান্ডলিং অপারেটর। চট্টগ্রাম বন্দরের নিবন্ধিত ৩২টি অপারেটর প্রতিষ্ঠান পযার্য়ক্রমে সেই কাজটি করছেন। কিন্তু মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের জেটিতে চলছে একক রাজত্ব। সেখানে পণ্যখালাসের সব জাহাজ একাই করছে শীপ হ্যান্ডলিং অপারেটর গ্রীণ এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির মালিক একেএম শামসুজ্জামান রাসেল; যিনি বাংলাদেশ শীপ হ্যান্ডলিং, বার্থ অপারেটর এসোসিয়েশনের সভাপতি। মুলত সভাপতির প্রভাব খাটিয়ে পণ্য নামানোর একচেটিয়া কাজটি অবৈধভাবে করছেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের হিসাবে, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে গতকাল ১৮ জুন পর্যন্ত ১৬টি পণ্যবাহি জাহাজ ভিড়েছে। সব জাহাজ থেকে পণ্য উঠানামার কাজটি একাই করেছেন শামসুজ্জামান রাসেলের প্রতিষ্ঠান। সব জাহাজ একচেটিয়া কাজ জোরপূর্বক বাগিয়ে নেয়ায় বাকি শীপ হ্যান্ডলিং অপারেটররা চরম ক্ষুদ্ধ। এনিয়ে তারা শ্রম দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছে।
জানা গেছে, কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মানের কাজ শুরু হয়েছে গত ২০২০ সালে। কিন্তু তার আগেই প্রস্তুত হয়েছে আড়াইশ মিটার প্রস্থ, ১৮ মিটার গভীরতা এবং ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল। এই চ্যানেল বা প্রবেশথ দিয়েই বঙ্গোপসাগর থেকে জাহাজ বন্দর জেটিতে প্রবেশ করবে। জাহাজ প্রবেশের চ্যানেলের একপাশে নির্মিত হয়েছে তিনটি জেটি; যেগুলো ব্যবহৃত হবে বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মান সামগ্রী উঠানামার কাজে। আর অপরপাশেই গড়ে উঠবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর। এই সমুদ্রবন্দর চালু হবে ২০২৫ সালে। কিন্তু তার আগেই ব্যবহার শুরু হচ্ছে সমুদ্রবন্দরের জন্য নির্মিত চ্যানেল বা জাহাজ প্রবেশের পথ।
জানা গেছে, মাতারবাড়ী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বি‌দ্যুত কেন্দ্রের জন্য প্রথম জাহাজ ‘ভেনাস ট্রায়াম্প’ ইন্দোনেশিয়া থেকে এসেছিল অবকাঠামো নির্মান সামগ্রী নিয়ে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে গত ২৯ ডিসেম্বর ভিড়েছিল সেই জাহাজ। সেই প্রথম জাহাজ থেকে একাই পণ্য উঠানামার কাজটি অবৈধভাবে করে আসছে গ্রীণ এন্টারপ্রাইজ।
ক্ষুদ্ধ একাধিক শীপ হ্যান্ডলিং অপারেটর শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, সভাপতির জোর খাটিয়ে শামসুজ্জামান রাসেল বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের মুনাফা বেশি এমন জাহাজগুলো বরাদ্দ নিতেন তিনি। তাদের কয়েকজনের একটি সিন্ডিকেট মিলে লাভজনক জাহাজগুলো তারা বরাদ্দ নিয়ে কম লাভের জাহাজগুলো সংগঠনের অন্য সদস্যদের বরাদ্দ দিতো। এ নিয়ে যে সদস্য প্রতিবাদমুখর থাকতো তাদেরকে কয়েকটি ভালো মুনাফার জাহাজ দিয়ে সন্তুষ্ট রাখতো। এরপর আগের নিয়মেই চলতো সবকিছু।
এ বিষয়ে শ্রম দপ্তরে অভিযোগ করলে হঠাৎ করে জাহাজ বরাদ্দের কমিটির কয়েক সদস্যকে বাদ দিয়ে নিজের মতো আরো কয়েকজন দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করে দেন রাসেল। এখন সেই কমিটি আগের নিয়মেই চলছে-অভিযোগ শীপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের।
অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ শীপ হ্যান্ডলিং ও বার্থ অপারেটর এসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম শামসুজ্জামান রাসেল বলছেন, আমার প্রতিষ্ঠানকে মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের জেটিতে কাজ করার অনুমতি দেয়নি চট্টগ্রাম বন্দর। এসোসিয়েশনকে সেই জেটিতে পণ্য উঠানামার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সভাপতি হিসেবে আমি কাজটি করছি ঠিক কিন্তু পর্যায়ক্রমে পরবর্তীতে সবাইকে সুযোগ দেয়া হবে।
সভাপতির প্রভাব খাটিয়ে একাই কাজটি করছেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসোসিয়েশনের অনুমতি নিয়েছি কাজটি করতে। আর ১৬টি জাহাজ থেকে পণ্য নামানো হলেও পণ্যের পরিমান কম। লাভের অংশ সামান্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *