বিএম ডিপোর পণ্যভর্তি অক্ষত কন্টেইনারের কী হবে ?

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

8 August, 2022

Views

বিএম কন্টেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর আমদানি-রপ্তানি পণ্যভর্তি অনেকগুলো কন্টেইনার পুড়ে গেছে। এরমধ্যেই ডিপোর ভিতর ছাউনির পূর্ব ও দক্ষিনপাশের কন্টেইনারগুলো প্রায়ই অক্ষত আছে। পণ্যভর্তি সেই কন্টেইনারগুলোর কী হবে? ডিপোর নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রনের ঘোষনা দেয়ার পর এই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

বিস্ফোরনের পর বিএম ডিপোর কার্যক্রম যেহেতু পুরোপুরি বন্ধ, কবে নাগাদ সচল হবে তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। এই পরিস্থিতিতে কন্টেইনারে পুড়ে যাওয়া রপ্তানি পণ্যের আর্থিক ক্ষতিপুরণ দেয়ার ঘোষনা দিয়েছে এইচএন্ডএমসহ বিদেশি কয়েক ক্রেতা। ফলে সেই কন্টেইনার নিয়ে শঙ্কা কেটেছে। কিন্তু অক্ষত থাকা কন্টেইনারে ভিতর পণ্যের পরিণতি কী হবে নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
জানতে চাইলে গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলছেন, ইতোমধ্যেই বিদেশি ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত কন্টেইনারের ক্ষতিপুরণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছেন। আগুনও ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রনে এসেছে। কী কারণে এই বিস্ফোরণ সেটি তদন্ত করে দেখবে সরকারী সংস্থাগুলো। এর বাইরে যেসব কন্টেইনার পণ্যভর্তি অক্ষত আছে সেগুলো বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে রপ্তানির পদক্ষেপ নিতে পারলে আমাদের ভাবমূর্তি বাড়বে।

কন্টেইনার ডিপো কর্তৃপক্ষের দেয়া হিসাবে, শনিবার পর্যন্ত বিএম কন্টেইনার ডিপোতে সাড়ে চার হাজার একক কন্টেইনার ছিল। কিন্তু সেখানে পণ্যভর্তি বা খালি কন্টেইনার কত তার হিসাব পাওয়া যায়নি।
আর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পাওয়া তথ্যমতে, গত শনিবার পর্যন্ত বিএম ডিপোতে ৪ হাজার ৩১৮ একক কন্টেইনার ছিল। এরমধ্যে রপ্তানি পণ্যের কন্টেইনার ছিল ৮৬৭ একক; আমদানি পণ্যের কন্টেইনার ছিল ৫৫৭ একক। আর খালি কন্টেইনার ছিল সবচে বেশি ২ হাজার ৮৯৭ একক।
তবে গতকাল বুধবার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আগুনে ডিপোতে থাকা কমপক্ষে ৪শ একক কন্টেইনার পুড়ে গেছে। অন্যকোন সরকারী সংস্থা এখন পর্যন্ত কী পরিমান কন্টেইনার ছিল এবং কত কন্টেইনার পুড়ে গেছে, কত কন্টেইনার অক্ষত আছে সেই হিসাব করেনি।
এই পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে, ডিপোতে পণ্যভর্তি কন্টেইনার ছিল ১ হাজার ৪২৪ একক। এরমধ্যে আমদানি ও রপ্তানি কন্টেইনার ছিল। এরমধ্যে যদি ৪শ একক কন্টেইনার পুড়ে যায় তাহলে পণ্যভর্তি বাকি কন্টেইনার থাকে ১ হাজার এককের বেশি কন্টেইনার।
সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সব দপ্তরের তথ্য আমলে নিলে, ডিপোতে বেশি পুড়েছে রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার। সে হিসেবে আরো অন্তত ৫শ থেকে ৬শ একক রপ্তানি কন্টেইনার অক্ষত আছে। একইভাবে অক্ষত আছে আমদানি পণ্যের কন্টেইনারও।

জানা গেছে, ডিপোর মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থিত ছাউনির পশ্চিম দিকের কনটেইনারে আগুন থেকে বিস্ফোরণ হয়। এই ছাউনিতেই কার্টনগুলো কন্টেইনারে বোঝাই করা হয়। আর এর পাশেই ছিল বিপদজনক রাসায়নিক হাইড্রোজেন পার অক্সাইড। গত মঙ্গলবার দেখা যায়, বিস্ফোরণে ছাউনি ও পশ্চিম দিকে কয়েক স্তরে থাকা কনটেইনার পণ্য ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। তবে ছাউনির পূর্ব ও দক্ষিণ পাশের কনটেইনারগুলো অক্ষত দেখা গেছে। এসব কনটেইনারে আমদানি-রপ্তানি পণ্য রয়েছে। এখন সেই কন্টেইনারগুলো ডিপো থেকে বের করার সুযোগ নেই, কারণ ডিপো কার্যক্রম পুরোপুরি অচল।
জানতে চাইলে ডিপোতে কর্মরত এক কাস্টমস কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলছেন, ডিপোতে আমাদের কম্পিউটার সিস্টেম পুরোপুরি অচল হয়ে গেছে। সেই কার্যক্রম সচল না হওয়া পর্যন্ত আর কাস্টমসের অনুমতি ছাড়া তো পণ্য বের করার আইনী সুযোগ নেই।

একইসাথে ডিপো কার্যক্রমও অচল। সেইসাথে ঘটনার তদন্তে অনেকগুলো তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটি কাজও শুরু করেছে। তাদের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অক্ষত কন্টেইনার সরানো কঠিন।
তবে শীর্ষস্থানীয় এক শিপিং লাইনের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে কালের কণ্ঠকে বলেন, একটু জটিল হলেও উদার দৃষ্টিভঙ্গিতে চাইলে এটা সম্ভব। এখন কথা হচ্ছে ডিপো মালিক কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসন সেটি কিভাবে দেখছে তার ওপর নির্ভরশীল।
রপ্তানির প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশি ক্রেতা এবং তার দেশিয় প্রতিনিধি ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারা যদি চায় অক্ষত কন্টেইনার নিবে তাহলে সেটা সম্ভব। এজন্য কন্টেইনারে পণ্যগুলো ঠিক আছে কিনা কাস্টমস তদন্ত করে নিশ্চিত করবে। এরপর কাস্টমস ও ডিপোর ছাড়পত্র নিয়ে জাহাজীকরন করতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.