ভারত থেকে এক লাখ টন সরকারী চাল আসবে ছোট কোস্টাল জাহাজেই

0
925

বিশেষ প্রতিনিধি
উপকূলীয় নৌ রুটে চলাচলকারী ছোট জাহাজেই এবার ভারত থেকে সরকারীভাবে  চাল আমদানি হবে। ছোট জাহাজ ‌‌’সেঁজুতি’ দিয়ে প্রথমবার চাল আমদানির পর এই পদ্ধতিতেই মোট এক লাখ টন সরকারী চাল ভারত থেকে আমদানি হবে। কোলকাতা এবং মুম্বাই থেকে এসব চাল চট্টগ্রাম এবং মোঙলা সমুদ্রবন্দরের মাধ্যমে সরকারী গুদামে সরবরাহ দেয়া হবে।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, ছোট জাহাজে চাল আমদানির কারণে দুই ধরনের সুফল মিলছে। একটি হচ্ছে, কোলকাতা বন্দরে নাব্যতা সংকট উপযোগি জাহাজ ভিড়ানো; দ্বিতীয়টি হচ্ছে, উপকূলীয় নৌ রুটে চলাচলকারী জাহাজ হিসেবে বিশেষ ভাড়ায় পণ্য পরিবহনের সুযোগ; তৃতীয়টি হচ্ছে, এই ধরনের জাহাজে বার্থিং পাওয়ার জন্য জাহাজকে বহির্নোঙরে পৌঁছে বাড়তি সময় অপেক্ষায় থাকতে হয় না। কারণ এই জাহাজ ভিড়ার জন্য বন্দরের পৃথক এনসিটি-১ জেটি রয়েছে।
সরকারীভাবে ভারত ও মায়ানমার থেকে যত চাল আমদানি হয়েছে সেগুলোর কোনটিই এই ধরেনর ছোট জাহাজে আমদানি করা হয়নি। অপেক্ষাকৃত বড় জাহাজেই আমদানি হতো চাল। এই প্রথম ছোট বা উপকূলীয় নৌ রুটে চলাচলকারী জাহাজেই চাল আসলো। মুলত বাংলাদেশ-ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্য আনার পর থেকেই এই সুফল মিলেছে। সেই পণ্য এসেছিল সেঁজুতি জাহাজেই।

চালবাহী জাহাজ সেঁজুতির মালিক এমএসটি গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ক্যাপ্টেন শেখ শাহিখুল ইসলাম শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, ‌কোলকাতা বন্দরে নাব্যতা সংকটের কারণে বড় জাহাজ ভিড়তে পারে না। যেমন আমাদের জাহাজটির ৫ হাজার ২শ টন চাল পরিবহনে সক্ষম কিন্তু কোলকাতা বন্দরের নাব্যতা সংকটের কারণে আমরা নিতে পেরেছি ৪ হাজার ২শ টন। বেশি পণ্য নিতে পারলে একই জ্বালানী খরচ হতো। কিন্তু নাব্যতার কারণে সেটি নেয়া যায়নি। তিনি বলছেন, বাংলাদেশ-ভারত চুক্তি অনুযায়ী উপকূলীয় নৌ রুটে চলাচলকারী জাহাজের ক্ষেত্রে বিশেষ ট্যারিফ পায় দুদেশের জাহাজ। দুদেশই এসব জাহাজকে স্থানীয় জাহাজ হিসেবেই বিবেচনা করে। ফলে ভাড়ার ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হওয়ায় ছোট জাহাজেই পণ্য পরিবহনে আগ্রহী হচ্ছেন সবাই।

জানা গেছে, গত ৯ ডিসেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভায় ৫০ হাজার টন চাল আমদানির ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল ক্রয়প্রস্তাবে সায় দেওয়া হয়েছে। এই চাল সরবরাহ করছে ভারতের মুম্বাইয়ের রিকা গ্লোবাল ইমপ্লেক্স। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর দিয়ে এই চাল সরবরাহ করতে কেজিপ্রতি মূল্য পড়ছে ৩৪.২৮ টাকা। সে হিসাবে প্রতি টনের দাম পড়ছে ৪০৪.৩৫ ডলার।

এর আগে গত ২ ডিসেম্বর পৃথক আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল ক্রয়প্রস্তাবে সায় দেওয়া হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের এমএস পিকে অ্যাগ্রি লিংক প্রাইভেট লিমিটেড এই চাল সরবরাহ করবে বলে জানানো হয়েছিল। সেই চালের প্রথম চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে গত ২৩ ডিসেম্বর। ক্যাপ্টেন শেখ শাহিখুল ইসলাম বলছেন, প্রথম সরবরাহকারী কোলকাতা বন্দর থেকেই ৫০ হাজার টন চাল সরবরাহ দিবে। আর দ্বিতীয় সরবরাহকারী ভাইজাগ এবং কাকিনাদা বন্দর থেকে চাল আনবে। তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করছে। সব চালই আনা হবে এসব কোস্টাল জাহাজেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here