বিএম কন্টেইনার ডিপোতে বিপদজনক পণ্য রাখার কোন ব্যবস্থাই নেই

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

8 August, 2022

Views

ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর জানা গেলে বেসরকারী বিএম কন্টেইনার ডিপোতে বিপদজনক পণ্য রাখার কোন ব্যবস্থা নেই। বিস্ফোরক দপ্তরের কোন অনুমোদন নেই। তৈরী পোশাক পণ্য, অন্য রপ্তানি পণ্যের পাশাপাশিই রাখা হয়েছিল এই বিপদজনক রাসায়নিক। আর একসাথে সব পণ্য রাখার কারণেই বিস্ফোরন এবং ক্ষতির পরিমান রেকর্ড ছুঁয়েছে। এরমধ্যে সবচে বেশি ক্ষতি হয়েছে রপ্তানির জন্য নেয়া তৈরী পোশাক পণ্যের।
তবে শুধু বিএম ডিপোই নয়, চট্টগ্রামের বেসরকারি আরও ১৮টি ডিপো এবং বন্দরগুলোতে বিপজ্জনক পণ্য সুরক্ষা মেনে ওঠানো–নামানো, পরিবহন ও সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা নেই। নেই কোন ধরনের তদারকি। এরফলে দুর্ঘটনার ক্ষতি বেশি হয়েছে।
বিপদজনক পণ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থা প্রণীত ‘ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ডেঞ্জারাস গুডস বা আইএমডিজি কোড’ আছে। সাগরে জীবনের নিরাপত্তাবিষয়ক সোলাস (সেফটি অব লাইফ অ্যাট সি) কনভেনশনের আওতায় এ কোড রয়েছে। এ কনভেনশনে বাংলাদেশ অনুস্বাক্ষর করেছে। ২০০৪ সাল থেকে এ কোডের নিয়মকানুন মানা বাধ্যতামূলক। এ কোডের আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয় ২০১০ সাল থেকে।
এ কোডের আওতায় নয়টি ক্যাটাগরির পণ্যের একটি তালিকা রয়েছে। তাতে রাসায়নিক, বিস্ফোরক, বিপজ্জনক গ্যাস, দাহ্য তরল ও কঠিন পদার্থ, বিষাক্ত, তেজস্ক্রিয়, জারণ পদার্থসহ বিপুলসংখ্যক পণ্য রয়েছে। সাধারণত অন্য পদার্থের সংস্পর্শে এলে এসব পণ্য স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতির কারণ হতে পারে। সে জন্য এসব পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে সংরক্ষণে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তার নীতিমালা আছে আইএমডিজি কোডে। কিন্তু বেসরকারী কন্টেইনার ডিপােতে মানা হয় না কোন নীতিমালা।
জানতে চাইলে বেসরকারি কনটেইনার ডিপো মালিক সমিতির সভাপতি নুরূল কাইয়ূম খান বলেন, বিপজ্জনক পণ্য সম্পর্কিত বিধিবিধান অনেক কিছু মানা হয় ডিপোতে। কনটেইনারে লেবেল বা মার্কিং দেওয়া হয়। মার্কিং দেওয়া না হলে তা বন্দরই আটকে দেবে। তবে এটা ঠিক, আন্তর্জাতিক বিধিবিধান অনুযায়ী দেশে একটি পরিপূর্ণ নীতিমালা করা উচিত—কারা বিপজ্জনক পণ্য পরিবহন করতে পারবে; যারা করবে, তাদের কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে ইত্যাদি।

ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনার পর তৈরি পোশাকশিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ গত রোববার তাদের সদস্যদের কাছে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব চেয়ে চিঠি দেয়। গতকাল সোমবার বিকেল পৌনে ছয়টা পর্যন্ত ২৮টি কারখানা তাদের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাঠিয়েছে।
বিজিএমইএর তথ্যানুযায়ী, ২৮ পোশাক কারখানার ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৮৮৪ পিস পোশাক আগুনে পুড়ে গেছে, যার রপ্তানি মূল্য ১ কোটি ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৫৯৬ মার্কিন ডলার। প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ৯২ টাকা ধরে হিসাব করলে দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১০৫ কোটি টাকা। এসব পোশাকের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে এইচঅ্যান্ডএম, টার্গেট করপোরেশন, এমবিএইচ, বেস, ফেম এলএলসি ইত্যাদি। যেসব কারখানা ক্ষতির হিসাব পাঠিয়েছে, তাদের মধ্যে জেএফকে ফ্যাশন, একেএইচ নিটিং অ্যান্ড ডায়িং, ভার্সেটাইল টেক্সটাইল, ভিশন অ্যাপারেলস, ইমপ্রেস-নিউটেক্স কম্পোজিট টেক্সটাইলস, আয়শা ক্লথিং, ভ্যানগার্ড গার্মেন্টস, অ্যারো ফেব্রিকস, ডিভাইন ইনটিমেটস, প্যাসিফিক জিনস, সি ব্লু অ্যান্ড সি টেক্স টেক্সটাইল, রিও ফ্যাশনওয়্যার অন্যতম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.