বেসিক ধরে উৎসাহ বোনাসে হতাশ বন্দর কর্মচারীরা

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

7 December, 2021 23 Views

23

‘উৎসাহ বোনাস’ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা তৈরী হয়েছে। বিশেষ কোন উপলক্ষে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মীদের মধ্যে ‘উৎসাহ বোনাস’ বা ইনসেনটিভ দেয়া হতো একটি নির্ধারিত পরিমান। কখনো এর পরিমান ছিল ২০ হাজার টাকা, কখনো ২৫ হাজার বা কখনো ৩৫ হাজার টাকা। কিন্তু এই প্রথম এই উৎসাহ বোনাস দেয়া হলো মুল বেতন বা এক বেসিকের সমান টাকা। এরফলে বন্দরের কর্মকর্তারা লাভবান হয়েছেন ঠিকই কিন্তু কর্মচারীরা ন্যায্যতা থেকে থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এতে অনেকেই ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী পরিষদ (সিবিএ) যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহুল ইসলাম বলেন, এই প্রথম আমরা ন্যায্য বোনাস থেকে বঞ্চিত হলাম। ২০১৮ সালেও উৎসাহ বোনাস হিসেবে আমরা ৩৫ হাজার টাকা থোক বরাদ্দ পেয়েছি। কখনো এমনটি হয় নি। সবসময় আমরা উৎসাহ বোনাস পেতাম থোক বরাদ্দ বা নির্দিষ্ট পরিমান। উচু থেকে ছোট কর্মী সবাই সমানহারে এই বোনাস পেতেন। কিন্তু এবার বেসিক ধরেই বোনাস নির্ধারন করায় যার বেসিক বেশি তিনি লাভবান হলেন। এতে হতাশা তৈরী হয়েছে কর্মচারীদের মধ্যে।

কর্মচারীরা অভিযোগ করেছেন, এটা তেলে মাথায় তেল দেয়ার মতো হয়েছে। বন্দর সিবিএ নেতৃত্বের ব্যর্থতার জন্য এমনটি করতে পেরেছে। আগের সিবিএ নেতৃত্ব যদি সবার জন্য সমানভাবে ৩৫ হাজার টাকা বোনাস দিতে পারে তাহলে কেন এখনকার ওরা করতে পারলো না? এই নেতৃত্ব রেখে লাভ কী?

জানা গেছে, পণ্য উঠানামার নির্ধারিত লক্ষমাত্রা অর্জিত হওয়ায় উৎসাহ বোনাসের জন্য প্রস্তাব পাঠায় বন্দর কর্তৃপক্ষ। নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয় থেকে সেটি অনুমোদন হয়ে অর্থমন্ত্রনালয় ছাড়পত্র দেয়। গত ১৩ অক্টোবর নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের পাঠানো এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বন্দর কর্তৃপক্ষে কর্মরত ৫ গ্রেড এবং তার নীচের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই কেবল মুল বেতনের সমপরিমান টাকা উৎসাহ বোনাস হিসেবে প্রাপ্য হবেন। তবে ই কর্মীকে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মরত থাকতে হবে। বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজ তহবিল থেকে এই টাকার যোগান দিবে। এতে সরকারের কোন অর্থ সংশ্লেষ থাকবে না।

চট্টগ্রাম বন্দর সর্বশেষ ২০২০-২০২১ অর্থবছরে প্রায় ৩১ লাখ একক কন্টেইনার উঠানামার লক্ষমাত্রা অর্জন করেছে। শতাংশের হিসেবে এই লক্ষমাত্রা তিন শতাংশ। একইসাথে সাধঅরন পণ্য উঠানামা হয়েছে ১১ কোটি ৩৭ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন শতাংশের হিসেবে এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ১২ শতাংশ। একইসাথে জাহাজ আসা-যাওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৬২টি। শতাংশের হিসেবে এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮ শতাংশ।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, মন্ত্রনালয় যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন আমরা তার আলোকেই বাস্তবায়ন করবো। এখানে আগবাড়িয়ে কিছু করার সুযোগ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *