বাংলাদেশের ৬৮ কন্টেইনার বিকল্প পথে রাশিয়া যাচ্ছে

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

1 February, 2023

Views

বাংলাদেশে আটকে পড়া তৈরী পণ্য এবার বিকল্প পথে রাশিয়া যাচ্ছে। এতদিন চট্টগ্রাম থেকে কলম্বো হয়ে সরাসরি রাশিয়ার বন্দরে পৌঁছলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ান বন্দরে পণ্যবাহি জাহাজ যাচ্ছে না। এই অবস্থায় বাংলাদেশে আটকে পড়া পণ্য বিকল্প পথেই যাওয়া শুরু হয়েছে।

এরই মধ্যে ৬৮ একক কনটেইনারভর্তি গার্মেন্ট পণ্য জাহাজে করে চট্টগ্রাম থেকে কলম্বো বন্দর হয়ে পোল্যান্ডর পথে রয়েছে। সেখান থেকে রাশিয়ায় যাবে সড়কপথে। আরো ১৮ একক কন্টেইনার পণ্য বিকল্পপথে রাশিয়ায় পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই ৮৬ কন্টেইনার পণ্য আটকে ছিল চট্টগ্রামের বেসরকারী কন্টেইনার ডিপো পোর্ট লিংকস লজিস্টিকসে।

পোর্ট লিংক লজিস্টিকস সেন্টার লিমিটেডের অ্যাসোসিয়েটস ডিরেক্টর দৌস মোহাম্মদ বলেন, ‘এসব কন্টেইনার নিয়ে শুধু আমরা নই; পণ্য তৈরীর কম্পানিগুলোও বেশ উদ্বিগ্ন ছিল। শেষপর্যন্ত রপ্তানি পণ্যগুলো বিকল্প পথেই নিজেদের উদ্যোগে রাশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নেয় পণ্যের বিদেশি ক্রেতা।

তিনি বলেন, মার্চের প্রথম সপ্তাহে ৮৬ এককের মধ্যে ৬৮ একক কন্টেইনারভর্তি পণ্য জাহাজে বোঝাই করে চট্টগ্রাম থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর হয়ে পোল্যান্ডের পথে আছে। পোল্যান্ড থেকে সড়কপথে সেগুলো রাশিয়ায় পৌঁছবে। বাকি ১৮ একক কন্টেইনারভর্তি রপ্তানি পণ্যও নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সেগুলো তুরস্কের মারফি বন্দরে নিয়ে সেখান থেকে সড়কপথে রাশিয়ায় নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আমাদের ডিপোতে আটকে থাকা পণ্যের একটি সুরাহা হলো।

উল্লেখ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ায় মোট ১৬৯ একক কনটেইনার রপ্তানি পণ্য কারখানা থেকে তৈরি হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পাশে বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে পৌঁছে। নয়টি কন্টেইনার ডিপোতে এসব পণ্য আটকে আছে। মার্চের প্রথম সপ্তাহে জাহাজে করে রাশিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ায় রাশিয়ামুখী জাহাজগুলো নতুন করে পণ্য বুকিং নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এই অবস্থায় রপ্তানি পণ্যগুলো তৈরির পরও চট্টগ্রাম থেকে জাহাজে তোলা যায়নি। কিছুদিন আটকে থাকার পর এখন বিকল্প পথে সেগুলো পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এখন পর্যন্ত আরো ১০১ কন্টেইনার রপ্তানি পণ্য বিভিন্ন ডিপোতে আটকে আছে। এরমধ্যে কনটেইনার ডিপো এছাক ব্রাদার্সে ৩৫ একক কনটেইনার আটকে আছে; সামিট এলায়েন্স পোর্টে আটকে আছে ৪৬ কন্টেইনার। যেগুলো মার্চের শুরুর দিকেই রাশিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল।
আটকে থাকায় উদ্বিগ্ন এছাক ব্রাদার্সের কর্মকর্তা রুহুল আমিন সিকদার বলেন, আমাদের ডিপোতে আছে মায়ের্কস লাইনের কন্টেইনার। সেগুলো দ্রুত সরিয়ে নেয়ার জন্য আমরা গত রবিবার ইমেইল দিয়েছি। উত্তর পেলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.