বিনিময় সভায় চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান, এক বছরে ১০০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি বন্দরের বহরে যুক্ত হয়েছে

0
1433
????????????????????????????????????

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

বিগত ২০১৮ সালে এক হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কিনে চট্টগ্রাম বন্দরের বহরে যুক্ত করা হয়েছে; এরফলে কন্টেইনার পরিবহনে গতিশীলতা বেড়েছে ৩০ শতাংশ। জাহাজের অপেক্ষমান সময় কমেছে, কম সময়ে বেশি জাহাজ জেটিতে ভিড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং বন্দর ব্যবহারকারীদের সময় অর্থ দুটোর সাশ্রয় হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে আরও চারটি কী গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হবে।
গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের শহীদ মুন্সি ফজলুর রহমান অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এই কথা বলেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ।

আজ বৃহষ্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই দিনটিকে প্রতিবছরই ‘চট্টগ্রাম বন্দর দিবস’ হিসেবে পালন করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ উপলক্ষে সংবাদকর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে প্রবৃদ্ধি সামাল দিতে বন্দর চেয়ারম্যান বন্দরের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা ও নির্মানাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, বন্দরের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি সামাল দিতে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মিত হচেছ; যেখানে পাওয়া যাবে চারটি জেটি। এটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নির্মান শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময় বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বহুল প্রতীক্ষিত বে টার্মিনাল নির্মানের জন্য ৮৭০ একর জমি ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এই টার্মিনালে প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ বর্গমিটার ইয়ার্ড এবং ট্রাক টার্মিনাল নির্মিত হবে। আগামী তিনমাসের মধ্যে এই টার্মিনাল পরিচালনার বিদেশি অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করা হবে। ২০২১ সালের মধ্যেই এই টার্মিনাল দৃশ্যমান হবে।

লালদিয়া চরে লালদিয়া মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মানের কার্যক্রম নেয়া হয়েছে উলে­খ করে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, এখানে পাঁচটি জেটি থাকবে; এক হাজার মিটার এবং তিনশ মিটার প্রস্থের ব্যাক আপ ইয়ার্ড থাকবে। বন্দর মুল জেটির চেয়েও বড় ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ ভিড়তে পারবে। এই টার্মিনাল ২০২১ থেকে ২০২২ সালে চালুর লক্ষ নিয়ে কাজ করছি।

চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজট নেই উলে­খ করে রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ বলেন, ২০১৮ সালেও একটি জাহাজকে ১৪দিন অপেক্ষা করেই জেটিতে ঢুকতে হতো এখন সেই অপেক্ষমান সময় মাত্র এক থেকে চারদিনে নেমেছে । যন্ত্রপাতি সংযোজন, জাহাজের পণ্য পরিবহনে নজরদারি এবং দক্ষতা কাজে লাগিয়ে এই সফলতা অর্জন সক্ষম হয়েছি।

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, কর্ণফুলী নদীর সদরঘাটে পাঁচটি লাইটার জেটি নির্মান শেষে পরিচালনার জন্য বেসরকারী শিল্পগ্র“পকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এতে কম সময়ে পণ্য খালাস করা সম্ভব হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় মোট ১৫টি লাইটার জেটি নির্মিত হবে। লালদিয়া ইনকনট্রেড ডিপোর পাশে আরও পাঁচটি লাইটার জেটি নির্মান কাজ চলছে। চাঁন্দগাওয়ের হামিদচরে পাঁচটি জেটি এবং সীতাকুন্ডে আরও পাঁচটি জেটি নির্মিত হচ্ছে।

মীরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি বন্দর নির্মানের বিষয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্টে ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে উলে­খ করে চেয়ারম্যান বলেন, সেখানে দেশি-বিদেশি শিল্প কারখানার চালুর সাথে মিল রেখে সেই বন্দর বাস্তবায়ন হবে।

কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং কাজ কাঙ্খিত গতি পাচ্ছে না স্বীকার করে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, নদীতে পলির সাথে ইট, কাঠ ও কাঠের গুঁড়া, পাথর ও পলিথিন মিশে থাকার কারণে ড্রেজার মেশিন সঠিক গতিতে কাজ করতে পারছে না। এরপরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমা ছয়গুন বাড়ার পর রাজস্ব আয় বেড়েছে উলে­খ করে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা এখন বাড়তি এলাকার নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কাজ করছি।

চট্টগ্রাম বন্দরকে ‘গ্রীন পোর্ট’ করার পরিকল্পনা উলে­খ করে চেয়ারম্যান বলেন, এরই অংশ হিসেবে সব যন্ত্রপাতি ইউরোপিয় কমিশন স্ট্যান্ডার্ড অনুসরন করা হচ্ছে। সকল নির্মানকাজ গ্রীন পোর্ট ধারনার আদলে গ্রহন করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন পরীক্ষার পর নিয়োগ যথাসময়ে চুড়ান্ত করতে তিনি পদক্ষেপ নিবেন বলে সাংবাদিকদের জানান।
মত বিনিময় সভায় চট্টগ্রাম বন্দর সদস্য (এডমিন ও প্ল্যানিং) জাফর আলম, সদস্য (প্রকৌশল) কমডোর খন্দকার আক্তার হোসেন, বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

বন্দর দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার বিকালে বন্দরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংবর্ধনা দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে প্রতি বছর বন্দর দিবসের দিন মেজবানের আযোজন থাকলেও এবার ব্যতিক্রম। বৃহষ্পতিবারের পরিবর্তে আগামী শনিবার বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের জন্য পৃথকভাবে মেজবানের আয়োজন করা হয়েছে। আর শনিবার বিকালে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

২৪ এপ্রিল ২০১৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here