বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন আদেশ বাতিল, খুশি ব্যবসায়ীরা কোয়ারেন্টিন ছাড়াই চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে চীনা জাহাজ

0
927

নিজস্ব প্রতিবেদক
চীনের বন্দর থেকে চট্টগ্রাম ও মোঙলা বন্দরে আসা পণ্যবাহি জাহাজকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন বা সংগনিরোধ করার আদেশ বাতিল করলো নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তর। চীনে করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমন ছড়িয়ে পড়লে সতর্কতা হিসেবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি এই আদেশ দিয়েছিল সরকারী ওই সংস্থা। এরপর থেকে চীনা জাহাজ এবং চীনের বন্দর ছুঁ আসা যেকোন জাহাজকেই চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশের আগে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন সম্পন্ন করতে হতো। সাড়ে ৫ মাস পর গত ১২ জুলাই থেকে সেই আদেশ বাতিল করায় কোয়ারেন্টিন ছাড়াই চীনা জাহাজ পণ্য নিয়ে বন্দরে ভিড়তে পারবে।
জানতে চাইলে নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, জাহাজের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আমরা ফেব্রুয়ারিতে এই সতকর্তা দিয়েছিলাম। এরফলে আমরা চীন থেকে জাহাজের মাধ্যমে সরাসরি করোনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পেরেছি। এখন চীনে করোনা সংক্রমন পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় দেশের নিরবচ্ছিন্ন ব্যবসা এবং পরিবহন খরচ কমিয়ে আনার জাতীয় স্বার্থে আদেশটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে ও বহির্নোঙরে পৌঁছা দেশি-বিদেশি জাহাজের নাবিকদের করোনা লক্ষন পরীক্ষার কাজ করে পোর্ট হেলথ বিভাগ; যেটি নিয়ন্ত্রন করে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোতাহার হোসেন শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তরের চিঠি আমরা পেয়েছি। কিন্তু জাহাজের নাবিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ অব্যাহত রাখবো কিনা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদের এখনো কিছু বলেনি। তাই আজ সোমবারও আমরা জাহাজে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ চালাচ্ছি। ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৯শ জাহাজের ২০ হাজারের অধিক নাবিকের স্বাস্থ্য পরীক্ষার করেছি। মাত্র একজনের একটু জ্বর পেয়েছিলাম। তাৎক্ষনিকভাবে তাকে জাহাজের কক্ষেই আইসোলেশনে রাখার আদেশ দিয়েছিলাম।’

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, চীনে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তর থেকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। আশা করছি এখন থেকে চীনের জাহাজও স্বাভাবিকভাবেই বন্দর জেটিতে ভিড়তে পারবে। আর কোয়ারেন্টিন প্রত্যাহার হলেও জাহাজের নাবিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজটি আগের মতোই চলবে। সেটি প্রত্যাহার করা হয়নি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য নিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর জাহাজ আসে। করোনা সংক্রমন এড়াতে শুধুমাত্র চীনের বন্দর থেকে আসা জাহাজকেই ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন করা হতো। অন্য কোন দেশ থেকে পণ্য নিয়ে আসা জাহাজকে কোয়ারেন্টিন করা হচ্ছিল না। এরফলে চীনের বন্দর থেকে আসা পণ্যবাহি জাহাজ ১১ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছলেও কোয়ারেন্টিন সম্পন্ন করে বন্দর জেটিতে ভিড়ার জন্য তাকে আরও তিনদিন বাড়তি বসে থাকতে হচ্ছে। অথচ অন্যদেশের বন্দর থেকে আসা জাহাজ সরাসরিই জেটিতে ভিড়তে পারছিল। বাড়তি সময় বসে থাকার কারণে চীনা পণ্যের পরিবহন খরচ বেড়ে গিয়েছিল। আদেশ প্রত্যাহার করায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলো বন্দর।
জানতে চাইলে কন্টিনেন্টাল গ্রুপের  ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান ইকবাল চৌধুরী শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘শুধু চীনা জাহাজের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন করার কারণে আমরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছিলাম। বহির্নোঙরে জাহাজ পৌঁছলেও কোয়ারেন্টিন পূর্ণ করতে বাড়তি বসে থাকতে হতো। এতে সময় ও খরচ বাড়তো। দেরিতে হলেও আদেশ প্রত্যাহার করায় আমরা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলাম। এজন্য অধিদপ্তরকে ধন্যবাদ।’
# ১৩ জুলাই ২০২০

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here