মাতারবাড়ীতে ১০০ জাহাজ ভিড়ার মাইলফলক; দুই কোটি টাকার রাজস্ব পেল চট্টগ্রাম বন্দর

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

25 September, 2022

Views

মাতারবাড়ীতে বিদ্যুতকেন্দ্রের জন্য নির্মিত দুটি জেটিতে ১০০টি জাহাজ ভিড়িয়ে দুই কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত এই পরিমান জাহাজ ভিড়েছে জেটিতে। আর এসব জাহাজে ১ লাখ ১৭ হাজার টন পণ্য উঠানামা হয়েছে।
আজ ২৪ আগস্ট সেই জেটিতে শততম জাহাজ ভিড়ে নতুন মাইলফলক স্থাপিত হচ্ছে মাতারবাড়ীতে। জাহাজটির নাম ‘হোসেই ফরচুন’ এসেছে সিঙ্গাপুর বন্দর থেকে; জাহাজে পণ্য আনা হয়েছে মাতারবাড়ী কয়লবিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মান সামগ্রী।
চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম. শাহজাহান বলছেন, আজ চট্টগ্রাম বন্দর এবং বাংলাদেশের জন্য অনন্য একটি দিন। ৫ বছর আগে এখানে জাহাজ ভিড়বে শুধুই স্বপ্ন ছিল। এখন স্বপ্ন বাস্তব হয়ে একশ জাহাজ পণ্য নিয়ে জেটিতে ভিড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুরদর্শী সাহসী সিদ্ধান্তেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।
তিনি মনে করছেন, আগামী বছর থেকে কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য কয়লাবাহি জাহাজ আসা শুরু হবে। তখন রাজস্ব আয়ের পরিমান অনেকগুন বেড়ে যাবে।

কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হবে ২০২৬ সালে। তার আগে কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের জেটির জন্য সেখানে দুটি জেটি নির্মিত হয়েছে। এই জেটি মুলত কয়লবাহি জাহাজ ভিড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হবে। তার আগ পর্যন্ত সেই দুটি জেটিতে বিদ্যুত কেন্দ্রের পণ্য সামগ্রী আনা হচ্ছে।২০২০ সালে ২৯ ডিসেম্বর সেখানে প্রথম জাহাজটি ভিড়ে। এরপর একবছরে সেই জেটিতে ৪৯ জাহাজ ভিড়ানো হয়। আর ২০ মাসের মাথায় এসে সেই দুটি জেটিতে একশ জাহাজ ভিড়ানোর মাইলফলক অর্জিত হলো।
জেএসি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিমুল মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনার সুফল আমরা পেতে শুরু করেছি। এখন তো সেই জেটিতে বিদ্যুতকেন্দ্রের নির্মান সামগ্রী বোঝাই জাহাজ ছাড়া বানিজ্যিক কোন জাহাজই ভিড়েনি। বানিজ্যিক জাহাজ অর্থ্যাৎ বানিজ্যিকভাবে জাহাজ ভিড়তে শুরু হলে এই অঞ্চলের হাব হবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর।

জানা গেছে, মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ করছে জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকা। মূলত বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা জাহাজ ভেড়ানোর পরিকল্পনা করতে গিয়ে বাণিজ্যিক বন্দর নির্মাণের বিষয়টি উঠে আসে। পরে জাইকা সম্ভাব্যতা যাচাই করে।

জাইকার প্রাথমিক সমীক্ষা অনুযায়ী, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরে ১৬ মিটার গভীর ও আড়াই শ মিটার দীর্ঘ জাহাজ মোট আট হাজার একক কনটেইনার পণ্য নিয়ে ভিড়তে পারবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার একক কনটেইনার নিয়ে জাহাজ ভিড়তে পারে। ফলে মাতারবাড়ীতে চট্টগ্রাম বন্দরের আড়াই থেকে তিন গুণ বড় জাহাজ ভিড়তে পারবে।

উল্লেখ্য, মাতারবাড়ী বন্দর নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রথম ধাপে রয়েছে দুটি টার্মিনাল। সাধারণ পণ্যবাহী ও কনটেইনার টার্মিনালে বড় জাহাজ (মাদার ভেসেল) ভিড়তে পারবে, যেটি এখন বাংলাদেশের কোনো বন্দর জেটিতে ভিড়তে পারে না। প্রথম ধাপে বন্দর ও পণ্য পরিবহনের জন্য সড়ক নির্মাণসহ খরচ ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। প্রথম ধাপের কাজ শেষ হতে সময় লাগবে ২০২৬ সাল। দ্বিতীয় ধাপে নির্মিত হবে তিনটি কনটেইনার টার্মিনাল। পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে টার্মিনাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.