বাংলাদেশ-ত্রিপুরা নৌ পথে সরাসরি পণ্য পরিবহন শুরু

দাউদকান্দি-সোনামুড়া নৌপথে নতুন সম্ভাবনা

0
1097

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার সঙ্গে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নৌপথে বাণিজ্য সুবিধা চালু হচ্ছে। কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে গোমতী নদী দিয়ে ত্রিপুরার সোনামুড়া পর্যন্ত এই নতুন নৌপথে পণ্য পরিবহন করা হবে। সেখান থেকে সড়কপথে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় যাবে পণ্যের চালান।এর আগে গত ২৬ জুলাই বাংলাদেশ-ভারত নৌ প্রটোকলের আওতায় কলকাতা সমুদ্রবন্দর থেকে পণ্যবাহি জাহাজ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে নেমে, সেখান থেকে সড়কপথে আখাউডা স্থলবন্দর দিয়ে ত্রিপুরায় গিয়েছিল। এখন চট্টগ্রাম বন্দরে না এসে সরাসরি ছোট জাহাজে পণ্য যাচ্ছে ত্রিপুরায়। ত্রিপুরার মূখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বাংলাদেশ থেকে যাওয়া চালানটি আজ শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহন করবেন।
পরীক্ষামূলক চালানে আজ শনিবার বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সিমেন্ট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার সিমেন্ট ৫০ মেট্রিক টন সিমেন্ট তাদের নিজেদের ‌‌‌এমভি প্রিমিয়ার’ জাহাজে ত্রিপুরায় রপ্তানি করা হচ্ছে। এতদিন কম্পানিটি সড়কপথে ত্রিপুরায় সিমেন্ট রপ্তানি করতো। সরাসরি নৌপথে রপ্তানির সুযোগ তৈরী হওয়ায় সময় ও অর্থ দুটোর সাশ্রয় হবে বলে কম্পানির কর্তারা বলছেন।
প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বলছেন, এর মধ্যদিয়ে নতুন সম্ভাবনা আমরা দেখতে পাচ্ছি। সড়কপথের তুলনায় নৌপথে পণ্য পরিবহন অনেক সাশ্রয়ী হবে। এজন্য এই নৌপথ খনন করে পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখার পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিআইডব্লিউটিএ বলছে, দাউদকান্দি থেকে গোমতী নদী দিয়ে মুরাদনগর, দেবীদ্বার, ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং, কুমিল্লা সদর ও বিবিরবাজার হয়ে সোনামুড়ায় পণ্য নেওয়া হবে। সেখান থেকে সড়কপথে পণ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় যাবে। দাউদকান্দি থেকে সোনামুড়ার দূরত্ব ৯২ কিলোমিটার। এটি কোনো ট্রানজিট বা ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা নয়। এটি মূলত দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পণ্য আমদানি-রপ্তানির রুট হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
জানা গেছে, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ভারতেরও আগ্রহ থাকায় এই নৌপথ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গোমতী নদীর নাব্যতা খুবই কম। তিন থেকে সাড়ে তিন ফুটের বেশি ড্রাফটের নৌযান চলাচলের উপযোগী নয়। এর মানে, বড় পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করা সম্ভব নয়। ফলে একটি নৌযানে খুব বেশি পণ্য আনা–নেওয়া করা যাবে না। এ ছাড়া গোমতী নদীর ওই পথে ২৩টি কম উচ্চতার সেতু আছে। ফলে সেতুর নিচে দিয়ে বড় নৌযান চলাচল করতে পারবে না।
বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা) রফিকুল ইসলাম বলছেন, দাউদকান্দি থেকে ত্রিপুরার সোনামুড়া পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে সিমেন্টের চালান যাবে। যদি ভালো ফল পাওয়া যায়, তাহলে পথটি নিয়মিত ব্যবহার করা হবে। মেঘনা নদীর দাউদকান্দি এলাকার আশপাশে বেশ কিছু সিমেন্ট কারখানা আছে। এই নৌপথ ব্যবহার করে সহজেই ত্রিপুরায় সিমেন্ট রপ্তানি করা যাবে। ত্রিপুরায় এখন নির্মাণসামগ্রীর ব্যাপক চাহিদা আছে।
বর্তমানে ভারতের ত্রিপুরার সঙ্গে সড়কপথেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ও কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিত পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। ত্রিপুরা থেকে যত পণ্য বাংলাদেশে আসে, এর চেয়ে অনেক বেশি পণ্য সেখানে রপ্তানি হয়-এটা আমাদের জন্য অনেক বড় সম্ভাবনার। বিগত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ২ লাখ ৯ হাজার ৯৬২ টন মাছ, খাদ্যপণ্য, পাথর, সিমেন্ট, সার ইত্যাদি রপ্তানি হয়েছে। এর বিপরীতে ত্রিপুরা থেকে ৯৯ টন পণ্য আমদানি হয়েছে। একইভাবে ওই বছর বিবিরবাজার স্থলবন্দর দিয়ে ত্রিপুরায় ১ লাখ ৭০ হাজার ৪৫৮ টন পণ্য রপ্তানির বিপরীতে রাজ্যটি থেকে এসেছে মাত্র ৪৭৯ টন পণ্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here