বাংলাদেশি দুই আমদানিকারকদের ১০ কন্টেইনার পণ্য ডুবেছে

0
829

বিশেষ প্রতিনিধি
শ্রীলংকার কলম্বো সমুদ্রবন্দরের কাছে আগুনে পুড়ে ডুবে যাওয়া জাহাজ ‘এক্সপ্রেস পার্ল’ এ ১ হাজার ৪৮৬ একক পণ্যভর্তি কন্টেইনার ছিল। যার বেশিরভাগই পুড়ে ডুবে নষ্ট হয়েছে। এরমধ্যে বাংলাদেশি দুই আমদানিকারকদের ১০ কন্টেইনার পণ্য ছিল; সেগুলোর দাম কয়েক কোটি টাকার মতো। তবে মোট কী পরিমান বাংলাদেশি পণ্য ছিল তা এখনো জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‌’এক্সপ্রেস পার্ল’ নামের জাহাজটি দুবাই থেকে ভারতের গুজরাটের হাজিরা বন্দর হয়ে কলম্বো বন্দরে যাচ্ছিল। কলম্বো ব্ন্দরের অদূরে পৌঁছানোর পর বিস্ফোরণ থেকে আগুন ধরে ২০ মে। ১২ দিন ধরে আগুন জ্বলে শেষপর্যন্ত ডুবে যায় গত ২ জুন।
জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত ওই জাহাজে বাংলাদেশের গাজী অটো টায়ার লি. এবং মেঘনা ইনোভা রাবার লি.- এর আমদানি করা সিনথেটিক রাবারের অন্তত ১০টি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কন্টেইনার ছিল। দুই কোম্পানির কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, আগুনে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার বেশি মূল্যের রাবার পুড়ে গেছে। কোম্পানিগুলো সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন।
তবে জাহাজ কম্পানিটির বাংলাদেশি এজেন্ট সী কন গ্রুপের কর্মকর্তা মাইকেল রুদ্রিগ্রেজ শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, বাংলাদেশি আমদানিকারকদের কী পরিমান পণ্য সেই জাহাজে ছিল আমাদের জানা নেই; কারণ জাহাজটি দুবাই থেকে কলম্বো যাচ্ছিল। কী পরিমান পণ্য আমাদের জাহাজে চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে সেটি জানা যেত কলম্বো বন্দরে পৌঁছার পর। কিন্তু এর আগেই তো জাহাজটি দুর্ঘটনায় পড়লো।
তিনি বলছেন, বাংলাদেশি আমদানিকারক বা কন্টেইনার লাইনগুলো আমাদেরকে এখনো কোন অভিযোগ করেনি। ক্ষতিগ্রস্তরা হয়তো আমাদের কেন্দ্রীয় শিপিং লাইন অফিসের সাথে যোগাযোগ করেছে।
কন্টেইনারবাহী জাহাজটিতে গাজী গ্রুপের প্রতিষ্ঠান গাজী অটো টায়ার্স এর সিনথেটিক রাবার ভর্তি ছয়টি এবং মেঘনা ইনোভা রাবার এর একই পণ্যের চারটি কন্টেইনার দেশে আসছিল।
গাজী গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (একাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স) মো. ফখরুল ইসলাম  জানান, কয়েকদিন আগে ভারতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স থেকে দুই কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ছয়টি কন্টেইনার চট্টগ্রামে আনার জন্য জাহাজীকরণ করা হয়। আমরা প্রথমে জানতেও পারিনি যে, আমাদের আমদানি করা পণ্য পুড়ে গেছে। দুয়েক দিন হচ্ছে বিষয়টি জানতে পেরেছি। রিলায়েন্সও আমাদের পণ্য ওই জাহাজে জাহাজীকরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে।
ফখরুল বলেন, “এখন ক্ষতিপূরণ পেতে আমাদের ওই আমদানি পণ্যের বীমা প্রতিষ্ঠান ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের কাছে দাবির আবেদন করেছি।“

দুর্ঘটনার বিষয়ে মেঘনা ইনোভা রাবার এর পরিচালক (জেনারেশন) মো. লুৎফুল বারি বলেন, “ওই জাহাজে দুই এলসির চার কন্টেইনার সিনথেটিক রাবার ছিল। যার মূল্য দেড় কোটি টাকারও বেশি। পণ্যের বীমা সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “ইতিমধ্যে তাদের কাছে প্রাথমিক দাবির আবেদন জানিয়েছি। তারা এখনো আমাদের কিছুই জানাননি।”
শ্রীলংকার গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দেশটির নৌবাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে জাহাজটিতে থাকা রাসায়নিকের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানানো হয়েছে। জাহাজটিতে রাসায়নিকের পাশাপাশি ট্যাঙ্কে ৩২৫ টন জ্বালানি তেল ছিল। দেশটির পুলিশ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করছে। মঙ্গলবার কলম্বোর একটি আদালত জাহাজটির ক্যাপ্টেন, প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলীকে দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
রয়টার্স লিখেছে, এই বিপুল তেল সমুদ্রের বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করায় কলম্বোর উপকূলের মৎস্যজীবিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here