বিপুল রপ্তানি কন্টেইনার পাঠানো নিয়ে উদ্বেগে বাংলাদেশি রপ্তানিকারক

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

5 December, 2021 1 Views

1

বিশেষ প্রতিনিধি
ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে জাহাজ জট এবং কন্টেইনার সংকটের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা। বাংলাদেশ থেকে পণ্য পাঠাতে জাহাজে পর্যাপ্ত স্থান না পাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানির কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রিতার মুখে পড়েছে। আর এতে করে পণ্য যথাসময়ে পাঠানো নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন রপ্তানিকারকরা।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই সংকটের কারণে চট্টগ্রামের ১৯টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপোর ভেতরে-বাইরে রপ্তানি পণ্যের স্তূপ জমে গেছে। কন্টেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডার হিসাবে, এই মুহূর্তে ডিপোগুলোতে ১৪ হাজার একক রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার আটকা আছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে ডিপোগুলোতে গড়ে ছয় থেকে সাত হাজার একক রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার থাকে। সবগুলো ডিপোর ধারণ ক্ষমতা আট হাজার একক কনটেইনারের।
বিকডা  সেক্রেটারি মো. রুহুল আমিন শিকদার বলেন, বেশিরভাগ ডিপোগুলোতে রপ্তানি পণ্য উপচে পড়েছে। জাহাজে কনটেইনার বুকিং না দিতে পারায় ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা সময়মতো কার্গো লোডিং প্ল্যান দিতে পারছেন না। ফলে ডিপোতে রপ্তানি পণ্য স্বাভাবিকের চাইতে বেশি সময় ধরে পড়ে থাকছে  কনটেইনার সংকটের এই বিষয়টি কেবল বাংলাদেশেই আটকে নেই। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হওয়ার জন্য গত বছরের নভেম্বর থেকেই বৈশ্বিক শিপিং সেক্টরে এই সমস্যা চলছে।
শিকদার বলেন, স্বাভাবিক সময়ে রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরনে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে। কিন্তু কনটেইনার সংকটের কারণে তা আরও বেশি সময় ধরে শেডেই থেকে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, তৈরীর পর কারখানা থেকে প্রথমে রপ্তানি পণ্য ডিপোগুলোতে পাঠানো হয়। ডিপোতে আনার পর কাভার্ড ভ্যান থেকে পণ্য নামিয়ে শেডে রাখা হয়। সেখানে বিদেশি ক্রেতাদের প্রতিনিধিদের (ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার) হাতে পণ্য বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপর প্রতিনিধিরা কনটেইনার ভাড়া নিয়ে শেডে থাকা রপ্তানি পণ্য কনটেইনারে বোঝাই করার ব্যবস্থা করেন। একই সময়ে শুল্কায়ন কার্যক্রম করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। এরপর ডিপো থেকে বন্দরে নিয়ে নির্ধারিত জাহাজে তুলে দেওয়া হয় কনটেইনার।
চট্টগ্রামভিত্তিক তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিনস লিমিটেড চার দিন আগে ২৭টি কাভার্ড ভ্যান বোঝাই রপ্তানি পণ্য চারটি ডিপোতে পাঠায়। কিন্তু ডিপোতে জায়গা না থাকায় এখনো গাড়ি থেকে পণ্য নামানো যায়নি।
প্যাসিফিক জিনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ এম তানভীর জানান, কনটেইনার সংকটের জন্য কলম্বো, সিংগাপুরসহ বিভিন্ন ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরগুলোতে জটের কারণে বিশ্বব্যাপী সমুদ্র পথে পণ্য পরিবহনের সাপ্লাই চেইনে বিঘ্ন ঘটছে। যে কারণে রপ্তানি পণ্য কাঙ্ক্ষিত দেশগুলোতে ১৫ থেকে ৩০ দিন দেরিতে পৌঁছাচ্ছে।
জাহাজজট এবং কন্টেইনারের এই জট বৈশ্বিক সমস্যা এতে চট্টগ্রাম বন্দরের ভূমিকা নেই। কারণ বিদেশের বন্দরগুলোতে বিশেষ করে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে জাহাজজটের কারণেই এই অচলাবস্থার সৃষ্টি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন পরিকল্পনা) জাফর আলম বলছেন, ‘এটি বৈশ্বিক সমস্যা। আমাদের বন্দরের এতে কিছুই করার নেই। রপ্তানিকারকেরা ৪০ ফুট কনটেইনারে পণ্য পাঠানোর চুক্তি করেছিলেন বিভিন্ন শিপিং এজেন্টদের সঙ্গে। বৈশ্বিক চাহিদার কারণে যেসব কনটেইনার এখন ইউরোপ-আমেরিকায় আটকা পড়েছে। যে কারণে ওই সব কনটেইনারের সংকট। তারা যদি ক্রেতাদের স্বার্থ আর ভবিষ্যৎ আদেশের কথা ভেবে তাদের পণ্যগুলো ২০ ফুট কনটেইনারে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়, তবে সাময়িকভাবে সমস্যার কিছুটা সমাধান হতে পারে।
তিনি বলেন, ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে জট কমানোর এখতিয়ার তো আমাদের নেই। তবে রপ্তানি পণ্য পাঠাতে ৪০ ফুটের বদলে যদি  ২০ কন্টেইনার পাঠানোর উদ্যোগ শিপিং লাইনগুলো নেয়; তাতে বন্দর দ্রুত হ্যান্ডলিংয়ে সহযোগিতা করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *