বাংলাদেশি সমুদ্রগামি জাহাজ মালিকদের সুখবর

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

8 August, 2022

Views

দেশের সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্পের আয়কে আট বছর করমুক্ত রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজের আয় বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে আনলে ২০৩০ সাল পর্যন্ত করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

কোভিড পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধার শুরু হলে দেশে দেশে পণ্যের চাহিদা বাড়লে জাহাজের সংকট দেখা যায়। জাহাজ ভাড়াও বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে সমুদ্রগামী বাংলাদেশি জাহাজের উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আধুনিক অর্থনীতির সাথে তাল মিলিয়ে পণ্যের পাশাপাশি সেবা রপ্তানিকে প্রাধান্য দিতে হবে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সেবা রপ্তানিকে রপ্তানি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার প্রস্তাব করছি। এ সকল প্রস্তাব গৃহীত হলে সেবা রপ্তানি খাতকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

গত দুই বছর ধরে সারাবিশ্বে মূল্যস্ফীতির চলমান অস্থিরতাকে আরেক ধাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে জাহাজ ভাড়া। এ পরিস্থিতিতে দেশীয় জাহাজ শিল্পে এই ধরনের নীতিগত সহায়তা এই শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপিত মাহবুবুল আলম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে যে কটি দিক আমার কাছে খুবই প্রশংসনীয় এবং ব্যতিক্রমি মনে হয়েছে তাদের মধ্যে এটি অন্যতম। এটা নিঃসন্দেহে সরকারের একটা ভালো উদ্যোগ। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্পের ওপর এটা খু্বই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এতদিন ফ্রেইটচার্জ বাবদ আয় থেকে সরকার ৩ শতাংশের কিছু বেশি কর কেটে নিত। সেটা যদি রহিত করা হয়, তাহলে সেটাও একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে।

নৌ বাণিজ্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় পতাকাবাহি সবচে বেশি সমুদ্রগামি জাহাজ ছিল ২০১২ সালের জুন মাসে; মোট ৬৮টি। জাহাজ ব্যবসায় মন্দার কারণে পরের দুই বছরে দেশিয় জাহাজের সংখ্যা ৪০টিতে নেমে আসে। গত ২০১৯ সালের মধ্যভাগ থেকে জাহাজ সংখ্যা আবার বাড়তে শুরু করে। মে মাস পর্যন্ত জাহাজের সংখ্যা বেড়ে ৫৬টিতে উন্নীত হয়েছে। আবার নিবন্ধনের অপেক্ষায় রয়েছে আটটি জাহাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.