বাড়তি শ্রমিক মজুরি নিয়ে বার্থ অপারেটর-শিপিং এজেন্ট দ্বন্দ্ব; বাড়ছে জটিলত

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

25 October, 2021 0 Views

0

বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য উঠানামার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট হারে মজুরি বাড়ানোর নিয়ম চালু আছে।চুক্তি অনুযায়ী বিগত ২০১৬ সাল থেকে সেই নিয়মে বাড়তি মজুরি পাচ্ছেন শ্রমিকরা। কিন্তু চলতি বছর থেকে এই বাড়তি মজুরি আদায় নিয়ে বন্দরের বার্থ অপারেটর এবং শিপিং এজেন্টদের মধ্যে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।
পণ্য উঠানামা বাবদ শিপিং এজেন্টরা এই বিল পরিশোধ করেন বন্দরের বার্থ অপারেটরকে। আর বার্থ অপারেটররা মাসশেষে কর্মরত শ্রমিকদের এই মজুরি প্রদান করেন।কিন্তু মুল জটিলতা তৈরী হয়েছে বাড়তি মজুরি বিল নিয়ে।
শিপিং এজেন্টরা বলছেন, চুক্তি অনুযায়ী কন্টেইনার জাহাজের শ্রমিকদের মজুরি ৪ শতাংশ ও কার্গো জাহাজের শ্রমিকদের মজুরি ৯ শতাংশ বাড়ানোর বিধান রয়েছে। বার্থ অপারেটররা শ্রমিক মজুরির পর বাড়তি বিল না দিয়ে পুরো বিলের পর বাড়তি বিল তৈরী করে আদায়ের জন্য চাপ দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী বলছেন, প্রতিবছর জাহাজের শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির যে নিয়ম রয়েছে সেটি শুধুমাত্র শ্রমিকদের মজুরির উপর বাড়ার কথা; মূল বিলের উপর নয়। কিন্তু আমাদেরকে শ্রমিকের মজুরির উপর বাড়তি বিল না দিয়ে মোট বিলের উপর বাড়তি বিল করে পরিশোধের জন্য বলা হচ্ছে; যা নিয়ম বহির্ভূত। এতেই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের বারবার বলা হয় চুক্তির সময় প্রতি বছর মজুরি না বাড়িয়ে ৫ বছরের চুক্তিতে একবার বাড়াতে। কিন্তু সেটি করা হয় না। ৫ বছরে একবার সেটি করা হলে এই জটিলতা দেখা দিত না।
বার্থ অপারেটররা বলছেন, প্রতিবছরই বাড়তি বিল নিয়ে তারা নানা ছলচাতুরি করেন; এবার তা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বার্থ অপারেটরস শিপহ্যান্ডেলিং অপারেটরস এন্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী বলছেন, ২০১৬ সাল থেকেই চুক্তি অনুযায়ী এই নিয়ম চলে আসছে।প্রতিবছর আমাদের অনবোর্ড অপারেশনের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের ১০ শতাংশ হারে মজুরি বাড়াতে হয়। কিন্তু শিপিং এজেন্টদের প্রতিবছর সেই কন্টেইনারের শ্রমিকদের ৪ শতাংশ ও কার্গো জাহাজের শ্রমিকদের ৯ শতাংশ চার্জ বাড়ানোর নিয়ম থাকলেও তারা সেই বিল পরিশোধ করেন না। এ নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম চেম্বার উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সেই বর্ধিত বিল পরিশোধের জন্য বলে দেওয়া হলেও তা মানছে না শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশন।
উল্লেখ্য, বাড়তি মজুরি পরিশোধের ব্যাপারে গত ২৯ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরের বোর্ড সভায় ত্রিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বন্দরের প্রশাসন ও পরিকল্পনা সদস্য জাফর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অনবোর্ড অপারেশনের নিয়োজিত কন্টেইনার জাহাজের শ্রমিকদের ৪ শতাংশ ও কার্গো জাহাজের শ্রমিকদের ৯ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি করে পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে গত ১২ আগস্ট শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশন থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষকে ওই বিল পরিশোধে অপারগতা জানালে জটিলতা সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ গত ৮ নভেম্বর বিষয়টি নিয়ে সভা করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম বলছেন, বিষয়টি দু্ই বন্দর ব্যবহারকারীর নিজস্ব বিষয়; বন্দরের কাজে কোন ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য আমরা মধ্যস্থতা করেছি।এখন চট্টগ্রাম চেম্বার কর্তৃপক্ষ বসে বিষয়টি সমাধান করবে। আমরা চিঠি দিচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *