বাল্কহেড বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর নেই; আবারো বন্দরে জাহাজ চলাচলের পথেই ডুবলো ‌’বাল্কহেড’

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

19 October, 2021 0 Views

0

বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে জাহাজ চলাচলের প্রবেশপথ বা চ্যানেলে বাল্কহেড (বালু বহনকারী জাহাজ) চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে আগেই। মুলত এসব জাহাজ দিয়ে পণ্য পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং নৌ বাণিজ্য দপ্তর সর্বশেষ বৈঠকে বসে আগের সিদ্ধান্ত কার্যকরে অনুমোদন দেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত অবৈধ এসব বাল্কহেডের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি বন্দর কিংবা নৌ বাণিজ্য দপ্তর। এই অবস্থার মধ্যেই ইঞ্জিন বিকল হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ‌‌’এমভি পিংকি’ নামের একটি বাল্কহেড (বালু বহনকারী জাহাজ) ডুবে গেছে।
বাল্কহেডটি এমন এক স্থানে ডুবেছে এর একটু আগে-পরে হলেই চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেল দিয়ে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ এমনকি বন্ধ হতে পারতো। জানা গেছে, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর নতুন ব্রীজ এলাকা থেকে পাথর বোঝাই করে ভাসানচর যাচ্ছিল। জাহাজটি বন্দর চ্যানেল পাড়ি দিয়ে বহির্নোঙরে যাওয়ার সময় একটি বিদেশি জাহাজের চেনের সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পতেঙ্গা লাইট হাউস থেকে ২ নটিক্যাল মাইল দূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ডুবতে থাকা অবস্থায় জাহাজের একজন নাবিক লাফ দিয়ে পাশে থাকা একটি লাইটার জাহাজ ‘নাসিমা জাহান’ এ সাতার কেটে উঠে প্রাণ বাঁচায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের টাগবোট কে-৭ এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের হাইস্পিড বোট ‘স্টিংরে’ ‘এমভি পিংকি’ জাহাজের ৫ নাবিককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। ডুবে যাওয়া জাহাজটির মালিক ঢাকা ডেমরা বাজারের ওবাইদুল হক।
কোস্ট গার্ড পূর্বজোনের লে. কমান্ডার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়েই কোস্ট গার্ডের হাইস্পিড বোট পাঠিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। আমরা পৌঁছার পরই জাহাজটি ডুবেছে।
তিনি বলেন, জাহাজে থাকা ৫ নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করেছি। এ দুর্ঘটনার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ চলাচলে সমস্যা হচ্ছে না, বন্দর জেটিতে জাহাজ চলাচলের প্রবেশপথ বা চ্যানেল স্বাভাবিক রয়েছে।
সূত্র জানায়, বাল্কহেডটির ইঞ্জিন চলমান অবস্থায় বিকল হলে একটি মার্চেন্ট শিপের চেইন ক্যাবলের সঙ্গে সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনায় ঘটে। জাহাজটিকে উদ্ধার করা যায়নি এখনো।
চট্টগ্রাম বন্দরের ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলম বলেন, ‘ডুবে যাওয়ার পর জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি এড়াতে কান্ডারি-৭ দিয়ে জাহাজটিকে টেনে একপাশে নিচ্ছে। আর বিএলভি আলী জাহাজটি গিয়ে জাহাজের চারদিকে সতকর্তামূলক চিহ্ন বসিয়ে দিচ্ছে; যাতে নতুন কেউ এই পথে আসলে বুঝতে পারে। আর বন্দর চ্যানেল দিয়ে এই ধরনের জাহাজ চলাচলের সুযোগ নেই; তাই বাল্কহেড মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *