ভুল স্বীকার করলো কসকো শিপিং; জাহাজজট চট্টগ্রাম বন্দরে নয়, ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে

0
996

বিশেষ প্রতিনিধি
অবশেষে ভুল স্বীকার করলাে কসকো শিপিং লাইনস কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দরে ব‌্যাপক জাহাজজটের কারণ দেখিয়ে ইউরোপ-চট্টগ্রাম রুটে পণ্য পরিবহন বন্ধের যে ঘোষনা দিয়েছিল; সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে কসকো শিপিং লাইনস কর্তৃপক্ষ। ‌‌‌শিপিং কম্পানিটি ইউরোপ-চট্টগ্রাম রুটে পণ্য পরিবহন বন্ধ রেখেছে ঠিকই কিন্তু ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্টের জাহাজজটের কারণে; চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজজটের কারণে নয়। ২৪ ডিসেম্বর ভুল সংশোধন করে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

কসকো শিপিং লাইনস কর্তৃপক্ষ গত ২১ ডিসেম্বর তাদের গ্রাহকদের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিল, চট্টগ্রাম বন্দরে ‘সিরিয়াস কনজেশন’ বা ব্যাপক জাহাজজটের কারণে ইউরোপ-চট্টগ্রাম রুটে কন্টেইনারে পণ্য পরিবহন বন্ধ করেছে কসকাে শিপিং লাইনস। বিজ্ঞপ্তিতে একইসাথে বলেছে, চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে জাহাজ ভিড়তে দেরি হচ্ছে এবং চট্টগ্রাম বন্দরকে এড়িয়ে যেতে হচ্ছে জাহাজকে। এই কারণে চট্টগ্রাম-ইউরোপ রুটে নতুন করে কোন বুকিং নিচ্ছে না শিপিং কম্পানিটি। এই বিজ্ঞপ্তি পেয়ে ২৩ ডিসেম্বর প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠা শিপিং বিষয়ক অনলাইন ‘শিপিংএক্সপ্রেসবিডি’। এরপর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কারণ চট্টগ্রাম বন্দরে এই মুহুর্তে কোন জাহাজজট নেই; কন্টেইনারজটও নেই। বহির্নোঙর থেকে দুই থেকে তিন দিন অপেক্ষার পর স্বাভাবিক নিয়মেই জাহাজ জেটিতে ভিড়ছে।
এরপর চাপে পড়ে কসকো শিপিং লাইনস। কম্পানিটি ২৪ ডিসেম্বর নিজেদের ভুল স্বীকার করে আগের ঘোষণার বদলে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের জাহাজজটের কথা উল্লেখ করেছে।
জানতে চাইলে কসকো শিপিং লাইনসের বাংলাদেশি এজেন্ট কন্টিনেন্টাল গ্র্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান ইকবাল চৌধুরী বলছেন, নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আশা করছি সমস্ত ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে। মুলত ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে ব্যাপক জাহাজজটের কারণে চট্টগ্রামমুখি বিপুল কন্টেইনার জমে আছে। গত ২৪ ঘন্টায় আমাদের ৬ হাজার এককের বেশি কন্টেইনার জমেছে সিঙ্গাপুর বন্দরে। প্রতিদিন এই সংখ্যা দেড় থেকে দুই হাজার করে বাড়ছে।

তিনি বলছেন, আমরা নিয়মিত তিনটি জাহাজ দিয়ে এসব কন্টেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর থেকে চট্টগ্রাম আনছি। গ্রাহকদের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে দ্রুত জমে থাকা পণ্য আনতে আরো একটি জাহাজ যুক্ত করেছি। নতুন আরো একটি জাহাজ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে আসার উপযোগি জাহাজ ভাড়া পাচ্ছি না। কারণ গ্রাহকদের সন্তুষ্টিই আমাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, গত চার বছরের ইতিহাসে চট্টগ্রাম বন্দরে এখন ‘সর্বনিম্ন বার্থিং ডিলে’ চলছে। আমরা হিসাব করে দেখেছি গত জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত জেটিতে জাহাজ বার্থিং এখন এক দিনের কম। শুধু তাই ই নয়; গত চারমাস ধরে বহির্নোঙরে এসে কন্টেইনার জাহাজগুলো জেটি ‌‌’অন এরাইভাল বার্থিং’ নিচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here