ভিয়েতনাম-চট্টগ্রাম প্রথম কন্টেইনার জাহাজ সার্ভিস চালু হচ্ছে

0
1424

নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে ভিয়েতনামের হো চি মিন বন্দরের মধ্যে পণ্য পরিবহনে প্রথমবার কন্টেইনার জাহাজ সার্ভিস চালু করছে সিএনসি লাইন। ফ্রান্সভিত্তিক বিশে^র শীর্ষস্থানীয় শিপিং কম্পানি সিএমএ-সিজিএম এবং হংকংভিত্তিক শ্যানডং ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশান কম্পানি (এসআইটিসি) যৌথভাবে সার্ভিস চালু করছে। আগামী ২২ আগস্ট থেকে নতুন সার্ভিসটি যাত্রা শুরু করবে; এর নাম দেয়া হয়েছে বে বেঙ্গল এক্সপ্রেস-২ (বিবিক্স-২)। চট্টগ্রাম-চীনের মধ্যে বর্তমানে একাধিক জাহাজ সার্ভিস চালু থাকলেও ভিয়েতনামের সাথে পণ্য পরিবহন চালু উদ্যোগ এই প্রথম।
নতুন সার্ভিসের মাধ্যমে চট্টগ্রাম-ভিয়েতনাম সরাসরি পণ্য পরিবহনের সুযোগ হবে; একইসাথে ভিয়েতনামের হো চি মিন বন্দর ব্যবহার করে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে সময় সাশ্রয় এবং পণ্য পরিবহন খরচ কমবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিএমএ-সিজিএম গ্রুপের এক কর্মকর্তা শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, আমাদের সার্ভিসটি চারটি দেশের বন্দরের সাথে পণ্য পরিবহনে সংযুক্ত করবে। এতে খুব কম সময় লাগবে এবং পণ্য পরিবহন খরচও এক তৃতীয়াংশ কমে যাবে। নতুন সার্ভিসটি চীনের নিমবো বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে চীনের সাংহাই বন্দর এরপর চীনের সিকো বন্দরে যাবে। সেখান থেকে সরাসরি মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাঙ এবং পরে চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে। এরপর ফিরতি পথে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রপ্তানি পণ্য নিয়ে প্রথমে সিঙ্গাপুর বন্দর; এরপর সরাসরি ভিয়েতনামের হোচিমিন বন্দর এবং সেখান থেকে চীনের নিমবো বন্দরে গিয়ে যাত্রা শেষ হবে।
পরিচালনকারী প্রতিষ্ঠান বলছে, এই সার্ভিসের মাধ্যমে চীনের বন্দরের সাথে অত্যন্ত কম সময়ে এবং সাশ্রয়ে পণ্য পরিবহনের সুযোগ দিচ্ছি; যা অন্য কোন শিপিং লাইন এখনো পর্যন্ত দিতে পারেনি।
শিপিং ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন কন্টেইনার জাহাজ সার্ভিসের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ভিয়েতনাম হো চি মিন সিটি বন্দর হয়ে পণ্য আমেরিকা পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ২০ দিন। বর্তমানে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাঙ বন্দর হয়ে আমেরিকা পৌঁছতে সময় লাগে ৩০ দিন। ফলে নতুন সার্ভিসের মাধ্যমে ১০ দিন কম সময় লাগবে; যা দেশিয় রপ্তানিকারকদের জন্য বিশাল সুযোগ।
বাংলাদেশি তৈরী পোশাক ব্যবসায়ী ও চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, পণ্য রপ্তানির সময় কোন শিপিং লাইনে সেটি যাবে তা আমাদের আগে থেকেই নির্ধারন করা থাকে। বিদেশি ক্রেতারা নির্ধারিত শিপিং কম্পানির সাথে পণ্য পরিবহনের চুক্তি করে থাকে। ফলে এখনই আমরা চাইলে সেই লাইনে পণ্য পাঠাতে পারবো না। কিন্তু ১০ দিনের সময় সাশ্রয় হলে অবশ্যই বিদেশি ক্রেতারা লুফে নিবেন; যা আমাদের রপ্তানির জন্যও অনেক সুফল বয়ে আনবে। আগে লাইন চালু হোক; তাদের সার্ভিস এবং পরিবহন মাশুল কেমন সেটিও দেখার বিষয়।
সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে তৈরী পোশাক রপ্তানি আয়ের দিক থেকে এখনো শীর্ষস্থান দখলে রেখেছে চীন; দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ভিয়েতনাম আর তৃতীয়স্থানে নেমেছে বাংলাদেশ। এতদিন বাংলাদেশ চীনের পরই দ্বিতীয়স্থানে অবস্থান করছি। কভিড-১৯ এর ধাক্কায় পোশাক রপ্তানি বাড়লেও আয়ের দিক থেকে কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ তৃতীয়স্থানে নেমেছে। নতুন কন্টেইনার জাহাজ সার্ভিসের সুৃবিধা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ আবারও দ্বিতীয়স্থানে পৌঁছতে পারবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here