মাতারবাড়ীতে ভিড়েছে পণ্যবাহি তৃতীয় জাহাজ

0
254

বিশেষ প্রতিনিধি
কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের জেটিতে ভিড়েছে তৃতীয় জাহাজ ‌‌’গ্রান্ড তাজিমা ওয়ান’। বিদ্যুত কেন্দ্রের অবকাঠামো নির্মান সামগ্রী নিয়ে জাহাজটি ভিড়েছে আজ ১৮ জানুয়ারি।  আর জাহাজটি সরাসরি এসেছে ইন্দোনেশিয়ার ‘সিলেগন বন্দর’ থেকে।

এর আগে প্রথম জাহাজ ‘ভেনাস ট্রায়াম্ফ’ এসেছিল গত ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর। দ্বিতীয় জাহাজ ‘এসপিএম ব্যাংকক’ এসেছিল ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি। এখন তৃতীয় জাহাজ ‘‌‌গ্রান্ড তাজিমা ওয়ান’ আসলো কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য ভারী পণ্য উঠানামার কাজে নির্মিত জেটিতে। পণ্য নামিয়ে জাহাজটি মাতারবাড়ী থেকেই ফিরে যাবে। এরমধ‌্যে দ্বিতীয় জাহাজটি ছিল ব্যতিক্রম; কারণ দ্বিতীয় জাহাজ ‘এসপিএম ব্যাংকক’ জাপান থেকে পণ্য নিয়ে মালয়েশিয়ার ‘পোর্ট কেলাঙ’ বন্দরে পৌঁছে। সেখান থেকে পণ্য নিয়ে জাহাজটি সরাসরি মাতারবাড়ীতে পৌঁছে। মাতারবাড়ীতে অর্ধেক পণ্য নামিয়ে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়ে ১৫ জানুয়ারি। জানতে চাইলে জাহাজটির শিপিং এজেন্ট এনসিয়েন্ট স্টিম শিপ কম্পানির পরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ মোরশেদ হারুন শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, ‌’দ্বিতীয় জাহাজটি নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিল। কারণ জাহাজটি মাতারবাড়ীতে পণ্য নামিয়ে আবার চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়ে। সেখানে পণ্য নামিয়ে জাহাজটি ফিরে যায়। কিন্তু প্রথম জাহাজটি ছিল ব্যতিক্রম। কারণ জাহাজটি সরাসরি এসেছিল মাতারবাড়ী; পণ্য নামিয়ে সেখান থেকেই ফিরে যায়। কিন্তু ‘এসপিএম ব্যাংকক’ জাহাজটি জাপান থেকে পোর্ট কেলাঙ হয়ে মাতারবাড়ী এবং পরে চট্টগ্রাম বন্দর পৌঁছে। এরমধ্য দিয়ে পণ্য পরিবহনের নতুন একটি রুট সৃষ্টি হলো।তিনি বলছেন, আমরা আশা করছি প্রতি সপ্তাহেই একটি পণ্যবাহি জাহাজ ভিড়বে মাতারবাড়ীতে। পরবর্তীতে হয়তো আরো বাড়বে পণ্য পরিবহন। তখন জাহাজের সংখ্যা বেড়ে যাবে।

শিপিং সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আজ ১৮ জানুয়ারি তৃতীয় জাহাজ ‘‌‌গ্রান্ড তাজিমা ওয়ান’ আসলো কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের জেটিতে। সেটি খবু বড় আকারের জাহাজ নয়। ১৬ বছরের পুরণো এই জাহাজটি ১২০ মিটার দীর্ঘ, সোয়া ৫ মিটার গভীরতার। আর পণ্য ধারনক্ষমতা প্রায় ১৩ হাজার টন। যদিও মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুত কেন্দ্রের জেটিতে প্রবেশের চ্যানেল দিয়ে এখনই ১৬ মিটার গভীরতার জাহাজ ঢুকতে পারবে। গভীর সমুদ্রবন্দরের জাহাজ প্রবেশের উপযোগি করেই চ্যানেলটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

জানা গেছে, কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মানের আগে প্রস্তুত হয়েছে আড়াইশ মিটার প্রস্থ, ১৬ মিটার গভীরতা এবং ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল। এই চ্যানেল বা প্রবেশথ দিয়েই বঙ্গোপসাগর থেকে জাহাজ বন্দর জেটিতে প্রবেশ করবে। গভীর সাগর থেকে জাহাজগুলো চ্যানেল দিয়ে জেটিতে প্রবেশের জন্য বসানো হয়েছে পথ নির্দেশক ছয়টি বয়। জাহাজ প্রবেশের চ্যানেলের একপাশে নির্মিত হচ্ছে তিনটি জেটি; যেগুলো ব্যবহৃত হবে বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মান সামগ্রী উঠানামার কাজে। আর অপরপাশেই গড়ে উঠবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর। এই সমুদ্রবন্দর চালু হবে ২০২৫ সালে। কিন্তু তার আগেই ব্যবহার শুরু হচ্ছে সমুদ্রবন্দরের জন্য নির্মিত চ্যানেল বা জাহাজ প্রবেশের পথ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here